প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

তিন হাজার কোটি টাকার ঢাকা-চট্টগ্রাম তেল পাইপলাইনের কাজে ধীরগতি

শাহীন চৌধুরী: প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে চলমান ঢাকা-চট্টগ্রাম তেল পাইপলাইনের নির্মাণ কাজে ধীরগতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। অথচ এই প্রকল্পের কাজ শেষ হলে বছরে ৬৫ কোটি টাকা পরিবহন খরচ সাশ্রয় হবে। আবার লাইটারেজের পরিবর্তে পাইপলাইনে জ্বালানি তেল সরবরাহ হলে সিস্টেম লস ও ঝুঁকি শূন্যে নেমে আসবে বলে মনে করে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।

২০১৭ সালে প্রাক সমীক্ষা শেষ হওয়া ঢাকা-চট্টগ্রাম পাইপলাইন প্রকল্পটির মূল ব্যয় ধরা হয়েছে দুই হাজার ৮৬১ কোটি টাকা। বিপিসি’র অর্থায়নে এ প্রকল্পের আওতায় ঢাকা-চট্টগ্রাম ২৩৭ কিলোমিটার, কুমিল্লা থেকে চাঁদপুর পর্যন্ত ৫৯ কিলোমিটার এবং ফতুল্লা থেকে গোদনাইল ডিপো পর্যন্ত সাড়ে ৮ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপন করা হবে।

২০১৭-১৮ অর্থবছরে বিপিসি ১.১৭ মিলিয়ন মেট্রিকটন ক্রুড অয়েল এনে চট্টগ্রামে অবস্থিত ইস্টার্ন রিফাইনারিতে শোধন করে বাজারজাত করে। আর ৫.৫৪ মিলিয়ন মেট্রিকটন পরিশোধিত তেল আমদানি করে। এর মধ্যে নারয়ণগঞ্জের গোদনাইল ও ফতুল্লা ডিপোর মাধ্যমে ৩২ শতাংশ অর্থাৎ ২.২ মিলিয়ন টন বিতরণ করা হয়ে থাকে। এ জ্বালানির প্রায় পুরোটাই চট্টগ্রাম থেকে লাইটারেজ জাহাজে করে চট্টগ্রামে নেয়া হয়।

সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রতি টন জ্বালানি তেল পরিবহনে নটিক্যাল মাইলপ্রতি ৪.৬৯ টাকা হারে মাশুল দিতে হয়। বছরে ১৫ লাখ মেট্রিকটন জ্বালানি তেল চট্টগ্রাম থেকে নারায়ণগঞ্জে (১৫৩.৮ নটিক্যাল মাইল) পরিবহনে ১০৮ কোটি ১৯ লাখ টাকা গুণতে হয়। এর সঙ্গে দশমিক ১৭ শতাংশ হারে সিস্টেম লস সমান ১৫ কোটি ৯৪ লাখ টাকা গচ্চা গেছে।

আর এই পরিমাণ জ্বালানি তেল পরিবহনে পাইপলাইনের অপারেশনাল খরচসহ ৬২ কোটি টাকার মতো খরচ পড়বে। সিস্টেম লস নেই, পরিবহনের ঝুঁকিও কম।
অভিযোগ রয়েছে, এতো সম্ভাবনার পরও শুধু লাইটারেজ মালিকদের তদবিরের মুখে ঢিমেতালে চলছে সম্ভাবনাময় এ প্রকল্পটি। তারা একজোট হয়ে এর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছেন। দেশের তাদের কাছে ক্ষুদ্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর সঙ্গে রাষ্ট্রীয় অয়েল কোম্পানি পদ্মা, মেঘনা, যমুনার কিছু অসাধু কর্মকর্তা জড়িত। যারা লাইটারেজ মালিকদের কাছ থেকে নিয়মিত কমিশন পেয়ে থাকেন।

২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই প্রকল্পটির কাজ শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু সে অনুসারে দৃশ্যমান অগগ্রতি নেই। এখনও ভূমি অধিগ্রহণের কাজই শেষ করা যায়নি। ঠিক কতোখানি অগ্রগতি হয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি প্রকল্পটির দায়িত্বে থাকা পদ্মা অয়েল কোম্পানির জেনারেল ম্যানেজার আমিনুল ইসলাম। তিনি জানিয়েছেন, এ কথা ঠিক যে, লাইটারেজ মালিকদের পক্ষ থেকে চাপ রয়েছে। তারা দাবি করছেন, এ পাইপলাইন হলে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তারা ব্যাংক ঋণ নিয়েছেন, ভাড়া বন্ধ হয়ে গেলে ঋণ পরিশোধে সংকটে পড়বেন। তিনি বলেন, লাইটারেজ মালিকরা দাবি করতেই পারেন, সেজন্য প্রকল্পের কাজ আটকে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

বিপিসি’র চেয়ারম্যান মো. শামছুর রহমান বলেন, সেনাবাহিনীকে কাজটি দেয়া হয়েছে। অধিগ্রহণের জন্য জমি চিহ্নিত করা হয়েছে। এখন দাগ খতিয়ান সংগ্রহ করা হচ্ছে। সারা বিশ্বেই এখন পাইপলাইনে তেল সরবরাহ হচ্ছে, এখানেও হবে। এখান থেকে সরে আসার কোনো সুযোগ নেই।

কাজের অগ্রগতি প্রসঙ্গে বিপিসি চেয়ারম্যান বলেন, আর্থিক অগ্রগতি সম্ভবত ৫ থেকে ৭ শতাংশ হবে। কাজের অগ্রগতি ১০ থেকে ১৫ শতাংশ হতে পারে। সম্পাদনা: অশোকেশ রায়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত