প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আবরার, দ্যা ক্যাশ ক্রপ

ফেসবুক থেকে নেয়া : আবরার ইস্যু নিয়ে না লেখার একশটা কারণ দেখানো যেতে পারে। তবে প্রথম কারণ জানতে চাইলে, আমি বলব, এই টপিকে লিখে বাজার পাওয়া যাবে না। বাজার পাওয়া বলতে, মন দিয়ে পড়া বোঝাচ্ছি। মৃত্যুর পর থেকে কমবেশি সবাই, ‘উহু’ ‘আহা’ মার্কা স্ট্যাটাস দিচ্ছে। ‘কি বীভৎস’ ‘আমরা কি হয়ে যাচ্ছি’ জাতের স্ট্যাটাসে মার্কেট সয়লাব। এই মার্কেটে কিছু লিখে, আই মিন, আলাদা কিছু লেখার অপশনই কেউ রাখেনি। ফলে যাই লিখি না কেন, চর্বিত চর্বন হতে বাধ্য। আর তেমন হলে, হিট, লাইক, শেয়ার কিছুই পাওয়া যাবে না। শেয়ার দেয়াটাই বৃথা।

তাই পড়তে বসলাম। রিয়েলি একঘেয়ে। তারচেয়েও বেশি হচ্ছে ইরিটেটিং। ‘মেধাবী’ শব্দের বেশ আধিক্য। বোঝা যাচ্ছে না, অমেধাবী মরাটা বেশি সহনীয় কিনা। আরও একটা ব্যাপার বুঝে উঠতে পারছি না, না পিটিয়ে মারলে কি মৃত্যুটা প্যালেটেবল হত? আহা উহু কম হত? কিংবা মার্কেট কম পেত?

ছাত্র রাজনীতি বন্ধ হবে কি না, এই নিয়েও দেখলাম পাবলিক বেশ চিন্তিত। অ্যাজ ইফ, ছাত্র রাজনীতি ছিলো । এই পাবলিকগুলোকে নিয়ে হয়েছে সমস্যা। এদের ধারণা, ছাত্র রাজনীতি বন্ধ হলে, সরকারি দলের ছাত্র সংগঠনের একচেটিয়া আধিপত্য হয়ে যাবে। আচ্ছা, এখন কার আধিপত্য? অন্য দলগুলোর ছাত্র সংগঠনের দেখা পান? কি অবস্থায় আছে তারা? বন্ধ হলে বা না হলে, এদের অবস্থার কি আদৌ কোন পরিবর্তন হবে? যাই হোক, পাগলের সুখ মনে মনে। যদি এসব করেই মজা পায়, করুক।

আমি অবশ্য খুঁজছিলাম নতুনত্ব। কার স্ট্যাটাসে নতুনত্ব পাওয়া যায়। ‘ছাত্রলীগ’ ‘মনস্টার’ ‘হাইব্রিড’ এসব শব্দই ঘুরে ফিরে চলছে। ক্যাসিনো আর রাব্বানী ইন্সিডেন্টের পরে, ফেসবুক বাহিনী ধরে নিয়েছে, আওয়ামীলীগ নিয়ে কিছু বলা না গেলেও, ছাত্র আর যুবলীগ নিয়ে কটাক্ষ করা কিছুদিনের জন্য হালাল করা হয়েছে। ফলে কমবেশি সবাই ঝাঁপিয়ে পড়েছে। ‘একাত্তর বছরেও যুবক’ মার্কা স্ট্যাটাস এখন প্রায় রুটিন। নিউজফিডে স্ক্রল করলেই দেখা যাবে, এই লাইনে কেউ না কেউ, কিছু না কিছু বলে ফেলেছে। হঠাৎ করেই সবার মেরুদণ্ড হাড্ডি গজিয়ে গেছে।

তবে নড়বড়ে মেরুদণ্ডের ফেসবুকাররা এখনও ‘হাইব্রিড’ আর ‘ছাত্রলীগের অতীত’ এই টপিকেই ঘোরাফেরা করছে। ‘ছাত্রলীগের ঐতিহ্য’ টপিকটা পুরনো হলেও হাইব্রিডের বাজার বেশ ভাল। আওয়ামীদের সরাসরি চটানোও হচ্ছে না, আবার ‘মেরুদণ্ড আছে’ বলে জানান দেয়াও যাচ্ছে। এই লেবেলটা সরকারের সরাসরি বিপক্ষেও যায় না, আবার স্ট্যাটাসটায় একটা বেশ বিপ্লব বিপ্লব ফ্লেভার আসে।

তবে বাজার মাতিয়েছে দুজন। চট্টগ্রামের মেয়র আর তসলিমা ম্যাডাম। মেয়র সাহেব নোবেল প্রাইজ আর ষড়যন্ত্র তত্বের সুন্দর একটা ককটেল আমদানী করেছেন। ‘বিএনপি জামাতের ষড়যন্ত্র যখন অনেকটা একঘেয়ে হয়ে গিয়েছিলো, তখন নোবেল প্রাইজ তত্ত্ব, বেশ নতুনত্বের স্বাদ দিয়েছে। হ্যাটস অফ।

লাস্ট বাট নট দ্যা লিস্ট, তসলিমা নাসরিন। শি ইজ রিয়েলি জিনিয়াস। এই একঘেয়ে টপিকের বাজারে, স্ট্যাটাসে কি কি মশলা মেশালে, আলোচনার টপ চার্টে জায়গা করে নেয়া যায়, তা দেখিয়ে দিয়েছেন উনি। স্ট্যাটাসে কি নেই। ধর্ম, শিবির, সহানুভূতি, ধিক্কার। সবই আছে। গ্রামাটিক্যালি অনেকটাই কারেক্ট। ছাত্রলীগ যে লাইনে ডিফেন্ড করছে ব্যাপারটা, সে লাইনটা তিনিও নিয়েছেন, ‘শিবির করে’ । সাথে এক চিমটি ‘নিব্রাস’ আর এক মুঠ ‘পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ’ বিঙ্গো। স্ট্যাটাস হিট। আলোচনার তুঙ্গে। আর কি চাই?

এনিওয়ে, আবরার প্রশ্নে আমার তেমন কোণ বক্তব্য নাই। ছাত্র রাজনীতি নিয়েও নাই। আসলে আবরারদের মৃত্যু আমাদের কিছুদিন বিনোদন দেয়া ছাড়া আর কিছুই দেয় না। না বিবেক, না দূরদৃষ্টি, না সেলফ রেস্পেক্ট। যা দেয়, তা হচ্ছে, ‘আমি তো বেঁচে আছি, এই অনেক। সম্পাদনা : মুসবা

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত