প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের সূত্র অনেক গভীর, সীমান্তে একজন সৈনিকের দুর্ভাগ্যজনক মৃত্যু সেখানে একটা আঁচড় মাত্র, যা রাত পোহালেই মুছে যাবে

রুহুল আমিন : প্রাকৃতিক কারণেই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক একটি নির্ভরশীলতা দ্বারা যুক্ত। আগে মনে করা হতো বাংলাদেশ ভারতের উপর নির্ভরশীল কিন্ত এখন সবাই জানে ভারত ও বাংলাদেশ উভয়েই পরস্পরের ক্ষতি ও উপকার দুটোই করতে পারে। উভয় দেশের মধ্যে যদি ভালো সম্পর্ক থাকে তবে উভয়েরই কিছুনা কিছু লাভ হয়। খারাপ সম্পর্ক থাকলে উভয়েরই লোকশান। এই নিয়ে ভারতের লোকদের কাছে শুনি ভারত বাংলাদেশকে সব দিয়ে দিচ্ছে আর বাংলাদেশে আসলে শুনি ভারত বাংলাদেশ থেকে সব নিয়ে নিচ্ছে। এই বিতর্কের মীমাংসা কঠিন। কেউ বলে বাংলাদেশ ভারতের সীমান্তে সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দেয়া বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু কেউ বলে না যে এক দেশে অন্যদেশের সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দেয়াটা আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ এবং এই নিয়ে যুদ্ধও হতে পারে। ভারত এই বিষয় গুলোতে তাদের নিরাপত্তা শক্তি বাড়িয়েছে কিন্ত বাংলাদেশ অবৈধ কর্মকা- করলেও ভারত আমাদের চেয়ে বড় শক্তি থাকা সত্ত্বেও আক্রমণ করেনি। এটি ভারতের দূরদর্শী কূটনৈতিক প্রজ্ঞার প্রমাণ।

অন্যদিকে ভারতের লোকেরা বলে শেখ হাসিনা গঙ্গার পানি নিয়ে গেছে, ভাবখানা এমন যেমন গঙ্গার পানি ভারতের একার! আবার তিস্তার পানি নিয়ে অনড় অবস্থা থাকা সত্ত্বেও শেখ হাসিনা সম্পর্কটিকে গতিশীল রাখতে চেষ্টা করছেন। এর মধ্যেই শেখ হাসিনা যে সীমান্ত চুক্তি করেন তার ফলাফল চূড়ান্তভাবেই বাংলাদেশের অনুকূলে। প্রায় ২৪ হাজার হেক্টর জমির মধ্যে ১৭ হাজার হেক্টরই পায় বাংলাদেশ, আবার অতিরিক্ত পায় আঙ্গুরপোতা-দহগ্রাম। অনেক অমীমাংসিত বিষয় শেখ হাসিনা-মোদী-মনমোহন আমালে মীমাংসা হয়েছে। যাতে বাংলাদেশ অধিকতর সুবিধা পেয়েছে। অন্যদিকে হাসিনাই ভারতকে ট্রানজিট দেয়ার সাহস দেখিয়ে ভারতীয়দের মধ্যে অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করেছে। এখন ত্রিপুরার লোকেরা বিশ্বাস করে বাংলাদেশই তাদের সত্যিকারের বন্ধু। শেখ হাসিনার নীতি ভারতের ভেতরে শেখ হাসিনাকে আকাশচুম্বী জনপ্রিয় করেছে। এখন ইচ্ছে করলেই ভারতের কোনো সরকার শেখ হাসিনার বিরোধিতা করতে পারবে না। এরই মধ্যে রাজশাহী সীমান্তের গোলাগুলি নিয়ে অতি উৎসাহী পোস্ট দেখে মনে হলো যুদ্ধ চলছে। যারা কূটনীতি বুঝেন তারা জানেন সীমান্তে গোলাগুলি যুদ্ধ নয়। তবে একজন বিএসএফ সদস্য মারা গেছেন, বিষয়টা খুবই খারাপ ঘটনা । তবে উভয় দেশ মনে করেছে, এটা আকস্মিক দুর্ঘটনা।

ভারত-বাংলাদেশ পৃথিবীতে সবচেয়ে গতিশীল সীমান্ত সম্পর্কের দেশ। পৃথিবীতে কোনো দেশের সীমান্তে এতোকিছু ঘটে না। রান্না ঘরের পিয়াজ থেকে কোরবানির গরু ও টাটা গাড়ি বলে দেয় বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের সূত্রটা অনেক গভীর। সীমান্তে একজন সৈনিকের দুর্ভাগ্যজনক নিহত হওয়াটা সেখানে একটা আচড় মাত্র যা রাতপোহালেই মুছে যাবে। উভয় পারে যারা এই নিয়ে উত্তেজিত তারা কলকাতার বাংলাদেশ ভারত ফুটবল খেলাটা আবার দেখেন। উত্তেজনা প্রশমিত হবে। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত