প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অসময়ে লবণাক্ত জমিতে তরমুজ চাষ, খুলে গেছে সম্ভাবনার নতুন দ্বার

মাজহারুল ইসলাম : খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার চাঁদগড়ে গ্রামের জয়ন্ত বিশ্বাস মাছের ঘেরের পারের লবণাক্ত জমিতে মৌসুম ছাড়াই ফলিয়েছেন সুস্বাদু তরমুজ। এরই মধ্যে লক্ষাধিক টাকার তরমুজ বিক্রি করেছেন জয়ন্ত। এখনো তিনি আরও লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি করতে পারবেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য মতে, খুলনার ডুমুরিয়া ও বটিয়াঘাটা উপজেলায় ৩০ হেক্টর জমিতে মৌসুমের পরে তরমুজ চাষ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আড়াই লক্ষাধিক মাছের ঘেরের পাড়ে মৌসুমের পর তরমুজ চাষ সম্প্রসারিত করা গেলে এ অঞ্চলের কৃষির বৈপ্লবিক পরিবর্তনের পাশাপাশি অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ ছাড়া পর্যায়ক্রমে প্রযুক্তিটি দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেয়া গেলে বাড়তি আয়ে লাভবান হবে কৃষক। বাংলাদেশপ্রতিদিন

সরেজমিন দেখা গেছে, ঘেরের নিচে মাছ চাষ হলেও পাড় থেকে ৫-৬ হাত পর্যন্ত পানির ওপরে মাচা করে দেয়া হয়েছে। বাঁশ ও নাইলন সুতো দিয়ে তৈরি মাচাতে ঝুলছে তরমুজ। প্রতিটির ওজন ৩ থেকে ৫ কেজি। আর নিচে পানিতে গলদা চিংড়িসহ কার্প জাতীয় মাছও রয়েছে। একই সঙ্গে ধানও রয়েছে জমিতে। জয়ন্ত বলেন, শুরুতে অনেক ধরনের সবজি চাষের চেষ্টা করেছি। কিন্তু জমিতে লবণাক্ততার মাত্রা অনেক বেশি থাকায় গাছ বাঁচতো না। এবার মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সরাসরি তত্ত্বাবধানে মৌসুমের পরে এসে তরমুজ চাষ করেছি। ভাবতেও পারিনি এমন ফলন হবে। প্রতিটি তরমুজ গড়ে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি করতে পারছি। তিনি আরও জানান, পুরো ঘের ৪ বিঘা হলেও ঘেরের পারে যে অংশে তরমুজ চাষ করেছেন তা ৩৫ শতাংশের বেশি হবে না।

মৃত্তিকা সম্পদ ইনস্টিউিট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় এলাকার ১৮ জেলার ৯৩টি উপজেলার প্রায় ১০ লাখ ৫৬ হাজার হেক্টর জমি বিভিন্ন মাত্রায় লবণাক্ততায় আক্রান্ত। এ কারণে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমি পতিত অবস্থায় থাকে। পরবর্তীতে এই উপকূলীয় এলাকার খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলায় আশির দশক থেকে জমির চার পাশ উঁচু করে ঘের তৈরি করে মাছ চাষ শুরু করেন কৃষকরা। তবে ওই সময় ঘেরের পাড় পতিত থাকতো। ২০০৪ সালে মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী ও বর্তমান পরিচালক বিধান কুমার ভান্ডার বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের অর্থায়নে ঘেরের পাড়ের মাটি ও সার ব্যবস্থাপনার ওপর গবেষণা করেন এবং মাটি  ও সার ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেন। এ প্রযুক্তিতে ঘেরের পাড়ের উপরিস্তরের মাটি পাড়ের ওপরে রাখার কথা বলা হয়। এ ছাড়া সুষম সার ব্যবহারের জন্য মাটি পরীক্ষা করে সার প্রদানের সুপারিশ করেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের খুলনা বিভাগীয় উপপরিচালক পঙ্কজ কান্তি মজুমদার বলেন, ঘেরে তরমুজ চাষ সম্ভব। অসময়ে এমন চাষ ব্যপক সাড়া ফেলেছে।

এমআই/এসবি

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ