প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দলের মধ্যে কতো নেতা, কিন্তু আজ খালেদা জিয়া জেলে, বললেন গয়েশ্বর

খালিদ আহমেদ : শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা আকরাম খাঁ হলে বিএনপির প্রয়াত ভাইস চেয়ারম্যান আফসার আহমদ সিদ্দিকীর ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আফসার আহমদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা।

গয়েশ্বর চন্দ্র বলেন, আমাদের কিন্তু দীর্ঘদিন জেলে থাকতে হয়নি। এ কারণেই আজ আমাদের চিন্তা করতে হবে খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে। আফসার আহমেদ যেমন একজন আদর্শের মানুষ ছিলেন এ ক্ষেত্রে তার আদর্শ অনুসরণ করা যায়।

গয়েশ্বর বলেন, ‘খালেদা জিয়া জেলে থাকায় আমাদের উৎসাহ-উদ্দীপনা ভোঁতা হয়ে গেছে। সেখানে চেতনার বিস্ফোরণ ঘটে না কেন? তার মানে আমরা এবং আমাদের চেতনার মধ্যে তফাৎ আছে। অথবা আমাদের প্রতিশ্রুতির অভাব রয়েছে। প্রতিশ্রুতি যদি শক্ত অবস্থানে আসে তবে প্রতিশ্রুতি থেকে সাহসের সঞ্চার হয়। লক্ষ্য অর্জনের জন্য যখন প্রতিশ্রুতি নিয়ে এগোব তখন কোনো বাধাই আটকাতে পারবে না’।

বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, যারা স্বার্থবিরোধী চুক্তি করছে কেন করছে? কারণ একটাই- জনসমর্থনহীন অবস্থায় ক্ষমতায় যেতে লুটপাট করে নিয়ে নিজেদের বড় করার অপচেষ্টা। আজ স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব হুমকির সম্মুখীন। অর্থনীতিতে দেউলিয়াত্ব শেষ প্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছ। রাজনীতি বলতে কিছু নেই। আছে শুধু সক্রিয়ভাবে দুর্নীতি।

তিনি বলেন, রাজনীতি যদি অনুপস্থিত থাকে, গণতন্ত্র যদি অনুপস্থিত থাকে সেখানে দুর্নীতি, অপশাসনের প্রসার ঘটবে। বর্তমানে আমরা যখন কিশোর ও যুবকদের রাজনীতিতে অভিষেক করি তাদের কাছে আদর্শের চাইতে পদপদবিটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ করে দেখা হয়। পদ পাওয়া আর রাজনীতিবিদ হওয়া এক কথা নয়। ইতিহাসে অনেক বড় বড় রাজনীতিবিদ আছেন যারা বড় বড় কোনো পদের অধিকারী ছিলেন না।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, রাজনীতিবিদ বানায় জনগণ, জনগণ যাকে রাজনীতিবিদ বানায় সে-ই রাজনীতিবিদ হয়। তারপর আছে কি নাই এটা মুখ্য বিষয় না। আমি মনে করি এই শব্দটার (রাজনীতি) যদি আমরা উপলব্ধি করতে পারি তবে আমাদের মধ্যে রাজনৈতিক আদর্শ স্থাপিত হবে। আমরা দেশ ও জনগণের স্বার্থে কাজ করতে সমর্থ হব।

তিনি বলেন, ‘পদের জন্য চেয়ার দখল করা যাবে, কিন্তু জনগণের মন দখল করা খুব কঠিন। ভোগবাদী সমাজব্যবস্থায় ক্ষুধার জ্বালা মেটাতে গিয়ে মানবিক মূল্যবোধ ভূলুণ্ঠিত। এখন সারা বিশ্ব ও বাংলাদেশের মধ্যে যে প্রতিযোগিতা চলছে সেটা হচ্ছে, কে কত টাকা করে দিতে পারো। আমার ভাই না খেয়ে মারা যাচ্ছে যাক, কিন্তু আমার এখন টাকা দরকার। প্রতিটি মানুষ নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত। আর এ রকম পরিস্থিতি যখন সৃষ্টি হয় তখন জাতি তার শক্ত অবস্থানে দাঁড়াতে পারে না। জাতীয় ঐক্য ছাড়া কোনো দেশের পক্ষেই রাজনৈতিক-সামাজিক-অর্থনৈতিক শক্ত অবস্থানে যাওয়া সম্ভব নয়’।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি প্রয়াত নেতার স্ত্রী জাহানারা সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে সভায় অন্যানের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ ইসলাম অমিত, আফসার আহমেদের ছেলে জামিল আহমেদ সিদ্দিকী প্রমুখ।

সর্বাধিক পঠিত