প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে, জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সুজন কৈরী : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বর্তমান অভিযান চলবে। দুর্নীতি, অনিয়ম, দখলদার টেন্ডারবাজ, সহিংসতা বন্ধসহ দারিদ্র্য দূরীকরণে বর্তমান সরকারের নানাবিধ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। সে লক্ষ্যেই প্রধানমন্ত্রী কাজ করছেন। সকল কিছুর উর্দ্ধে উঠে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কোনো অপরাধীকে ছাড় দেয়া হচ্ছে না। যেখানে অনিয়ম, অসঙ্গতি, যেখানে আইন অমান্য হচ্ছে বা দুর্নীতি হচ্ছে সেখানেই এ অভিযান চলতে থাকবে। টেন্ডারবাজ ও দুর্নীতিবাজসহ মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে সরকার সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে। সব ধর্মের প্রতিনিধিরা নির্বিঘ্নে তাদের ধর্ম পালন করছেন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে কে পাহাড়ি, কে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্ট্রান এসব দেখা হচ্ছে না।

শনিবার ‘বর্তমান সরকারের সুশাসন প্রতিষ্ঠা’ নিয়ে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির আয়োজিত ইউসিবি পাবলিক পার্লামেন্ট শিরোনামে ছায়া সংসদীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আয়োজক সংগঠনের চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। রাজধানীর তেঁজগাও এফডিসিতে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় ঢাকা কলেজকে হারিয়ে বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি বিজয়ী হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবরার হত্যাকাণ্ড একটি অত্যন্ত দু:খজনক ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমরা এ ঘটনায় বিস্মিত হয়েছি, ব্যথিত হয়েছি, দু:খিত হয়েছি। কিভাবে বুয়েটের মতো মেধাবী শিক্ষার্থীরা এ ধরনের হত্যাকাণ্ড ঘটালেন, তা আমাদের আশ্চর্য করেছে। অতি দ্রুতই প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে আবরার হত্যাকাণ্ডের নির্ভুল চার্জশিট দেয়া হবে।’
নিজ মন্ত্রণালয়ের সুশাসন প্রতিষ্ঠা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে পুলিশ, বিজিবি, কোস্টগার্ড, র‌্যাব, আনসারসহ সব প্রতিষ্ঠানকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে।

ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে শুদ্ধি অভিযানের মাধ্যমে জনগনের মধ্যে যে আশা জাগিয়েছেন, তা অব্যাহত রাখতে হবে। আমরা এই শুদ্ধি অভিযানকে স্বাগত জানাই। কিন্তু এই অভিযান কতোদিন চলবে, এর ব্যাপকতা কতোখানি হবে, শুধু কি টেণ্ডারবাজি ও ক্যাসিনোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি এই অভিযান আরো সম্প্রসারিত হয়ে সর্বক্ষেত্রে পরিচালিত হবে, তা নিয়ে জনগণের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া বিরাজ করছে। তবে শুধু ক্যাসিনো সম্রাটদের নয়, ঘুষ, দুর্নীতি, শেয়ারবাজার জালিয়াতি, ব্যাংকের টাকা আত্মসাতকারী, খাল-বিল, নদী-নালা দখলকারীসহ ভূমিদস্যুদের দৃশ্যমান বিচার করতে পারলেই সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা আরো বেড়ে যাবে। দেশের টাকা লুট করে যারা ইউরোপ-আমেরিকায় প্রাসাদ বানিয়েছেন, মালয়েশিয়া ও কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে সেকেন্ড হোম তৈরি করেছেন, দুর্নীতির টাকায় বিদেশে নাগরিকত্ব নিয়েছেন, গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে তাদের তালিকা প্রকাশ করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। দুর্নীতিতে জড়িত সরকারি আমলা, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ীসহ সকল মহাদুর্নীতিবাজদের তালিকা গণমাধ্যমে প্রকাশ করে জনগণের সামনে তাদের মুখোশ উন্মোচন করতে পারলে ভবিষ্যতে হয়তো আর কেউ এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়ার সাহস পাবেন না।‘

তিনি আবরার হত্যা মামলার চার্জশিট অতি দ্রুত দিয়ে অপরাধীদের দৃশ্যমান শাস্তির আহবান জানান।সম্পাদনা: অশোকেশ রায়/সারোয়ার

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত