প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কয়েকদিন ধরে যখন রাতে সবাই ঘুমিয়ে পড়ে, একা হই ছেলেমেয়ের গায়ে হাত রাখি, কেমন যেন কেঁপে কেঁপে উঠি

রাখাল রাহা : একজন মা একা একা অনেক কষ্টে খুঁজে বের করে অলিম্পিয়াডের বই কিনতে এসেছেন তার ছেলের জন্য। বই দেখছেন আর জানতে চাচ্ছেন কোন বইগুলো ভালো হবে, গণিতের কি বই আছে, ফিজিক্স-বায়োলজির কি আছে, কবে অলিম্পিয়াড শুরু হবে, একটার পর একটা প্রশ্ন। জানাচ্ছেন, ছেলের জন্য তিনি বাসায় বিজ্ঞানের অনেক বই কিনে দিয়েছেন। এখন তার ছেলে বিজ্ঞানে অনেক ভালো করছে। ফোন নম্বর দিয়ে বলছেন, নতুন বই বের হলেই যেন তাকে জানানো হয়। আমি পাশ থেকে শুনছি, আর আমার চোখের জল বাধা মানছে না। গত কয়েকদিন ধরে যখন রাতে সবাই ঘুমিয়ে পড়ে, একা হই, ছেলেমেয়ের গায়ে হাত রাখি। কেমন যেন কেঁপে কেঁপে উঠি। শহীদ আবরার গত ক’দিন দেশের কোটি বাবা-মাকে কাঁদিয়েছেন। আর আবরারের মায়ের আর্তনাদ? ‘সকালে নিজ হাতে জামা আয়রন করে পরিয়ে দিয়েছিলাম। চালের রুটি ও গোশত রেঁধে ব্যাগে দিয়েছিলাম। নিজে রিকশা নিয়ে ছেলেকে বাসে উঠায় দিলাম। ঘণ্টায় ঘণ্টায় খোঁজ নিচ্ছি, বাবা কতো দূর। সেই বাবা আমার দূরে চলে গেলো। রুটি-গোশত খেতে পেরেছিলো কিনা জানি না। সেই ছোট থেকে ২২ বছর ধরে ছেলেকে বুকে আগলে রেখেছিলাম।’
আবরারের বাবার হাহাকার? ‘বাবারা, তোমরা আমার ছেলেটাকে পিটিয়ে মেরে ফেললা। না জানি কতো কষ্ট হইছে তার।’

আবরারের হত্যাকারীরা কি বলছে জবানবন্দিতে? ‘সিনিয়র জুনিয়র যে-ই হোক, আমরা তাদের এভাবে পেটাতাম। আবরার মারা গেছে দুর্ঘটনাক্রমে। আমাদের মতের সঙ্গে না মিললে কাউকে পিটিয়ে বের করে দিতে পারলে ছাত্রলীগের হাই কমান্ড আমাদের প্রশংসা করতো। সিস্টেমটাই আমাদের এমন নিষ্ঠুর বানিয়েছে।’ আর মা হয়ে বিচার করতে চাইছে যে ডাইনি, হত্যাকারীদের রাজনৈতিক মা, তিনি? বলছেন, ‘আবরার নিয়ে যারা এতো হৈচৈ করছেন সনি হত্যার সময় কোথায় ছিলেন?’ আপনাদের মনে আছে ২০১০ সালের দিকে অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, জাফর ইকবালসহ পাঁচ আওয়ামীপন্থী বুদ্ধিজীবীর ছাত্রলীগের খুনোখুনি নিয়ে পত্রিকায় বিবৃতি দেয়ার কথা? সেই বিবৃতি পড়ে ছাত্রলীগের সাংগঠনিক নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষেপে গিয়ে বলেছিলেন, শিবির যখন খুন করে তখন তারা কোথায় থাকেন? সংক্ষেপিত। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত