প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রোহিঙ্গা বসতির কারণে ধ্বংস হয়েছে প্রায় আট হাজার একর বনভূমি

মাজহারুল ইসলাম : টাকায় যার মূল্য ২ হাজার ৪২০ কোটি টাকা। এরমধ্যে জ্বালানি কাঠ হিসেবে ছাই হয়েছে এক হাজার ৮৩৭ একর বনাঞ্চল। টাকার অঙ্কে এ ক্ষতির পরিমাণ ৫৫৫ কোটি টাকা। জীববৈচিত্রের ক্ষতি হয় এক হাজার ৮২৯ কোটি টাকার আর বনজদ্রব্য ক্ষতি হয়  ৫৯১ কোটি টাকার। সমকাল

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে এ বছরের ৭ অক্টোবর পর্যন্ত সময়কালে ক্ষয়ক্ষতিসংক্রান্ত এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক সংসদীয় কমিটি আজ বৃহস্পতিবার উখিয়ার কুতুপালংয়ে বনের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করতে যাচ্ছে। এরপর আগামীকাল শুক্রবার কক্সবাজার সার্কিট হাউসে সংসদীয় কমিটির বিশেষ বৈঠক বসবে।

এ বিষয়ে কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী বলেছেন, রোহিঙ্গাদের কারণে বনের যেসব ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার একটি চিত্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে পাওয়া গেছে। যা পরিবেশের জন্য ভয়ঙ্কর। তাই সংসদীয় কমিটি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে কমিটির বৈঠক কক্সবাজারেই করা হবে। বৈঠকে বনাঞ্চলে রোহিঙ্গাদের আশ্রয়কেন্দ্রকেন্দ্রিক ক্ষয়ক্ষতি ঠেকাতে করণীয় বিষয়ে আলোচনা হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা কক্সবাজারের দক্ষিণ বন বিভাগের ৬ হাজার ১৬৪ একর বনভূমিতে বসতি স্থাপনের ফলে ২ হাজার ২৭ একর সৃজিত (সামাজিক বনায়ন) বন এবং ৪ হাজার ১৩৬ একর প্রাকৃতিক বনাঞ্চল ধ্বংস হয়েছে। সৃজিত বনের ক্ষেত্রে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২০০ কোটি টাকা। প্রাকৃতিক বনের ক্ষতি পরিমাণ ২৫০ কোটি টাকার বেশি। তাতে মোট ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৫০ কোটি টাকা।

ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, রোহিঙ্গা বসতির ফলে জীববৈচিত্র ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়। এটি নিরূপণে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন। কক্সবাজারের মহেশখালীতে বাস্তবায়নাধীন সিঙ্গেল পয়েন্ট মোরিং (এসপিএম) প্রকল্পের প্রস্তাবিত সংরক্ষিত বনভূমিতে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে বিশেষজ্ঞ কমিটি জীববৈচিত্র ক্ষতির হিসাব করে। একই জেলায় প্রায় একই ভূ-প্রকৃতির অংশ হওয়ায় এসপিএম প্রকল্পের বিশেষজ্ঞ কমিটির নির্ধারিত ক্ষয়ক্ষতির অনুরূপ হারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মাধ্যমে ধ্বংস হওয়া ৬ হাজার একর রক্ষিত ও সংরক্ষিত বনভূমিতে জীববৈচিত্রের ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় ১ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা। বনজদ্রব্যের ৪৫০ কোটি ও জীববৈচিত্রের ১ হাজার ৪০৯ কোটি মিলে মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় ১ হাজার ৮৬৫ কোটি টাকা।

ওই একই প্রতিবেদন অনুযায়ী জ্বালানি সংগ্রহে বন ধ্বংস এক হাজার ৮০০ একর। রোহিঙ্গাদের ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হলেও রান্নার জন্য কোনো জ্বালানির ব্যবস্থা করা হয়নি। তারা ক্যাম্পের বাইরে এক হাজার ৮৩৭ একর বনভূমিতে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করে গাছ কাটছে। এমনকি গাছের শিকড়ও উপড়ে ফেলছে। জ্বালানি কাঠ সংগ্রহের কারণে বনজদ্রব্য ও জীববৈচিত্রের ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৫৫ কোটি টাকা। বিভিন্ন সংস্থা এক লাখ ৭০ হাজার ৪৭৮ পরিবারকে (স্বাগতিক পরিবারসহ) বিকল্প জ্বালানি হিসেবে এলপিজি সরবরাহ করেছে। এর মধ্যে রোহিঙ্গা পরিবার এক লাখ ৬৪ হাজার ৫১৩টি এবং স্থানীয় স্বাগতিক পরিবার ৫ হাজার ৯৬৫টি।

সর্বাধিক পঠিত