প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

যুবলীগকে শুদ্ধপথে আনার প্রক্রিয়া শুরু, চেয়ারম্যান হচ্ছেন কে?

দীপক চৌধুরী : আওয়ামী যুবলীগের সপ্তম জাতীয় কংগ্রেস আগামী ২৩ নভেম্বর। এই সম্মেলনকে সামনে রেখে সংগঠনটির নেতাদের সঙ্গে বসছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২৩ অক্টোবর বিকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন যুবলীগের শীর্ষ নেতারা। এই বৈঠকেই সংগঠনের বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেবেন শেখ হাসিনা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ হিসাবে পরিচিত একজন নেতা জানিয়েছেন, যুবলীগকে শুদ্ধপথে আনতে কঠিন কিছু পদক্ষেপ নেয়া হবে। সংগঠনটির নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্ন ইমেজকে প্রাধান্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। যুবলীগের প্রাক্তন একাধিক চেয়ারম্যান জানান, এই সংগঠনের বর্তমান ভাবমূর্তি এতোটাই নষ্ট হয়েছে যে, সংগঠনের দায়িত্ব পাওয়া কিছু নেতার বিষয়ে শেখ হাসিনা কঠোর পদক্ষেপ নেবেন। এখন ক্লীন ইমেজের এমন নেতা প্রয়োজন, যারা ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করতে পারবেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সংগঠনটির চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদসহ সংগঠনের প্রায় অর্ধশতাধিক নেতাকে নিস্ক্রিয় করা হবে।

তবে অপর একটি সূত্রমতে, যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদকে মূল দলে নেওয়া হতে পারে। সাংগঠনিক সূত্রে জানা গেছে, এবারের সম্মেলনে চেয়ারম্যান পদে দেখা যেতে পারে যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মণির এক ছেলেকে। বঙ্গবন্ধু পরিবারের একাধিক সদস্যের কথা বিবেচনায় থাকলেও সাংগঠনিক দক্ষতাকে গুরুত্ব দেয়া হবে। ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বর্তমান সংসদ সদস্য। অত্যন্ত দক্ষ ও স্পষ্টবাদী নেতা হিসেবে ইতিমধ্যেই নিজের যোগ্যতা অর্জন করেছেন। তবে তিনি যুবলীগের রাজনীতিতে আগ্রহী কিনা তা জানতে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া যুবলীগের বর্তমান কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ বেলাল হোসেনকে চেয়ারম্যান করা হতে পারে বলে গুরুত্বপূর্ণ সূত্রটি জানায়। তিনি একসময় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন।

ছিলেন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এমনকি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন ২০১৬ সালে। সূত্রমতে, সুসংগঠক হিসাবে সুপরিচিত এই নেতা সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে নিজের অবস্থা জানিয়েছেন। যুবলীগ সম্পর্কে তার বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে মোহাম্মদ বেলাল হোসেন বলেন,‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। আমাকে যেকোনো গুরু দায়িত্ব দেওয়া হলে তা পালন করতে পারবো।’ রাজনৈতিক উচ্চপর্যায়ের সূত্রমতে, এমনও হতে পারে ব্যারিস্টার তাপস সংগঠনের চেয়ারম্যান আর বেলাল হোসেন সাধারণ সম্পাদক হবেন। অন্যদিকে ব্যারিস্টার তাপস সংগঠনের চেয়ারম্যান পদে অনাগ্রহ প্রকাশ করলে মোহাম্মদ বেলাল হোসনকেই চেয়ারম্যান করা হতে পারে। এই সংগঠনের চেয়ারম্যান পদটিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে যুবলীগ সাজানো হবে। আরো জানা গেছে, রাজনৈতিক দৃশ্যপটের আড়ালে থাকা কয়েকজন নেতাকে প্রেসিডিয়াম সদস্য করা হবে। অবশ্য প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছাই শেষ ইচ্ছা বলে মত রয়েছে সংগঠনের কয়েকজন নেতার। সূত্রমতে, এই সংগঠনের এক ডজন গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে দলে নিস্ক্রিয় রাখা হবে। কারণ, তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান চলছে। যদিও তারা এক সময় ছাত্রলীগেও ভাল অবস্থানে ছিলেন। বর্তমানে যুবলীগের কোনো দায়িত্বে নেই এমন ১০জন সাবেক ছাত্রনেতাকে নিয়েও চিন্তা-ভাবনা চলছে যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও যুগ্মসাধারণ সম্পাদক পদে নেওয়ার জন্য। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এ কে এম মমিনুল হক সাঈদসহ ১২ জন কাউন্সিলরের বিষয়ে গোয়েন্দা তদন্ত চলছে। দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি ও ঠিকাদারী কাজে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। কাউন্সিলর সাঈদকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

অনিয়ম-দুর্নীতিবিরোধী চলমান শুদ্ধি অভিযানে আওয়ামী লীগের এই সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে ক্যাসিনো বাণিজ্য, চাঁদাবাজি, টেন্ডারাজিসহ বহু অভিযোগ রয়েছে। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে জেলা-উপজেলা এমনকি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের একশ্রেণির নেতাকর্মীর নামে জঘন্য অভিযোগ। এদের কারণে, সংগঠনই নষ্ট হয়ে গেছে বলে মনে মূল দলের কেউ কেউ। সংগঠনের একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য জানালেন, জামায়াত-শিবির, বিএনপি, ফ্রিডম পার্টির লোকদের অর্থের বিনিময়ে পদ দেওয়া হয়েছে বলে দলেই জোর আলোচনা।
সংগঠনটির একাধিক নেতা জানান, ক্যাসিনোকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠায় যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, প্রেসিডিয়াম মেম্বর নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনসহ কয়েকজন নেতা গণভবনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। যুবলীগের বিতর্কিতরা যেন গণভবনের অনুষ্ঠেয় ওই বৈঠকে না থাকেন তাও পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। যুবলীগকে শুদ্ধ পথে আনার প্রক্রিয়া মূলত রোববার থেকেই শুরু হতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।
সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ অভিযানে গ্রেফতার করা হয় যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ ভূঁইয়া, যুবলীগ নেতা জি কে শামীম, সেলিম প্রধানসহ অনেকেই। বর্তমান পরিস্থিতিতে যুবলীগকে ঢেলে সাজাতে কঠিন কিছু পদক্ষেপ নিতে চান শেখ হাসিনা। চলমান প্রেক্ষাপটে যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীসহ বেশকিছু যুবলীগ নেতাকে ছাড়াই সম্মেলনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করার প্রস্তাব এসেছে ওপর থেকে, একথা জানিয়ে সংগঠনের একজন মধ্যমসারির নেতা জানান, গত শুক্রবার তাকে ছাড়াই যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। যুবলীগের সম্মেলন সামনে রেখে এ সংক্রান্ত আদেশ-নির্দেশ, সংগঠন নিয়ে দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকেই নেয়া হবে।
চলমান অভিযানকে ‘শুদ্ধি অভিযান’ নাম দিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, চাঁদবাজি, সন্ত্রাস, টেন্ডারবাজিসহ বিভিন্ন অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ক্যাসিনো ব্যবসায়ীদের ভাসানচরে পাঠানো হবে।
উল্লেখ্য, ১৪ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির এক সভায় যুবলীগ নেতাদের বিষয়েও চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, যুবলীগের এক নেতা অস্ত্র উঁচিয়ে চলে। আরেকজন প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি করে বেড়ায়। চাঁদা দাবির অভিযোগে ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও গোলাম রাব্বানীকে অপসারণের নির্দেশ দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।#

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত