প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কর্মকর্তার খামখেয়ালিপনায় কেটে ফেলা হলো শতাধিক গাছ!

ডেস্ক রিপোর্ট : কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয় বিনা কারণে শতাধিক গাছ কেটে সাবাড় করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। দীর্ঘদিন ধরে উক্ত কার্যালয়ে বড় বড় এসব গাছগুলির সুশীতল ছায়ায় মনোরম পরিবেশ বিরাজ করছিল উল্লেখ করে স্থানীয়রা জানান, হঠাৎ কোন কারণ ছাড়াই গাছ গুলো কেটে ফেলা হয়েছে। এ নিয়ে কক্সবাজারের পরিবেশ আন্দোলন কর্মী ও সুশীল সমাজের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। দৈনিক দেশ রূপান্তর

কক্সবাজার পরিবেশ ও বন সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি দীপক শর্মা দীপু বলেন, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মাহবুব আলম তালুকদার যোগদান করেই গাছগুলো কেটে ফেলেছেন। এতে করে কক্সবাজার শহরের জন্য পরিবেশের ক্ষতির কারণ হবে।

তিনি বলেন, বড় বড় গাছের ছায়ায় শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের অফিসটি দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করত। এখানে অনেক পাখির আবাসস্থলও ছিল। একজন কর্মকর্তার খামখেয়ালিপনার কারণে শতাধিক মাতৃগাছের প্রাণ গেল। পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি হলো।

সূত্র জানায়, গাছের ডালপালা কাটার নাম দিয়ে শতাধিক বড় বৃক্ষ কাটা হয়েছে। এর বেশির ভাগই মেহগনি জাতের মাতৃগাছ। এই গাছ কাটার জন্য কোন দরপত্র আহ্বান করা হয়নি। পরিবেশ অধিদপ্তরের কোন ছাড়পত্রও নেয়া হয়নি। স্থানীয় বন বিভাগকেও জানানো হয়নি।

মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উক্ত অফিসের আঙিনায় থাকা শতাধিক বৃক্ষ কেটে তা টুকরো করে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। আরও কয়েকটি গাছ কাটার জন্য শ্রমিকরা প্রস্তুতি নিচ্ছে।

গাছ কাটার কাজে নিয়োজিত একজন শ্রমিক জানান, কর্তৃপক্ষের আদেশে তারা বড় আকারের অর্ধশত মেহগনি গাছ কেটেছে। এছাড়াও ছোট আকারের কিছু গাছও কাটা হয়েছে। গাছের গুঁড়িগুলো কি করা হবে তা কর্তৃপক্ষ জানে।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মাহবুব আলম তালুকদার বলেন, অফিস ভবনের সংস্কার কাজ চলছে। এই কাজের অংশ হিসাবে অফিস আঙিনায় সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ করা হবে।

তিনি বলেন, অফিস আঙিনায় এত বেশি গাছ হয়েছে যে ভবনের ওপর সূর্যের আলো পড়ে না। তাই কিছু গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। আরও কিছু গাছ কাটা হবে। প্রয়োজনে সেখানে নতুন গাছ লাগানো হবে। গাছগুলো কাটা ও বিক্রির জন্য কোন টেন্ডার দেয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার বলেন, নিয়ম মেনেই গাছ কাটা হয়েছে। তবে বন বিভাগ ও পরিবেশ ছাড় নেয়া হয়নি বলে তিনি স্বীকার করেন।

এই বিষয়ে কক্সবাজারের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা হ‌ুমায়ূন কবির বলেন, নিয়ম অনুযায়ী সরকারি ও বেসরকারি কোন গাছ কাটতে হলে বন বিভাগের কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হয়। বন বিভাগের কর্মীরা সরেজমিনে গিয়ে গাছের পরিমাপ করে মূল্য নির্ধারণ করেন। সরকারি একটি ফি নিয়ে গাছ কাটার অনুমতি দেয়া হয়। শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয়ের আঙিনায় গাছ কাটার বিষয়ে বন বিভাগকে অবহিত করা হয়নি।

কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. নুরুল আমিন বলেন, গাছ কাটার বিষয়টি মূলত বন বিভাগ দেখে। এতে আমাদের কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। তবে, বৃক্ষ নিধন অপরাধ। যে কাটুক না কেন এটি পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি।

সর্বাধিক পঠিত