প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভিকারুননিসার বাতাসে উড়ছে টাকা

রমাপ্রসাদ বাবু : দেশসেরা প্রতিষ্ঠানের একটি ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ। সব অভিভাবকই চান তার মেয়েকে এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াতে। ফলে অন্যান্য স্কুল ও কলেজের তুলনায় এখানকার প্রতিযোগিতাও বেশি। ৬৭ বছরের পুরনো এ স্কুলের অনেক অর্জনে এখন ধুলো পড়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনাবলী এ বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। ভর্তিবাণিজ্য, অধ্যক্ষ, শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ বাণিজ্য, অনিয়ম ও দুর্নীতিসহ নানা অভিযোগ রয়েছে এ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। আগামী ২৫ অক্টোবর শুক্রবার অনুষ্ঠিত হবে গভর্নিং বডি নির্বাচন। এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে টাকার খেলা। অভিযোগ ওঠেছে, প্রাথীরা জয় পেতে দু’হাতে টাকা খরচ করছেন। তৈরি হয়েছে বিভিন্ন গ্রুপ, উপগ্রুপ ও প্রচার কমিটি। তাদের মাধ্যমেই এ টাকা যাচ্ছে সিন্ডিকেটের পকেটে। অথচ এ সিন্ডিকেট ভাঙতেই এ নির্বাচনে আগের গভর্নিং বডির ছয় সদস্যদের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়।

প্রচার চালাতে গিয়ে প্রার্থীরা সকালে-রাতে খাবারের মাধ্যমে ভোটারদের তুষ্ট করার চেষ্টা করছেন। সকালে-বিকেলে নিজে ও এজেন্টের মাধ্যমে ফোন, এসএমএস পাঠাচ্ছেন তারা। এছাড়া নতুন-পুরনো সব সদস্য গত কয়েক মাস ধরে নির্বাচনের নামে ঢাকা শহরের অলিগলি, বাসাবাড়ি এবং ফ্লাইওভার পোস্টার ও ব্যানারে ছেয়ে ফেলেছেন। যা খুবই দৃষ্টিকটু। প্রার্থীর ছবি সংবলিত বিশাল বিশাল পোস্টার, লিফলেট ও ব্যানার সাধারণ মানুষ এবং অভিভাকদের বিরক্তির কারণ হয়ে ওঠেছে। এসব বিষয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে।

ভিকারুননিসায় ভর্তি বাণ্যিজ্যের অভিযোগ সবচেয়ে পুরনো। একবার কেউ অভিভাবক নির্বাচিত হলে কোটিপতি বনে যান তিনি। অভিভাবকদের শঙ্কা এখানেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অভিভাবকরা বলেন, ভিকারুননিসায় এমন কি মধু আছে, যে লাখ লাখ টাকা খরচ করছেন প্রার্থীরা। সিন্ডিকেটের কবল থেকে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজকে মুক্ত করতে সরকারের কাছে আহ্বান তাদের।

জানা গেছে, গত ৩ মে ভিকারুননিসার গভর্নিং বডির মেয়াদ শেষ হয়। এরপর থেকে ২৫ দিন প্রতিষ্ঠানটির কোনো গভর্নিং বডি ছিল না। পরে গত ২৮ মে চার সদস্য বিশিষ্ট একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়। গভর্নিং বডির নির্বাচনের লক্ষ্যে গত ৪ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করে অ্যাডহক কমিটি। এছাড়া ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ১৯ সেপ্টেম্বর প্রিসাইডিং অফিসারও নিয়োগ দেন ঢাকার জেলা প্রশাসক।

আগামী শুক্রবার সকাল ১০টায় থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কলেজের মূল ক্যাম্পাস বেইলি রোডসহ আজিমপুর, ধানমন্ডি ও বসুন্ধরা শাখায় একযোগে ভোটগ্রহণ করা হবে। রাতের মধ্যে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের কথা রয়েছে। নির্বাচনে প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) ফারজানা জামান।

এতে তিন ক্যাটাগরিতে কলেজ শাখায় ৮ জন, মাধ্যমিকে ৯ জন এবং প্রাথমিকে ৬ জন প্রতিনিধি প্রতিন্দ্বদ্বিতা করছেন। এছাড়া নারী সংরক্ষিত কোটায় ৪ জন নির্বাচন করছেন। তাদের মধ্যে শিক্ষাবিদ, আমলা, ব্যবসায়ী, চিকিৎসক, ঠিকাদার, পুলিশ, আইনজীবী এবং সাংবাদিকও রয়েছেন। এ থেকে প্রাথমিকে একজন, মাধ্যমিক ও কলেজে দু’জন করে চারজন এবং সংরক্ষিত একজনসহ মোট ৬ জন নির্বাচিত হবেন। এছাড়া একজন শিক্ষক প্রতিনিধিও থাকবেন এ কমিটিতে।
তবে আগের গভর্নিং বডির বিরুদ্ধে ভর্তি বাণিজ্য ও অনিয়মের অভিযোগ থাকায় গত ৬ অক্টোবর ছয় প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে ঘুষ খেয়ে অযোগ্য প্রার্থীকে অধ্যক্ষ পদে বসানোর চেষ্টা, টাকার বিনিময়ে অতিরিক্ত সাড়ে ৪শ’ শিক্ষার্থী ভর্তি, অবৈধভাবে ১৪ জন প্রভাষক নিয়োগ, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে খারাপ আচরণসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিগত গভর্নিং বডির ভর্তিবাণিজ্য; অধ্যক্ষ, শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ বাণিজ্য, অনিয়মম ও দুর্নীতি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের তদন্তে উঠে এসেছে।

এসব বিষয়ে ভিকারুননিসার অধ্যক্ষ প্রফেসর ফওজিয়া বলেন, আগের কমিটির বিরুদ্ধে ভর্তি বাণিজ্যের অভিযোগের কারণেই তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। কেউ যদি নতুন করে সিন্ডিকেট গড়ে তা সরকার দেখবে। আমার মনে হয় মিডিয়াসহ সকলের দৃষ্টি রয়েছে এ প্রতিষ্ঠানের দিকে। আমি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবো। পোস্টার ও ব্যানার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা পরিষ্কার আচরণবিধি লঙ্ঘন। আমরা সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে পরিষ্কার করিয়েছি। আবারো করা হবে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রিসাইডিং অফিসার ফারজানা জামান বলেন, কোনো প্রার্থী যদি হোটেলে ভোটারদের আপ্যায়ন করায় তা আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এগুলো করার কোনো সুযোগ নেই। ম্যাজিস্ট্রেট পাঠিয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। সিন্ডিকেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভর্তি বাণিজ্যের অভিযোগের জন্যই আগের কমিটির প্রার্থীদের বাদ দেয়া হয়েছে। এখন যদি কেউ সর্বোচ্চ ভোট পেয়েও নির্বাচিত হয়ে আসেন, তাহলে তার অনৈতিক কর্মকা-কে নিশ্চয়ই বোর্ড অনুমোদন দেবে না। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বলেন, ব্যালট নম্বর দিয়ে পোস্টার করার নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। বৃহস্পতিবার ম্যাজিস্ট্রেট পাঠিয়ে তা অপসারণ করা হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত