প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সেজেছে পাহাড়ি গ্রাম, ফানুসে রঙিন হবে রাতের আকাশ

মো. নুরুল করিম, লামা প্রতিনিধি: শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে বান্দরবানের লামা উপজেলায় বসবাসরত বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ওয়াগ্যোয়েই পোয়েঃ বা প্রবারণা পূর্ণিমা।

ওয়াগ্যোয়েই পোয়ে মার্মা শব্দ, এর অর্থ উপবাসের সমাপ্তি। অন্য অধিবাসীরা একে ওয়াহপোয়েঃ বলে থাকেন। বৌদ্ধ ধর্মালম্বীরা আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে আশ্বিনী পূর্ণিমা পর্যন্ত তিন মাস বর্ষব্রত (উপবাস) থাকার পর ধর্মীয় গুরুদের সম্মানে এ বিশেষ উৎসব পালন করে থাকে।

বৌদ্ধ ধর্মালম্বী বড়ুয়া, চাকমা, তঞ্চঙ্গারাও এ উৎসব পালন করেন। তিনদিন ব্যাপী এ উৎসবকে ঘিরে উপজেলার প্রত্যন্ত পাহাড়ী পল্লীগুলো সেজেছে নতুন সাজে। চলছে আনন্দের বন্যা।

পাশাপাশি উপজেলার প্রতিটি হাটবাজারে ধুম পড়েছে বেচাকেনার। প্রতি বৌদ্ধ বিহার ও পাড়াগুলোতে সরকারি আর্থিক অনুদানও প্রদান করা হবে বলে জানিয়েছেন. উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মজনুর রহমান। পাশাপাশি প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থাও।

সকালে বিশেষ প্রার্থণার মধ্য দিয়ে শুরু হবে উৎসবের প্রথম দিন। পরে ছোয়াইং দানের পর সন্ধ্যায় শুরু হবে ফানুস উড়ানো ও নদীতে জাহাজ ভাসানোর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উৎসব শুরু হবে।

চীনা কাগজ দিয়ে বিভিন্ন রং, বর্ণ এবং সাইজের ফানুস তৈরি হয়। পরে সলতে দিয়ে তৈল সহকারে তা উড়ানো হয়। এ সময় সূত্রপাত ও কীর্তন হয়, যুবকেরা নৃত্য করেন। ফানুস উড়ানোর দিকটা ধর্মীয়।

বৌদ্ধ ধর্মে ফানুস উড়ানো দেখাও পূণ্যের কাজ। ফানুস বাতি উড়ানোর প্রতিযোগিতা সকলকে আকৃষ্ট করে। বিশাল আকৃতির ফানুস বাতি আকাশে উড়ানোর দৃশ্য দেখার জন্য বিভিন্ন ধর্ম-বর্ণের লোক এমনকি বহু বিদেশি পর্যটকও ।ভিড় জমিয়ে থাকে।

উৎসবের দিনগুলোতে প্রতিদিন বিকাল থেকে ফানুস উড়ানো শুরু হয়। ফানুস উড়ানোর আগে রথে জ্বালানো হবে হাজার হাজার মোমবাতি। এ জন্য স্থানীয় ক্যাং ও বৌদ্ধ মন্দিরগুলোকে সাজানো হয় বর্নিল সাজে।

শিশু কিশোর ও তরুণ তরুণীরা নতুন পোষাক পরিধান করে এই দিনগুলো পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে বেড়াবে বন্ধুদের সঙ্গে। উৎসবের দ্বিতীয় দিন আগামীকাল রবিবার সকাল থেকে বিহার ভান্তের মাঝে ছোয়াইং দানসহ ধর্ম দেশনাসহ দায়ক দায়িকা, তরুণ তরুণীরা সোমবার সন্ধ্যায় মাতামুহুরী নদীতে হাজার হাজার বাতি ভাসিয়ে ও জাহাজ ভাসিয়ে প্রদীপ পূজা করবেন।

এছাড়া বৌদ্ধ বিহারে অবস্থানরত উপাসক উপাসিকাকে তরুণ তরুণীরা ঢোল বাজনা বাজিয়ে গোসলের আয়োজন করবেন। উপজেলার একটি পৌরসভা ও ৭টি ইউনিয়নের ১৮-২০টি পাড়ার কেয়াংগুলোতে পৃথকভাবে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।

বিশেষ করে লামা উপজেলার কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ বিহার ছাড়াও গজালিয়া, রুপসীপাড়া এবং পৌর এলাকার সাবেক বিলছড়ি, ছাগল খাইয়া বৌদ্ধ বিহারে জাঁকজমকভাবে এ উৎসব পালন হবে বলে জানা গেছে। বিহারে বিহারে ভান্তেগণ দায়ক দায়িকার উদ্দেশ্যে ধর্ম দেশনা ও পঞ্চশীলের মধ্য দিয়ে এউৎসব শেষ হবে। সম্পাদনা: জেরিন আহমেদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত