প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সাংবাদিকতা করলেই যে সব সাংবাদিক মেরুদণ্ড সম্পন্ন হবেন, তা বলা যায় না

ফরিদ কবির : ১. ‘মেরুদণ্ড’ জিনিসটা সব মানুষের থাকার কথা থাকলেও বেশিরভাগ মানুষ জন্মায় জিনিসটা ছাড়াই। তবে একটা সময়ে সাংবাদিকতা পেশায় সেসব মানুষই আসতেন যাদের মেরুদণ্ড আছে এবং তা যথেষ্টই শক্তপোক্ত। সাধারণ মানুষও তাই সাংবাদিকদের কিছুটা সমীহ করতেন, সমঝে চলতেন। এখন আর সেদিন নেই। সাংবাদিকতা করলেই যে সব সাংবাদিক মেরুদণ্ড সম্পন্ন হবেন সেটা বলা যায় না। বরং উল্টোটাই দেখছি এখন। সাংবাদিকরাও যেহেতু এ সমাজেরই মানুষ ফলে কোনো না কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি তার পক্ষপাত থাকাটাই স্বাভাবিক। আর একজন সাংবাদিকের জন্য এটাই চ্যালেঞ্জের। পক্ষপাতিত্ব তিনি কতোটা করবেন। কোন্ কোন্ ক্ষেত্রে তিনি নিজেকে নিরপেক্ষ অবস্থানে রাখবেন। কীভাবে সেটা রাখবেন। আমাদের দেশে সেই মানদণ্ড টাই নষ্ট করে ফেলা হয়েছে। এখন দলনিরপেক্ষ সাংবাদিক বা বুদ্ধিজীবী আপনি তেমন দেখতেই পাবেন না।

তারা প্রায় সবাই স্পষ্টই দু’ভাগে বিভক্ত। হয় আওয়ামীপন্থী। না হয় বিএনপিপন্থী। তারা নিজেদের দলের মন্দটুকু এবং অন্য দলের ভালোটুকু কখনোই দেখতে পান না। সাধারণ মানুষের জন্য কোনো ‘পন্থী’ হওয়া বেঠিক নয়। কিন্তু সাংবাদিক বা বুদ্ধিজীবী হলে তাকে দলকানা বা দলদাস হলে চলে না। আমাদের দেশের সাংবাদিকরা কতোটা দলকানা, কতোটা চাটুকার, সেটা বোঝা যায় যখন প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং কোনো সাংবাদিক সম্মেলন ডাকেন। প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য তখন সেখানে তেলের প্লাবন ছোটে।

এমন নয় যে প্রধানমন্ত্রীর কোনো প্রশংসা করা যাবে না। কিন্তু তার প্রশংসার মধ্য দিয়েও সরকারের অনেক কর্মকাণ্ড নিয়ে, এমনকি সরকারপ্রধান হিসেবে তার অনেক সিদ্ধান্ত নিয়ে বহু প্রশ্ন করার সুযোগ থাকে। কিন্তু সেসব প্রশ্ন সবসময় অনালোচিতই থাকে। আমাদের সিনিয়র সাংবাদিকরা বরং বিগলিতভাবে প্রধানমন্ত্রীকে নোবেল হাসিল করার জন্য লবিংয়ের পরামর্শ দেন। কেউবা লেখক হওয়ার পরামর্শ দেন। জুনিয়র সাংবাদিকরাই বরং এসব ক্ষেত্রে বেশি সাহসী, তাদের কাউকে কাউকে অনেক সময় তীর্যক প্রশ্ন করতে দেখা যায়। কিছু সিনিয়র সাংবাদিককে এমন অনুষ্ঠানে নিয়মিতই দেখতে পাই, তারা শুধু সেখানে নিজের মুখ দেখাতেই যান। তারা কোনো প্রশ্ন করেন না। সম্ভবত তাদের কোনো প্রশ্নই নেই। ২. মেরুদণ্ড আছে, বাংলাদেশে এমন সাংবাদিকের সংখ্যা হাতে গোনা। তাদের মধ্যে একজন নিঃসন্দেহে নুরুল কবীর দি নিউ এইজ-এর সম্পাদক। আমাদের প্রজন্মের মেধাবী ও সাহসী সাংবাদিকদের একজন তিনি। শুনলাম, সরকারি নির্দেশে তার ফেসবুক একাউন্ট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এ ধরনের কাজ খুবই নিন্দনীয়। আশা করি, শিগগিরই তার একাউন্ট ফিরিয়ে দেয়া হবে। ফেসবুক থেকে

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত