প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভিলেজ পলিটিক্স, শহুরে পলিটিক্স এবং ধর্মীয় অনুশাসন

 

কামরুল হাসান মামুন : গ্রামের মানুষ মোটেই সহজ সরল নয়। জমিজমা নিয়ে তো ঝগড়াবিবাদ আছেই। এমনকি সামান্য কারণে পারিবারিক কলহ বাধতেও বাধে না। এমনকি সামান্য কারণে রক্তারক্তি খুনাখুনিতেও জড়িয়ে পড়ে গ্রামের মানুষজন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নরসিংদীর কিছু কিছু জায়গায় মাইক দিয়ে প্রচার করে মধ্যযুগীয় কায়দায় মারামারি করতে এই কিছুদিন আগেও শুনেছি। সামান্য কারণে ভাই ভাইকে খুন করা, এক ভাইকে জমি লিখে দিয়েছে বলে বাবাকে খুন করা, যৌতুকের জন্য স্বামী-শাশুড়ি মিলে বউকে নির্যাতন ইত্যাদি গ্রামেই বেশি হয়। এরপর হাসপাতালে আসে দলবেঁধে ভর্তি হয়ে মামলা শক্ত করার জন্য। এদের মতো মামলাবাজ নিজ চোখে না দেখলে কেউ বিশ্বাসই করবে না। প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে এহেন কাজ নেই তারা পারে না। যারা বলেন গ্রামের মানুষজন সহজ-সরল তারা আসলে হয় গ্রামে বেড়াতে গিয়ে গ্রামের মানুষ দেখেছে অথবা পিঠা আর মোরগ নিয়ে শহরে বেড়াতে আসা গ্রামের মানুষ দেখে বিভ্রান্ত হয়েছে তারা। এমনি এমনি কি আর বলা হয় ভিলেজ পলিটিকসবা গ্রাম্য রাজনীতি।

তুহিন হত্যা গ্রামের মানুষদের সেই আদিম প্রবৃত্তির কথা মনে করিয়ে দেয়। আসলে গ্রাম-শহর বলে আলাদা কিছু নেই। সব কিছুর মূল শিক্ষা। শহরের মানুষ শিক্ষিত আর মোটা দাগে গ্রামের অধিকাংশ মানুষই অশিক্ষিত। লেখাপড়া দ্বারা সুশিক্ষিত না হলে মানুষ প্রাণীর ইনস্টিংক্ট দিয়ে চলে। এদের প্রাণের প্রতি কোনো মায়া থাকে না। আমি ছোটবেলা দেখেছি গ্রামের মানুষ শেয়াল, কুকুর বিড়ালকে দেখলে কীভাবে দৌড়ানি দেয়। সাপ দেখলে তো কথাই নেই। রীতিমতো উৎসব করে মারে। মানুষ খুব প্রতিশোধপরায়ণ হয়। শিক্ষা আসলে সুশিক্ষা দিয়ে সেটা আমরা দমন করে রাখতে পারি। কিন্তু এটার অভাব হলে দমন করবো কি দিয়ে।

আমাদের শহরের মানুষই খুব সভ্য? মোটেও না। পৃথিবীর অনেক বড় শহরের তুলনায় আমাদের ঢাকা শহরকে গ্রাম বললে একটুও ভুল হবে না। অন্য দেশে সুন্দর শহরের তুলনায় আমরা বেশি ইনস্টিংক্ট দিয়ে চলি। তাই তো রাস্তাঘাটে যত্রতত্র সামান্য কারণে একজন আরেকজনকে মারতে দেখি, বাস, গাড়ি থেকে চিপস খেয়ে খোসা জানালা দিয়ে ফেলতে দেখি। এমন একদিন খুব কমই গেছে যে, আমি রাস্তা দিয়ে এক ঘণ্টা হেঁটে যাওয়ার সময় কোনো কথা কাটাকাটি কিংবা মারামারি দেখিনি। একসময় ছিলো যখন ধর্মের দোজখের ভয় দেখিয়ে দমন করা গেছে। সেটা মনে হয় এ যুগে আর কাজ করে না। মুখে মুখে ঠিকই আছে। যদি কাজ করতো তাহলে এতো অন্যায়, এতো ঘুষ, এতো দুর্নীতি কারা করছে। মাসজিদে নামাজ পড়ার জায়গার তো অভাব নেই। কেউ ধর্ম নিয়ে সামান্য সমালোচনা করলে ঝাঁপিয়ে পড়ার মানুষের অভাব নেই। হারাম-হালাল নিয়ে যতো উচ্চবাচ্য, ঘুষ, দুর্নীতি নিয়ে ততোটাই নীরবতা। অর্থাৎ ধর্মীয় অনুশাসন এখন মানুষকে আর তার বেসিক ইনস্টিংক্টকে দমিয়ে রাখতে সক্ষম নয়। ফেসবুক থেকে

সর্বাধিক পঠিত