প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অনুপ্রবেশকারী, হাইব্রিড, কাউয়া ও মুরগিদের সম্পর্কে সজাগ হোন

সুলতান মির্জা : কথাগুলো কবে থেকে বলা শুরু করেছি? ২০১৪ সাল থেকে বলা শুরু করেছি। একবার বলিনি, দুইবার বলিনি, বারবার বলেছি, শতবার বলেছি। কে শুনেছে কার কথা? কে পাত্তা দিয়েছে কার কথা? হ্যাঁ, আজকে আবার বলছি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতি বিক্রি যাদের নেতৃত্ত্বে হয়েছে, যারা করেছে, যাদের ইশারায় টাকা দিয়ে, টাকার বিনিময়ে, বিএনপি-জামায়াত, শিবির সহ বিভিন্ন দল থেকে বা পরিবার থেকে আওয়ামী লীগের উপকমিটি, জেলা কমিটি, ছাত্রলীগে, যুবলীগে, সেচ্ছাসেবকলীগে পদ কিনে পদধারী হয়েছে। সেই তারাই শেখ হাসিনার সামনে অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশিবার বিপ্লবী কথা বলে নেত্রীকে বুঝিয়েছেন, অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে তারা খুবই সোচ্চার। অথচ তলে তলে টাকা নিয়ে তারাই ভিবিন্ন লীগে খালি জায়গায় বিএনপি-জামায়াত, শিবিরের নেতা কর্মী ঢুকিয়েছে।

বুয়েটের ঘটনা এক হিসেবে যৌক্তিক সময়েই হয়েছে বলে মনে করি। বুয়েট ছাত্রলীগের একমাত্র সভাপতি ছাড়া বাদ বাকি সবাই জীবনে প্রথম পদ পেয়েছে, কারা পদ দিয়েছে, কারা হুকুমে দিয়েছে এইসব কিছুই আমরা প্রায় সকলেই জানি কিন্তু কেউ মুখে বলি না। কারণ ভাসুরের নাম মুখে নিলে আমাদের জাত চলে যাবে যে, অথচ এই আমরাই অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে খুব সোচ্চার। মোহাম্মদপুরের পাগলা হাবিবুর কমিশনারকে আটক করেছে র‌্যাব, পাগলা হাবিব শুধু কমিশনার নয়, মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ হাসিনার উপরে হামলাকারী ও হামলা মামলার আসামী ফ্রিডম পার্টির এই হাবিবকে কে জায়গা দিয়েছে আওয়ামী লীগে? কার নির্দেশে মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বানানো হয়েছিলো?
বাড়িতে টাকার ব্যাংক বানিয়ে ফেলেছিল খালেদ ভূঁইয়া, জিকে শামীম আরেকটা কৃষক লীগের কি যেন, আছে লোকমান ভূঁইয়ারা বিএনপি ফ্রিডম পার্টি নেতা তারা, শেখ হাসিনার উপরে হামলাও চালিয়েছিলো অথচ সেই তাদের কে শেখ হাসিনার পাশে দাঁড় করিয়ে ছবি তোলার সুযোগ করে দিয়েছে কারা? আমরা আজকে অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কথা বলছি, নৈতিকভাবে ভেবে দেখলে আমাদের সেই যোগ্যতা নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। আমাদের কথায় কার কি আসবে যাবে? আজকে মনরে বুঝাইতে পারতাম, যদি গত ৩০-৩৫ বছর ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত, সুখে-দুঃখে আওয়ামী লীগের সাথে ছিলো এমন কারো বাড়িতে টাকার ব্যাংক গজিয়েছে। কিন্তু না, আওয়ামীলীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় সেই ২০০৮ সালের শেষ দিক থেকে, আজকে ২০১৯ চলে দলীয় অন্য নেতা কর্মীর কথা কি বলবো,২০১৫ সালের আগে পর্যন্ত ট্যাক্স দিতাম নিয়মিত, এখন সেটাও দিতে পারিনা, ন্যূন আনতে পান্তা ফুরোয় অবস্থা, দলীয় দাপট ক্ষমতা দেখিয়ে কোথাও কিছু করার অবস্থায় নাই।

কারণ ক্ষমতার অপব্যবহার, অবৈধ টাকার পেছনে ছুটিনি সেজন্য। হ্যাঁ, ভালো আছি, সৎভাবে জীবনযাপন করছি, বৈধ ব্যবসা করছি। আর সেজন্যই জোরে জোরে চিল্লাইয়া কথা বলতে পারি সেখানে খুশি সেখানে। একটা কথা বলি, অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এসব কথা বলার আগে যারা অনুপ্রবেশ করিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক আগে। তাদের গলায় নাম লিখে দল থেকে লাত্থি দিয়ে বের করে দেওয়া হোক আগে, তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হোক আগে, তারপরে বলা হোক অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফেসবুক থেকে

সর্বাধিক পঠিত