প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ইন্টারনেটে জঙ্গি বানানোর ফাঁদ, ফেসবুকের ৩০ পেজ ও আইডি অপসারণ

মাজহারুল ইসলাম : কিশোর ও তরুণ বয়সীদের সরকার বা রাষ্ট্রের সমালোচনা, অন্য ধর্মের প্রতি মন্তব্য দেখতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গ্রুপ খুলে সমসাময়িক ইস্যুতে নানা পোস্ট দিয়ে ওত পেতে ফাঁদ পাতছে নিষিদ্ধ সংগঠনগুলো। গত কয়েক বছর ধরে এভাবেই জঙ্গিরা আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির মাধ্যমে তরুণদের জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ করছে। বাংলাদেশপ্রতিদিন

এ ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, জঙ্গিদের এক্সপার্ট গ্রুপ অনলাইনে দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনায় সক্রিয় রয়েছে। তারা আইটি বিষয়ে পারদর্শী। আর তাই তারা ইন্টারনেটে ওয়েবসাইট-ব্লগ খুলে এবং বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জঙ্গিবাদের প্রচারণা চালিয়ে আসছে।

সম্প্রতি রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে নব্য জেএমবির সামরিক শাখার এমন ২ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। সিটিটিসি বলছে, ওই ২ জন গুলিস্তান ও সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে পুলিশের ওপর বোমা হামলার ঘটনায় জড়িত।

সিটিটিসির প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, তামিম ও আজমির দু’জনই খুলনা ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) থেকে পাস করেন। আইএসের নামে যে ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সেটি ৪ জন মিলে তৈরি করেন। এদের একজন একটি করপোরেট কোম্পানিতে প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত। তারা অনলাইনের মাধ্যমেই জঙ্গিবাদে জড়িয়ে আইএসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন। আইএসের দৃষ্টি আকর্ষণ করাই ছিলো পুলিশের ওপর হামলার উদ্দেশ্য। জেএমবিতে যোগ দেয়ার আগে তারা বিভিন্ন মতাদর্শ সম্পর্কে ধারণা নেন। এর মধ্যে জেএমবি বেস্ট ভেবে তারা একটি গ্রুপ তৈরি করেন। গত বছরে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে এক ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাত করার অভিযোগে গ্রেফতার হন বাংলাদেশি এক শিক্ষার্থী। তিনি অনলাইনে জঙ্গিবাদের উপকরণ দেখে উদ্বুদ্ধ হন বলেও সে সময় জানিয়েছিলো সিটিটিসি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জঙ্গিরা ইন্টারনেটের মাধ্যমে নিত্যনতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। জঙ্গিবাদ বা উগ্রবাদের সমর্থনে বিভিন্ন ওয়েবসাইট বা ফেসবুক পেজ খোলে তারা। এতে অনেকেই ভিজিটের পাশাপাশি লাইক ও কমেন্ট করে। এখান থেকে টার্গেট ব্যক্তিকে খুঁজে নিজেদের দলে ভেড়ানোর চেষ্টা করে জঙ্গিরা। জঙ্গিরা যে এ ব্যাপারে সফল, সে প্রমাণও পাওয়া গেছে। রাজধানী থেকে গত কয়েক বছরে দাওয়াতুল ইসলাম বাংলাদেশের ওয়েবপেজ আত-তামকিনের প্রধান প্রশাসকসহ র‌্যাব-পুলিশ অনলাইনে জঙ্গিবাদ কার্যক্রম পরিচালনার সঙ্গে জড়িত আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের অন্তত ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে। জঙ্গিরা সদস্য সংগ্রহের শুরুতেই ফেসবুকে বিভিন্ন আইডি ও পেজের মাধ্যমে দাওয়াত পাঠায়। এরপর কৌশলে নির্দিষ্ট কিছু অ্যাপস যেমন ইমো, টেলিগ্রাম, থ্রিমার মাধ্যমে জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা একে অন্যের সঙ্গে যোগাযোগ করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্যানুযায়ী, ধর্মীয় উগ্রবাদ প্রচারের অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের ৩০টি পেজ ও আইডি চিহ্নিত এবং তা অপসারণে ডিএমপির সাইবার ক্রাইম ইউনিট ব্যবস্থা নিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় গ্রেফতার বাংলাদেশি দুজন নারী অনলাইনে আইএস-আলকায়েদার ছড়িয়ে রাখা উপকরণ দেখে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হন। অনলাইনে সক্রিয় এমন সদস্যসংখ্যা অন্তত ২৫০ জন। এদের অনেকেই চুপচাপ ঘাপটি মেরে আছেন। এ ছাড়া ৮-১০ জনের একটি গ্রুপ কথিত হিজরতের নামে বাড়ির বাইরে আছে।

গত বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর তেজগাঁও থেকে জেএমবির দুই জঙ্গিকে আটক করে র‌্যাব-২। এদের একজন মেরিন ইঞ্জিনিয়ার। তিনি একই পেশার মানুষদের মাঝে অনলাইনে উগ্রবাদী মতাদর্শ প্রচারের মাধ্যমে জঙ্গিবাদে যোগদান করান বলে র‌্যাবের কাছে স্বীকার করেন। তার তথ্যানুযায়ী, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অনলাইনের মাধ্যমে যোগাযোগ করে প্রায় ৪০-৫০ জন সমমনা উগ্রবাদীর মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে।

এমআই/এসবি

সর্বাধিক পঠিত