প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আবার কি আমরা মানুষ হবো?

 

পীর হাবিবুর রহমান : পিতার হাতে শিশুকন্যা ধর্ষিতা হয়, চাচার হাতে ভাতিজি, মামার কাছে ভাগ্নি, ভগ্নিপতির হাতে শ্যালিকা। আল্লাহর ঘর পবিত্র মসজিদে ইমামের হাতে শিশুকন্যা ধর্ষিত হয়, ধর্মের শিক্ষালয় মাদ্রাসায় বলাৎকার হয় ছাত্রছাত্রী, নির্মম শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়। বিজ্ঞানমনস্ক আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ব্লাক মেইলিংয়ের ভয় দেখিয়ে সিরিজ ছাত্রী ধর্ষণ করে শিক্ষক। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিকিৎসকের চেম্বারে রোগী কেউ নিরাপদ নয়। গুরুদেবের আশ্রমে চলে অবাধ যৌনাচার নয় ধর্ষণ। এমন কোনো জায়গা নেই, ছাত্রী ও নারী যৌন নিপীড়কের হাতে বেইজ্জত হয় না। অপমান কেউ কেউ গায়ে মাখে না, লাভ-লোভের হিসেব করে পুরুষতন্ত্রের যৌন লালসায় ধরাও দেয়। কেউ কেউ নির্লজ্জের মতো সয়ে যায়, যেন কিছু হয়নি। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্ষিতা, নিপীড়িত শিশু নারীর জীবন অভিশপ্ত হয়ে যায়। এই যৌনবিকৃত পুরুষদের কেউ সমর্থন উৎসাহ দেয় না। এটা সরকার প্রশাসন সামাল ও দিতে পারবে না। সমাজে চরম মূল্যবোধের অবক্ষয় হয়েছে।

ধর্ম ও সমাজের লজ্জার পর্দা সরে গেছে। কেবল ধর্ষণ বা যৌন নিপীড়নই নয়, পুরুষতান্ত্রিক সমাজে কর্মক্ষেত্রে নারী সহকর্মীদের সামনে আধুনিকতার নামে শিল্প, সাহিত্য, অর্থনীতি, রাজনীতির বাইরে একদল বিকৃত পুরুষ রগরগে যৌন সুড়সুড়ির আলোচনা তুলে, স্মার্টনেসের নামে খবিশদের আলোচনায় সাড়া দিয়ে একদল রমণী তাদের অবচেতন মনে মনোরঞ্জন দেয়। পুরুষতান্ত্রিক সমাজের যৌন লালসা বিকৃতি ও তার নানা কৌশলী বিকৃত রূপ ও তৎপরতার বিরুদ্ধে নারীকেই প্রতিবাদী হতে হবে। পুরুষ যদি সৎ আদর্শিক দাবি করে তবে এ বর্বরতা নোংরামির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। মানুষই মানবিক সুন্দর সমাজ গড়তে পারে। আর সব পাপাচার থেকে দেশ ও সমাজকে বের করতে হলে রাজনীতিকে আদর্শিক সমাজ গঠনের গণজাগরণ ঘটাতে হবে, আদর্শের নবজাগরণেই লোভী ধর্ষক কুৎসিত মুখ ভেসে যাবে। ভেসে যাবে নষ্টরা।

কেবল ধর্ষণ? কি নির্মম নৃশংস হত্যাকা- দেখেছে দেশ বুয়েটে। কি ভয়ংকর শিশু হত্যাকা- ঘটেছে দিরাইয়ে। আমরা কি আর মানুষ আছি? আমাদের সন্তানদের মেধাবী, ক্ষমতাবান, অর্থবান বানাতে চাইছি, মানুষ তো বানাতে চাইছি না? প্রাসাদ, দামি আসবাব মার্বেলের ঝকমকে মেঝে, দামি গাড়ি, কিন্তু গভীর মায়মমতার বন্ধন কোথায় কেউ ভাবি না। আদর্শ নেই, আদর্শলিপি নেই মায়ামমতা কোমল হৃদয় ও বিবেক নেই, এক কথায় আমরা মানুষ নেই। আবার আমরা কি মানুষ হবো? একই সঙ্গে নির্লোভ আদর্শিক রাজনীতি, মূল্যবোধের সমাজ, জবাবদিহিমূলক শাসন, সংবিধান ও আইনের নির্মোহ কার্যকারিতা আর সব ক্ষমতার অপব্যবহারকারী, দুর্নীতিবাজ, অপরাধীদের দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালের বিচার করে সর্বোচ্চ শাস্তিদান অনিবার্য। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত