প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রমাণের আগে ‘একজন বাবাকে সন্তানের খুনি’ হিসেবে প্রচারের যৌক্তিকতা কী

 

সওগাত আলী সাগর : সুনামগঞ্জের শিশু তুহিন হত্যার খবরগুলোর দিকে কোনোভাবেই চোখ দিতে পারিনি। পুলিশের বরাতে এই শিশুর হত্যাকারী হিসেবে তার জন্মদাতা পিতার নামটি এতোদিনে গেঁথে গেছে। অধিকাংশ মানুষই সম্ভবত পুলিশের বক্তব্যকেই বিশ্বাস করে ‘পিতার’ অবস্থানটাকে প্রশ্নবৃদ্ধ হিসেবে মেনে নিয়েছেন। যেহেতু এই খুনের সাথে কোনো রাজনীতির সম্পর্ক নেই, কোনো দলীয় ব্যাপার নেই- কাজেই এ নিয়ে কারো মনেও কোনো প্রশ্ন নেই। পুলিশ তথা প্রশাসনও খুশি- ঘটনা জানার মুহুর্তেই পুলিশ অপরাধীদের চিহ্নিত করে ফেলেছে এবং গ্রেফতার করে ফেলেছে। এমন একটি নৃশংস হত্রাকা- পুলিশকে যে ‘চাপের’ মধ্যে ফেলে- এখন সেটি আর নেই। পুলিশ কিভাবে নিশ্চিত হলো- বাবাই ছেলেটিকে খুন করেছে- তার কোনো বিবরণ মিডিয়ায় পাওয়া যায়নি। কোনো কোনো পত্রিকা তো ‘এলাকাবাসীর ধারণা’ ‘অনেকেই ভাবছেন’ বলে বাবাকে খুনি বানিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে এবং এখনো করছে। ‘এলাকাবাসী মনে করেন’- দিয়ে কাউকে খুনি বলা যায় কিনা- এই বিবেচনাবোধ নিশ্চয়ই সাংবাদিকদের আছে। পত্রিকার খবর থেকে যতেটুকু জানা যায়, ঘটনা জানার পরপরই পুলিশ প্রথম প্রতিক্রিয়ায় বলেছে ‘হত্যাকা-ের সাথে পরিবারের সদস্যরা জড়িত থাকতে পারে’।

পরদিনই সম্ভবত পুলিশ ‘বাবা-চাচা মিলে কীভাবে খুন করেছে’- সেই বিবরণ মিডিয়ায় প্রচার করেছে। একটি শিশু সন্তানের খুনি হিসেবে বাবাকে দাঁড় করানোর ক্ষেত্রে পুলিশ আরো একটু ধীরে যেতে পারতো। উন্নত বিশ্বেও অপরাধের সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে ‘পিতা সন্তানের সম্পর্কের স্পর্শকাতরাতা, সমাজে তার প্রভাব’- এগুলো বিবেচনায় রাখা হয়। তুহিন হত্যার ঘটনায় তার বাবা-চাচাদের গ্রেফতার দেখানো হয়েছে, রিমান্ড চলছে- পুলিশ এখনো নিশ্চিত প্রমাণ হাতে পায়নি ( প্রমাণ পেলে তো রিমান্ড এর প্রয়োজন হতো না) তার আগেই ‘একজন বাবাকে সন্তানরে খুনি’ হিসেবে প্রচার দিয়ে দেয়াটা জরুরি ছিলো কিনা- সেটা নিয়ে আলোচনার দরকার আছে। এই ঘটনায় সন্দেহভাজন বাবা-চাচারা যেহেতু রাজনৈতিক ব্যক্তি নন, প্রভাবশালী কেউ নয়- এতোটা তাড়াহুড়া করে মিডিয়া ট্রায়ালে তাদের ফেলে না দিলেও তদন্তের কোনো ক্ষতিবৃদ্ধি হতো না বলেই আমার ধারণা। বরগুনায় মিন্নির ঘটনা আমরা জানি। স্বামী হত্যায় মিন্নির সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে বরগুনা পুলিশ এতোদিন যা বলেছে- তার অনেক কিছুই যে সত্য নয়- এখন তার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। সুনামগঞ্জের তুহিন হত্যার ঘটনাকে আমরা একইভাবে দেখতে চাই না। কিন্তু নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হওয়ার আগেই, পুলিশের ধারণার ভিত্তিতে এ ধরনের তথ্য প্রচার করার যুক্তি নিয়ে আলোচনা হওয়াটা দোষের কিছু বলে মনে করি না। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত