প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

১৩ গডফাদার খেলছে পেঁয়াজ নিয়ে, তালিকা করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন

ওয়ালি উল্লাহ : পেঁয়াজের দাম নিয়ে যখন ক্রেতাদের ঘুম হারাম, ঠিক তখনই পেঁয়াজ নিয়ে খেলায় মেতে উঠেছেন চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের ১৩ ব্যবসায়ী ও আমদানিকারক। এর মধ্যে চট্টগ্রামের আটজন ও কক্সবাজারের পাঁচজন। নিয়মের তোয়াক্কা না করেই বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ইচ্ছামতো দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন তারা। কারসাজির মাধ্যমে পেঁয়াজের বাজার অস্থির করার নেপথ্যে থাকা এসব ব্যবসায়ী, আমদানিকারক ও কমিশন এজেন্টের বিরুদ্ধে অহরহ প্রমাণও মিলেছে। যে কারণে তাদের সবার নাম উল্লেখ করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। সমকাল

সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে দাম বাড়ানোর সঙ্গে জড়িত এসব অসাধু কারবারির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মাঠে নেমেছে প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থা। এদিকে, পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা নিয়ে জেলা প্রশাসকের ডাকা জরুরি সভায় যাননি চট্টগ্রামের পেঁয়াজ আমদানিকারকরা। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্নিষ্টরা।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন বলেন, পেঁয়াজের বাজার অস্থির করে তোলার পেছনে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের ১৩ জনের সম্পৃক্ততা মিলেছে। তাদের বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মাঠে নেমেছে জেলা প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থা।

তিনি আরও বলেন, ভারতসহ কয়েকটি দেশ থেকে কয়েকদিন পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ থাকায় দাম হঠাৎ বেড়ে যায়। আর এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে .ফেলতে অসাধু ব্যবসায়ী, আড়তদার, আমদানিকারক ও কমিশন এজেন্টরা পেঁয়াজ মজুদ রেখে অস্বাভাবিক হারে দাম বাড়িয়ে দেন। সরেজমিন অভিযান চালিয়ে এর বেশকিছু প্রমাণও মিলেছে। দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে নগর ও উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান শুরু হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে নগরে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা এবং উপজেলায় ইউএনও ও সহকারী কমিশনাররা (ভূমি) পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে দায়িত্ব পালন করছেন। দেশের সবচেয়ে বৃহৎ ভোগ্যপণ্যের পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জসহ চট্টগ্রামের বেশ কয়েকটি স্থানে পেঁয়াজের কারসাজির অহরহ প্রমাণ পাওয়ার কথা সমকালের কাছে স্বীকার করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলাম। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘পেঁয়াজের দাম নিয়ে কারসাজিকারকদের চিহ্নিত করা হয়েছে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে ক্রয়মূল্যের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি দামে পেঁয়াজ বিক্রি করার প্রমাণও মিলেছে। কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের কয়েকজনকে জরিমানার পাশাপাশি সতর্ক করা হয়েছে। এর পরেও যদি তারা নিজেদের না শোধরান তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি আরও জানান, কারসাজির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়ায় বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম নগরের হালিশহর, আগ্রাবাদসহ কয়েকটি এলাকার পেঁয়াজ আমদানিকারদের প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়েছে। এ সময় প্রতিষ্ঠানের সংশ্নিষ্টদের কাছ থেকে পণ্যের ক্রয়মূল্যের রসিদসহ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে তারা পেঁয়াজ নিয়ে কোনো ধরনের কারসাজি করবেন না বলে আমাদের অঙ্গীকারনামা দিয়েছেন। এর পরেও যদি তারা সঠিক পথে না আসেন তবে বড় অঙ্কের জরিমানা করা ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় থাকবে না।

পেঁয়াজ নিয়ে খেলছেন ১৩ জন :পেঁয়াজের কারসাজিতে জড়িত চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের ১৩ জনের সম্পৃক্ততা থাকার প্রমাণ পেয়েছে জেলা প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থা। এই দুই সংস্থার তদন্তে আসা ১৩ জনের মধ্যে আছেন- চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের হাশেম ট্রেডার্স, এমএইচ ট্রেডিং কোম্পানি, সৌমিক ট্রেডার্স, এশিয়ান এন্টারপ্রাইজ, এআর ইন্টারন্যাশনাল, কাওসার ট্রেডার্স, রফিক সওদাগর এবং এসআর ইন্টারন্যাশনাল। কক্সবাজারের মাদ্রাসা রোডের এআর এন্টারপ্রাইজ, টেকনাফের ছোটহাজি মার্কেটের এসএস ট্রেডিং, কুলালপাড়ার মেসার্স জাবেদ এন্টারপ্রাইজ, কলেজপাড়া এলাকার মেসার্স কবির অ্যান্ড সন্স এবং চৌধুরী এন্টারপ্রাইজ। এসব আমদানিকারকের যোগসাজশে পেঁয়াজের বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা।

ডিসির জরুরি সভায় যাননি আমদানিকারকরা পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতার ফলে জরুরি ভিত্তিতে গতকাল বৃহস্পতিবার জরুরি সভার ডাক দেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. ইলিয়াস হোসেন। তবে ওই সভায় উপস্থিত হননি চট্টগ্রামের আমদানিকারকরা। সভায় কেন তারা আসেননি ও তারা ভিন্ন ঠিকানা ব্যবহার করে পেঁয়াজ আমদানি করছেন কি-না সেটি খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন। তিনি বলেন, ‘বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, আমরা চট্টগ্রামের আটজন পেঁয়াজ আমদানিকারকের নাম পেয়েছি। কারও সংশ্নিষ্টতা পাওয়া গেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি জানান, ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নগর, জেলা ও মহাসড়কে পেঁয়াজের গাড়ি রাত-দিন যাতে চলতে পারে, সে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে পেঁয়াজ খালাসের জন্য চট্টগ্রাম বন্দর ও টেকনাফ স্থলবন্দরকে অনুরোধ করা হয়েছে। অতি মুনাফার জন্য কেউ চট্টগ্রামমুখী পেঁয়াজের ট্রাক ফিরিয়ে দেয়ার প্রমাণ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ডব্লিউএস/এসবি

সর্বাধিক পঠিত