প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রতি মাসে গড়ে ২৯ জন শিশু হত্যা

ভোরের কাগজ: দেশে একের পর এক শিশু হত্যার ঘটনা ঘটছে। ২০১৫ সাল থেকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অর্থাৎ ৫৭ মাসে হত্যার শিকার হয়েছে ১ হাজার ৬৩৪টি শিশু। সে হিসেবে প্রতি মাসে গড়ে ২৯ শিশু হত্যার শিকার হয়েছে।

এর মধ্যে ধর্ষণে পর ১৬২ ও অপহরণের পর ১৩৭ শিশুকে হত্যা করা হয়। উদ্বেগের বিষয় হলো, সবচেয়ে বেশি শিশু হত্যার শিকার হয়েছে বাবা-মার হাতে। এর মধ্যে ২৩৫ শিশুকে নির্মমভাবে বাবা-মা হত্যা করে। বাংলাদেশে শিশু অধিকার রক্ষায় যুক্ত ২৭২টি বেসরকারি সংস্থার জাতীয় নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম (বিএসএএফ) এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়, বছর অনুযায়ী প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০১৫ সালে ২৯২, ২০১৬ সালে ২৬৫, ২০১৭ সালে ৩৩৯, ২০১৮ সালে ৪১৮ এবং চলতি বছরের ৯ মাসে ৩২০ জন শিশু নির্মম হত্যার শিকার হয়। আর জেলাভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ঢাকা জেলায় শিশু হত্যার ঘটনা বেশি ঘটছে। এরপর সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, নোয়াখালী ও মুন্সীগঞ্জে শিশু হত্যার ঘটনা বেশি ঘটেছে।

নৃসংশভাবে শিশু হত্যার ঘটনা বাড়ার কারণ হিসেবে সেভ দ্যা চিলড্রেনের পরিচালক (চাইল্ড প্রোটেকশন এন্ড চাইল্ড রাইটস গর্ভানেন্স) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতার বিপরীতে মূল্যবোধ এখন তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। এই প্রতিযোগিতায় আমরা সন্তানদেরও বাজি ধরতে দ্বিধা করছি না।

তিনি বলেন, শিশু রাজন ও রাকিব হত্যার ঘটনায় যে দ্রুত গতিতে রায় দেয়া হয়েছে অন্যক্ষেত্রে কিন্তু আমরা তা দেখছি না। তা ছাড়া আমরা মনে করি, আইন প্রয়োগ মানেই আসামিদের গ্রেপ্তার, কিন্তু তা নয়। যতক্ষণ পর্যন্ত বিচারের রায় কার্যকর হচ্ছে ততক্ষণ আইন প্রয়োগ হয়েছে বলে বলা যাবে না। রাজন-রাকিব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দ্রুত রায় পেলেও রায় এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে অপরাধীরা অপরাধ করেই যাচ্ছে।

বাবা-মা কেন শিশুদের হত্যা করছে এ প্রসঙ্গে বিএসএএফের পরিচালক আব্দুছ সহিদ মাহমুদ বলেন, শিশু হত্যাকে প্রতিশোধের হাতিয়ার হিসেবে বেছে নেয়া হচ্ছে। শিশু হত্যার কারণগুলো বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাবা-মায়ের পরকীয়া, পারিবারিক দ্ব›দ্ব, আর্থিক সংকট এবং প্রতিপক্ষকে ফাঁসানো উল্লেখযোগ্য। তবে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, বাবা-মার কাছেও শিশুরা এখন আর নিরাপদ নয়। তাদের হাতেও শিশুরা হত্যার শিকার হচ্ছে। ভয়ঙ্কর মানসিক অবস্থা শিশুদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছে।

সর্বাধিক পঠিত