প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ফের বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দেশ ভারত, পিছনে চীন

রাশিদ রিয়াজ : ভারতীয় অর্থনীতির বৃদ্ধির হার ২০২০ অর্থবর্ষে ৭ শতাংশ থাকবে বলে জানিয়েছিল আইএমএফ। আইএমএফের মতে, বিশ্ব অর্থনীতীতে এবছর বৃদ্ধি হবে ৩ শতাংশ। চীনের আর্থিক বৃদ্ধির হার কমে ৫.৮ হবে বলে জানিয়েছে আইএমএফ। এও জানিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে অটোশিল্প ক্ষতিগ্রস্ত। তবে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে নিম্নমুখী অর্থনীতির বাজারে, বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতহারে বৃদ্ধি পাওয়া দেশে তমকা ফিরে পেল ভারত, পিছনে রয়েছে চীন। বৃদ্ধির হার থেকে ১ শতাংশ কম হওয়ার পরেও, চলতি অর্থবর্ষে ভারতের বৃদ্ধির হার ৬.১ শতাংশ। তবে, ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুকের তরফে মঙ্গলবার জানানো হয়, ২০২০ অর্থবর্ষে ভারতের বৃদ্ধির হার ৭ শতাংশ। জুলাইয়ে ভারতের বৃদ্ধির হার ৭ শতাংশ থেকে ০.৯ শতাংশ কমিয়েছে তারা, এপ্রিলের ৭.৩ থেকে ১.২ শতাংশ কমানো হয়েছে।ভারতের অর্থনীতির অন্ধকারাচ্ছন্ন দিক থাকলেও,আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রের দিকে তাকালে অর্থনীতির হাল কিছুটা উজ্জ্বল। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুকের মত অনুযায়ী, চলতি বছরে বিশ্বের অর্থনীতি বাড়তে পারে ৩ শতাংশ, আগামী বছরে হতে পারে ৩.৪ শতাংশ। ভারতের অর্থনীতির বৃদ্ধির জন্য যে হার দেওয়া হয়েছিল, তা কমানো নিয়ে তাদের তরফে বলা হয়েছে, “দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে ভারতের অর্থনীতির গতি নিম্নমুখী হয়েছে, অটোমোবাইল ক্ষেত্র এবং রিয়েল এস্টেটের ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকা এবং নন ব্যাঙ্কিং ফিনান্সিয়াল সেক্টরে স্বাস্থ্য খারাপ হওয়ার কারণে”। এনডিটিভি

২০১৯-২০ অর্থবর্ষে ভারতের অর্থনীতির বৃদ্ধির গতি ৬.১ শতাংশ বলে নির্ধারণ করে আইএমএফ, যা ভারতের আর্থিক নীতি নির্ধারক কমিটির তরফে জানানো হারের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। ডব্লুইও কে ভুমিকায় আইএমএফের মুখ্য অর্থনীতিবিদ গীতা গোপিনাথ লেখেন, “সময়ের সঙ্গে ধীরগতি হচ্ছে আন্তর্জাতিক অর্থনীতির, ২০১৯ এর বৃদ্ধির হার আবার ৩ শতাংশ কমেছে-২০০৭-২০০৮ অর্থবর্ষে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তৈরি হওয়া সঙ্কটের পর এই হার সর্বনিম্ন। ২০১৭ –এ ৩.৮ শতাংশ থেকে এটি খুবই গুরুতর পতন, সেই সময় ঊর্দ্ধগতি ছিল গোটা বিশ্বের”।

আগামী বছরে চীনের অর্থনীতি ৫.৮ শতাংশ কমবে বলে ভবিষ্যতবাণী করেছে আইএমএফ। ডব্লুইও এর যুগে, এবছর বৃদ্ধির হার নির্ধারণ করা হয়েছে ১.২ শতাংশ, আগামী বছরে ১.৪ শতাংশ, এবারে জার্মানির অর্থনীতির বৃদ্ধির হার হতে পারে ০.৫ শতাংশ। এবছর আমেরিকার অর্থনীতির বৃদ্ধি হতে পারে ২.১ শতাংশ, আগামী বছরে তা হতে পারে ২.৪ শতাংশ। আন্তর্জাতিক অর্থনীতির গতি নিম্নগামী হওয়ার জন্য ব্যবসার ক্ষেত্রে বিভিন্ন বাধাকে দায়ী করেছেন গীতা গোপিনাথ, ব্যবসা এবং ভৌগলিক রাজনীতি, পরিকাঠামোগত বিষয়, যেমন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং উন্নত দেশগুলিতে প্রবীণ মানুষের সংখ্যাধিক্যকে দায়ী করেছেন তিনি।

ডব্লুইও জানিয়েছে, ২০১৮ অর্থবর্ষে ভারতের আর্থিক বৃদ্ধির হার ছিল ৬.৮ শতাংশ, যা ২০১৯ এ কমেছে, তবে ২০২০ তে তা আবারও ফিরে আসবে বলে জানিয়েছে তারা। ভারতের অর্থনীতির হার কমা “দেশটির চাহিদা, প্রত্যাশার থেকে কম হওয়ার প্রতিফলন”। ভারতের ভবিষ্যত “আর্থিক নীতি সরল করার মাধ্যমে ধীরে ধীরে বৃ্দ্ধি ঘটাবে, কর্পোরেট আয়কর কমাতে হবে, কর্পোরেট এবং পরিবেশ নিয়ন্ত্রক অনিশ্চয়তার ওপর সাম্প্রতিক পদক্ষেপ এবং গ্রামীণ ব্যবহারকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সরকারের পদক্ষেপ বৃদ্ধিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে”।

মধ্যবর্তী সময়ে, আইএমএফের আশা, মধ্যবর্তী সময়ের মধ্যে, ভারতের আর্থিক বৃদ্ধির হার ৭.৩ শতাংশ থাকবে, পরিকাঠামোগত সংস্কারের ওপর ভিত্তি করে এই বৃদ্ধি হবে বলে আশা এই আন্তর্জাতিক সংস্থার। আইএমএফের প্রস্তাব, মনোবল বাড়াতে এবং চক্রাকার দুর্বলতা কাটাতে ভারতকে আর্থিক নীতি ব্যবহার করতে হবে এবং বৃহৎ অর্থে পরিকাঠামোগত সংস্কার করতে হবে। এই মধ্যবর্তী সময়ে, ভারতকে বিশাল সরকারী ঋণ কমাতে হবে এবং একটি বিশ্বাসযোগ্য আর্থিক ঐক্যবদ্ধ পথ খুঁজতে হবে। তারসঙ্গে যুক্তিসঙ্গতভাবে ভর্তুকিখাতে খরচ করতে হবে।

তাদের তরফে দেওয়া আরও প্রস্তাবগুলি হল, আর্থিক ব্যবস্থায় সরকারি ক্ষেত্রের বূমিকা কমাতে হবে, যা “কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করবে এবং দেশের বিশাল জনসংখ্যাকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে”, এমন নীতি নিতে হবে এবং খারিজ করতে হবে। ডব্লুইও-র মতে, ক্ষতিগ্রস্ত সেক্টরগুলির মধ্যে রয়েছে অটোমোবাইল ক্ষেত্রও। তাদের তরফে বলা হয়েছে, “অটোমোবাইল শিল্প ২০১৮-এ সঙ্কুচিত হয়েছে, আন্তর্জাতিক বিপর্যয়ের পর এই নিয়ে প্রথমবার, ফলে গত বছর থেকে আন্তর্জাতিক মন্দা তৈরি হয়েছে”।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত