প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জিকে শামীমের ১২ প্রকল্পে পুন:টেন্ডার, অভিযুক্ত প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

সুজিৎ নন্দী : র‌্যাবের হাতে আটক হওয়া আলোচিত ঠিকাদার জিকে শামীমের প্রতিষ্ঠান জিকে বিল্ডার্স (জিকেবি) গণপূর্ত অধিদপ্তরের যে ১২টি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের বন্ধ থাকা কাজ আবারো শুরু হচ্ছে।বন্ধ রেখেছে সেগুলোর কার্যাদেশ বাতিল করে নতুন ঠিকাদার নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি প্রকল্প সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের মধ্যে যারা জি কে শামিমকে সহযোগিতা করেছে তাদের রিরুদ্ধেও ব্যাবস্থা নেবে গণপূর্ত অধিদপ্তর।

জানা যায়, ২০ সেপ্টেম্বর থেকে বন্ধ হওয়া প্রকল্পের কাজ ২৮ কর্ম দিবসের মধ্যে কাজ শুরু না হলে কার্যাদেশ বাতিল হবে।দরপত্রের শর্ত ভেঙে প্রকল্পের কাজ বন্ধ রাখার কারণে জিকেবিকে এরই মধ্যে ২টি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।আগামী সপ্তাহে তৃতীয় ধাপে নোটিস পাঠাবে গণপূর্ত অধিদপ্তর।নোটিসের জবার পাওয়ার পর নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, কোনো ঠিকাদারের অপারগতার কারণে সরকারি কোনো উন্নয়ন কাজই আটকে থাকবে না। আমরা আইন অনুযায়ী নোটিস পাঠাব। কাজ এগিয়ে নিতে না পারেন, কি পরিমাণ কাজ তিনি করেছেন সেটাকে আমরা পরিমাপ করে প্রয়োজনে চুক্তি বাতিল করে নতুন ঠিকাদার নিয়োগ করব।

বন্ধ থাকা চলমান ১২টি প্রকল্পের মধ্যে র‌্যাব হেডকোয়ার্টার, মিরপুর সেকশন-৬-এ সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য ফ্ল্যাট নির্মাণ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ভবন, আগারগাঁও নিউরোসায়েন্স হাসপাতাল, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের ভবন, এনজিও ফাউন্ডেশন ভবন, সচিবালয়ের নতুন ক্যাবিনেট ভবন, সচিবালয়ের অর্থ মন্ত্রণালয় ভবন, নারায়ণগঞ্জের আলীগঞ্জে ফ্ল্যাট নির্মাণ, নারায়ণগঞ্জের খানপুরে হাসপাতালে শয্যায় উন্নীতকরণ প্রকল্প অন্যতম। এর মধ্যে আগারগাঁও এলাকায় ৪টি বড় প্রকল্পের কাজ ছিলো। ঢাকা সার্কেল-৩ তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী রোকন উদ্দিন অবশ্য বলেন, জি কে বিল্ডার্স কাজের গুণগত মান ভালো। তারা কাজ করেছে, কিন্তু অনেক বিল এখনো নেয়নি।দ্রুতই নতুন ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে কাজ শুরু হবে।

অন্যদিকে জি কে বিল্ডার্স কাজ কম করে বেশি বিল উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এরই মধ্যে একাধিক ঠিকাদারের বিরুদ্ধে অধিদপ্তর থেকে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কাজ পাওয়া ও বিল পেমেন্টের ব্যাপারে প্রায় এক ডজন প্রকৌশলীরা জড়িত। জি কে শামিমের কাজ পাওয়া এবং যারা নির্বাহীর দায়িত্বে ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম শেরেবাংলা নগর ডিভিশনের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী ফজলুল হক মধু ও উজির আলী, বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী ইয়ামিন-উল-ইসলাম, স্বপন চাকমা। এছাড়াও সার্কেল-১ এর সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী সালেহ উদ্দিন, ফারুক চৌধুরী (বর্তমানে প্রশিক্ষণের জন্য দেশের বাইরে), ডিভিশন-৩ মাজাহারুল ইসলাম, মিরপুরের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী হেলাল এবং আল-আমিন, আনোয়ার নজরুল, আমানুল্লাহ সরকার, মাহাবুবুর রহমান অন্যতম।

সূত্র জানায়, প্রকৌশলীরা মূলত অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রাক্কলন, দরপত্রের তথ্য ফাঁস, সমঝোতার নামে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে এজেন্ট ঠিকাদার নিয়োগ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে মেরামত বা সংস্কার কাজের নামে ভুয়া বিল-ভাউচার করে অর্থ আত্মসাৎ করায় সহায়তা করেছে। পাশাপাশি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বেনামে বা ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজনের মাধ্যমে ঠিকাদারি কাজ পরিচালনা, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অবাঞ্ছিত হস্তক্ষেপ এবং ঠিকাদার ও প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে সংশ্নিষ্ট প্রকৌশলীর অনৈতিক সুবিধা লাভ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত