প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সরকার এবং দেশের ধনকুবেদের শিক্ষা খাতে ব্যয় করতে হবে

 

কামরুল হাসান মামুন : বিশ্ববিদ্যালয় অনেক ব্যয়বহুল প্রতিষ্ঠান। অর্থ কোথা থেকে আসবে সেটা নিয়ে আলাপ থাকতে পারে, কিন্তু অর্থের অভাব থাকতে পারবে না। গত বছর বোস্টনের নর্থইস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এক কনফারেন্সে যোগ দিতে গিয়ে নাজমুস সাকিবের কল্যাণে এমআইটির মিডিয়া ল্যাব দেখার সৌভাগ্য হয়েছিলো। সাকিব আর ওর স্ত্রী মিলে প্রত্যেকটা ফ্লোর ঘুরে দেখিয়েছে। আর আমার স্ত্রী কন্যাসহ সবাই মুগ্ধ হয়ে দেখেছি আর অভিভূত হয়েছি। প্রশ্ন হলো এগুলো কীভাবে সম্ভব। টাকা।

কেবল মিডিয়া ল্যাবের বাজেটই সম্ভবত দু’তিনটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেটের সমান হবে। বিশ্ববিদ্যালয় হবে সাজানো গোছানো মনোরম পরিবেশ। বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকবে ছাত্রছাত্রীদের জন্য থাকা খাওয়ার সুন্দর ব্যবস্থা। থাকবে পড়াশোনা ও গবেষণার পর্যাপ্ত সুবিধা। অর্থনীতিতে নোবেল বিজয়ী Esthar Buflo Ges Abhijeet Benerjee ও আমিআইটির একটি ল্যাবের প্রতিষ্ঠাতা। ল্যাবটির নাম Abdul Latif Jameel Poverty Action Lab যা সংক্ষেপে J-PAL নামে পরিচিত। এই ল্যাবের অর্থ যোগানদাতা এক সৌদি ধনকুবে। এই ধনকুবের সন্তান এমআইটির অ্যালুমনি। কি বুঝতে পারলেন? বাংলাদেশেও কিন্তু অনেক ধনকুবে আছে। এরা চুরিচামারি করে ধনকুবে হয়ে সেই টাকা বিদেশে রপ্তানি করে।

এদের কেউ যদি ঠিকাদার হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কাজ পায় পারলে সেই কাজটি যতো নিম্নমানের সম্ভব করে সর্বোচ্চ সম্ভব লাভ নিশ্চিত করবে। গবেষণা খুব ব্যাবহুল। সেটার নানাবিধ উৎস থাকতে পারে। শুনেছি এমআইটি হার্ভাডে প্রতিবছর অ্যালুমনিদের মেলা হয়। তারা আসে এবং মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার donate করে যায়। এরা মনে করে আজকে তারা একেকজন জীবনে সফল হওয়ার পেছনে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান অনেক। তারা একটি ভালো মানের বিশ্ববিদ্যালয় পেয়েছিলো কারণ তাদের পূর্বসূরিরা এমন করে donate করেছিলো। আজকে এটি তাদের দায়িত্ব যেন আজকের ছাত্রছাত্রীরা বড় হয়ে ফড়হধঃব করে তাদের সন্তানদের ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পারার সুযোগ করে দেয়। এটাই পরম্পরায়। আমাদেরও অ্যালুমনি মেলা হলে খালি কিছু খাইদাই আর ফূর্তিফার্তা করে ছবি তুলে শেষ। কিছু donate করলেও এতো ছোট অ্যামাউন্ট তা দিয়ে কিছু করা যায় না। আমাদের এলুমনি কি করেছে? তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছু আলিশান গেট করে দিয়েছে যেন এটাই আমাদের priotity। বলদের দল। স্বার্থপরের দল। আমাদের সামিট গ্রুপ, বেক্সিমকো গ্রুপ, বসুন্ধরা গ্রুপ, নাসির গ্রুপ ইত্যাদি বড় বড় গ্রুপ কি করেছে? কিচ্ছু না। এরা কেবল লুটেপুটে খেতে জানে।

বিশ্ববিদ্যালয় চালানো তো অনেক টাকার দরকার। তার উপর গবেষণা চালাতে আরও বেশি দরকার। আমাদের সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে দেয় ছয়শ কোটি টাকা। অথচ সামিট গ্রুপের বিভিন্ন বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো বসিয়ে রেখে সরকার শুধু এই গ্রুপকেই এক বছরে গচ্ছা দিয়েছে এক হাজার তিনশ কোটি টাকা। এই ছয়শ কোটি টাকা এমন পরিমাণ টাকা যা দিয়ে কোনোরকমে গরিবানা হালতে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন দিতেই চলে যায়। তাহলে ল্যাব, গবেষণা চলবে কিভাবে? সরকারের উচিত শিক্ষা খাতে জনগণের কাছ থেকে সারচার্জ নিয়ে শিক্ষায় ন্যূনতম জিডিপির পাঁচ দশমিক পাঁচ শতাংশ বরাদ্দ দিয়ে শিক্ষার মানের উন্নতির প্রাথমিক সূচনা করা। ধনীদের কাছ থেকে বেশি করে ট্যাক্স নিয়ে শিক্ষায় এমনভাবে ব্যয় করতে হবে যেন কৃষকের মজুরের সন্তানেরা সম্পূর্ণ বিনা খরচে পড়তে পারে। ধনীর সন্তানদের বেতন গরিবের সন্তানদের সমান হবে কেন? ১৯২১ সালের নির্ধারিত ফি আজকেও একই থাকবে কেন? শুধু ইনফ্লেশন বিবেচনা করলেও তো অনেক হওয়ার কথা। বিশ্ববিদ্যালয় লেবেলের উচ্চ শিক্ষা সারাবিশ্বেই ব্যয়বহুল। টাকাটা কথা থেকে আসবে সেটা ভিন্ন ইস্যু, কিন্তু টাকা আসতে হবে। স্কান্ডেনেভিয়ান দেশগুলোতে শিক্ষা ব্যয় কম, কারণ ধনীর ট্যাক্স ওখানে এতো বেশি যে ওইটা তারা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করে। একজন পিএইচডি ছাত্র নিশ্চয়ই বাপের টাকায় পড়বে না। পিএইচডি প্রোগ্রাম চালু করলে একজন প্রভাষকের বেতনের প্রায় সমান পরিমাণ টাকার স্কলারশিপ দিতে হবে।

অর্থাৎ সরকার এবং দেশের ধনকুবেদের শিক্ষা খাতে ব্যয় করতে হবে। বড় বড় প্রতিষ্ঠানের মালিকরা যদি শিক্ষায় কিছু বাড়তি টাকা খরচ না করেন তাহলে তারা ভালো মানের কর্মকর্তা ও কর্মচারী কোথা থেকে পাবেন? ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত