প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের পরিবর্তিত অবস্থান দেশের মানুষকে আশাবাদী করেছে

 

আকতার বানু আলপনা : বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এতোদিন ধরে সরকারদলীয় ভিসিগুলো যে মজার মজার হালুয়ারুটি খেয়ে এসেছেন, সেই হালুয়ারুটি খাওয়ার লোভ তারা এখন আর ছাড়তে পারবেন না। দীর্ঘদিনের বদঅভ্যাস বলে কথা। আর যারা ভবিষ্যতে ওই হালুয়ারুটি খাওয়ার জন্য হা করে আছেন বা অধীর আগ্রহে দিন গুনছেন, তারা কিছুতেই শিক্ষক রাজনীতি বন্ধ করার পক্ষে কথা বলবেন না। বেশিরভাগ শিক্ষক সমিতিতে যেহেতু সরকারদলীয় শিক্ষকরা আছেন, সেহেতু তারা সরকারের বিরুদ্ধে গিয়ে ছাত্ররাজনীতি ও শিক্ষক রাজনীতি নিষিদ্ধ করার জন্য কোনো উদ্যোগ নেবেন না।

তারা এখন থাকবেন ‘সাইলেন্ট অ্যান্ড নট নড়নচরণ’ মুডে। আর প্রতিটি সরকারই যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিরোধী দল-মত দমনে এবং সরকারি দলের প্রভাব অক্ষুণ্ন রাখতে দলীয় ছাত্র এবং শিক্ষকদের নানাভাবে ব্যবহার করে, সেহেতু কোনো সরকারই (বর্তমান সরকারও) কোনোভাবেই ছাত্র ও শিক্ষকদের দলীয় রাজনীতি বন্ধ করবে না। তাহলে উপায়? উপায় হলো, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দূর্বার ছাত্র ও শিক্ষক আন্দোলন গড়ে তোলা, যাতে ১. সরকার তার দলীয় ভিসিগুলোকে সরিয়ে সিনেটের মাধ্যমে যোগ্য কাউকে ভিসি হিসেবে নিয়োগ দিতে বাধ্য হয়। ২. প্রতিটি কলেজে ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়। ৩. প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দলীয় লেজুড়বৃত্তির ছাত্ররাজনীতি ও শিক্ষক রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে বাধ্য হয়। ৪. আবরারের খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে এবং দেশের স্বার্থবিরোধী সব চুক্তি বাতিল করতে বাধ্য হয়। ৫. দেশের প্রতিটি সেক্টরে অনিয়ম, দুর্নীতি দূর করে দেশে সুশাসন নিশ্চিত করতে বাধ্য হয়। বাংলাদেশের শিক্ষাসহ সব সেক্টরে বিরাট গুণগত পরিবর্তনের অমূল্য সুযোগ এসেছে। এ দেশের ছাত্র-শিক্ষকরা সেই অমূল্য সুযোগকে কাজে লাগানোর জন্য দূর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে পারবেন কিনা বা তুলবেন কিনা সেটাই এখন দেখার বিষয়। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের পরিবর্তিত অবস্থান এ দেশের মানুষকে আশাবাদী করেছে। সরকার যদি দেশের জন্য সত্যি সত্যিই ভালো কিছু করতে চায়, তাহলে তা করার সুবর্ণ সুযোগও কিন্তু এখনই। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত