প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

১০ বছরে ১১ হাজার কোটি টাকা গচ্চা দিয়েছে  রেলওয়ে

ওয়ালি উল্লাহ : লোকসানে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে রেল।  গত ১০ বছরে প্রায় ৫৩ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের পরও রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটি লাভ দূরে থাক, পরিচালন ব্যয়ই তুলতে পারছে না। সমকাল

রেলওয়ের হিসাব শাখার তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ বছরে সংস্থাটির পরিচালন ব্যয় হয়েছে ২০ হাজার ৫১৭ কোটি টাকা। বিপরীতে আয় হয়েছে ৯ হাজার ৫৩৬ কোটি টাকা। ফলে এ সময়ে রেল লোকসান করেছে ১০ হাজার ৯৮১ কোটি টাকা।

শুধু ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এক হাজার ৮১০ কোটি টাকা লোকসান করেছে রেল। তবে সাড়ে তিন মাস আগে অর্থবছর শেষ হলেও, এখনও গত বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব চূড়ান্ত করতে পারেনি রেল। আগামী সপ্তাহে যে হিসাব প্রকাশ করতে যাচ্ছে সংস্থাটি, তার তথ্য অনুযায়ী ২০১৮ অর্থবছরে পরিচালন বাবদ তিন হাজার ১৯৯ কোটি টাকা ব্যয় করেছে রেল। আয় করেছে এক হাজার ৩৮৯ কোটি টাকা।

রেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অবশ্য বলছেন, সব দেশেই রেল লোকসান দিয়ে চলে। বাংলাদেশও ব্যতিক্রম নয়। যাত্রীসেবা প্রধান লক্ষ্য হওয়ায় রেল কখনই লাভের মুখ দেখবে না। তবে এখন যেসব প্রকল্প চলছে, তা বাস্তবায়নের পর লোকসান কমে আসবে।

২০১৭-১৮ অর্থবছরে রেলের পরিচালন ব্যয় ছিলো দুই হাজার ৭১৬ কোটি টাকা। বিপরীতে আয় করে এক হাজার ২৯৮ কোটি টাকা। লোকসান ছিলো এক হাজার ৪১৮ কোটি। এ বছর লোকসান বেড়েছে ৪০০ কোটি টাকা। তবে এই হিসাব নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। রেলের হিসাব শাখা এক হাজার ৩৮৯ কোটি টাকা আয়ের তথ্য দিলেও অপারেশন শাখার দাবি, আয় এক হাজার ৫৯২ কোটি টাকা। অপারেশন শাখার তথ্য সঠিক হলেও লোকসান এক হাজার ৬০০ টাকার বেশি, যা অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি।

বাকি ২০৩ কোটি টাকা কোথায়? তার জবাব পাওয়া যায়নি দুটি শাখা থেকেই।

রেলের মহাপরিচালক শামসুজ্জামান বলেছেন, টাকায় গরমিল হওয়ার সুযোগই নেই। হয়তো এখনও সব আয়ের তথ্য সমন্বয় হয়নি। কিংবা ব্যাংক হিসাবে জমা পড়া টাকা এখনও সমন্বয় হয়নি।

রেল সচিব মোফাজ্জেল হোসেন বলেছেন, এমন কিছু হয়ে থাকলে নিয়মের ব্যত্যয় হয়েছে। বিষয়টি তার জানা নেই। তিনি রেলের হিসাব ও অপারেশন শাখার সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। তবে রেলে হিসাব শাখা বলছে, তাদের তথ্যই ঠিক।

রেলের হিসাব বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, রেলের ব্যাংক হিসাবে এক হাজার ৩৮৯ কোটি টাকা জমা পড়েছে। তারা এটিকেই আয় হিসেবে দেখিয়েছেন। অপারেশন শাখা এক হাজার ৫৯২ কোটি টাকা দেখিয়েছে। তাদের টাকা খরচের এখতিয়ার নেই। ফলে আয় হলে টাকা তাদের কাছেই আছে।

ডব্লিউএস/এসবি

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত