প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

তুরস্ক-সিরিয়া সংঘর্ষ মেনে নেবে না রাশিয়া

সালেহ্ বিপ্লব : রাশিয়া যে নাক গলাবে, এতো জানা কথাই। যুক্তরাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় তুরস্ক যখন সেফ জোন প্রতিষ্ঠার নামে উত্তর সিরিয়া সীমান্তে কুর্দিদের ওপর গোলাবর্ষণ করছে, রাশিয়া তখন চুপ থাকার কথা নয়। কয়েকদিন তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছে। এরপর সোজাসাপটা ভাষায় নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে। সিরিয়ায় মস্কোর বিশেষ দূত আলেক্সান্ডার লাভ্রানতভ আজ বলেছেন, এটা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। আমরা এই সংঘাতকে অনুমোদন দিতে পারি না। বিবিসি

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আসাদের সঙ্গে রুশদের সখ্য ও জোট বেশ পুরানো। মার্কিনীদের পাশাপাশি রুশ সৈন্যও মোতায়েন আছে সিরিয়ায়, ২০১৫ সাল থেকে। অন্যদেরও মতো রাশিয়াও মনে করে, তুরস্ক-সিরিয়ার বর্তমান যুদ্ধপরিস্থিতি ট্রাম্পের সৃষ্টি।  ডোনাল্ড ট্রাম্পই উত্তর সিরিয়ায় তুরস্কের আক্রমণের মূল মদদদাতা। একেবারে চাঁছাছোলা ভাষায় এ কথা বলতে দ্বিধা করছেন না সমালোচকরা। উত্তর সিরিয়া সীমান্ত থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়ে ট্রাম্প এও বলেছিলেন, মার্কিন সেনা থাকবে না, এই সুযোগে তুরস্ক যেনো সিরিয়া আক্রমণ না করে। তার এই কথাকেই গ্রিন সিগন্যাল বলে মনে করছেন সবাই। ট্রাম্প সেনা সরিয়ে নেয়ার পরই হঠাৎ করে আক্রমণে যায় তুরস্ক।

প্রথমে বিমান হামলা, তারপর স্থলআক্রমণ। কুর্দিদের বিরুদ্ধে পরিচালিত এ অভিযানে উত্তর সিরিয়ার লাখো মানুষ ঘরহারা হয়েছে। সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সের (এসডিএফ) বেশ কিছু সৈন্য নিহত হয়। মারা গেছে বেসামরিক মানুষও। তুরস্কের সৈন্যও মরেছে। আক্রমণের প্রাথমিক ধাক্কা সামলে প্রতিরোধের প্রস্তুতি নেয় কুর্দি নিয়ন্ত্রিত সেনাবাহিনী। এ ব্যাপারে সিরিয় সরকারের সঙ্গে তাদের সমঝোতাও হয়েছে।

তুরস্ক-সিরিয়া সীমান্ত থেকে সৈন্য সরিয়ে নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প সিরিয়ায় আক্রমণের সবুজ সংকেত দিয়েছেন তুরস্ককে, সমালোচকরা এ কথাই বলছেন। এই অবস্থায় মাঠে নেমে গেছে রাশান সেনাবাহিনীও। তুর্কী ও সিরিয়ান বাহিনীর মাঝখানে তারা টহল দিচ্ছে, এ কথা জানিয়েছে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। ফলে তুরস্ক যতোটা সহজে আক্রমণ শুরু করে দিয়েছিলো, ততোটা অনায়াসে তা অব্যাহত রাখা কঠিন হয়ে পড়লো রাশিয়ার কারণে, এমনই মনে করা হচ্ছে।

এসবি/এমআই

সর্বাধিক পঠিত