প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ছাত্র-শিক্ষকের লেজুড়বৃত্তিভিত্তিক রাজনীতি যতোদিন বন্ধ না হবে ততোদিন আবরাররা মার খেতেই থাকবে

 

কামরুল হাসান মামুন : বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যেসব আবাসিক হলে টর্চার সেল আছে বলে শুনছি সেগুলো বন্ধের কোনো উদ্যোগ কি চোখে পড়ছে? সারাবিশ্বে প্রথম বর্ষের ছাত্রদের হলে সিট বণ্টনের ক্ষেত্রে সর্বাধিক প্রায়োরিটি পায়। কারণ প্রথম বর্ষের ছাত্ররাই সবচেয়ে। এরা বয়সে ছোট। অনেকের ক্ষেত্রে প্রথমবারের মতো বড় শহরে বাবা-মায়ের আশ্রয়ের বাইরে জীবনযাপন। এ সময়টিকে যেভাবে ওদের প্রতি নজর রাখা উচিত তার সিকি শতাংশের সিকি শতাংশও কি আমরা পালন করছি? আজকেই একটি বড় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলে সরকারি ছাত্র সংগঠনের হাতে নিরীহ ছাত্রদের টর্চারের একটি ভিডিও দেখলাম। ছোট ছোট ছেলেদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করছে তাদেরই সিনিয়র ক্লাসের ছাত্র নামধারী গু-া মাস্তানরা। পুরোটা ভিডিও দেখার ক্ষমতা আমার হয়নি। আমি জেনেছি এটিই এখন আমাদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিত্তনৈমিত্তিক ঘটনা। তাহলে হল প্রশাসন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কি করেন? আমার কাছে শুনুন কি করে।

তারা তাদের আপন দলের ভবিষ্যৎ নেতা আর অনেক ক্ষেত্রে তাদের ভাগ্য নির্ধারক ভাবেন। তাই এসব কাজের দায় তারা এড়াতে পারেন না।তাই ছাত্র-শিক্ষকের লেজুড়বৃত্তিভিত্তিক রাজনীতি যতোদিন বন্ধ না হবে ততোদিন আবরাররা মার খেতেই থাকবে। ততোদিন আবরাররা মরতেই থাকবে। পৃথিবীর কোনো দেশে কি এ রকম লেজুড়বৃত্তি রাজনীতি আছে? ছাত্ররা থাকবে স্বাধীন মুক্ত যাতে করে মুক্ত চিন্তা করতে শিখে। যখন যেখানেই অন্যায় দেখবে প্রতিবাদ করতে শিখে। কে খুশি হবে আর কে বিরাগ হবে সেটা দেখা ছাত্রের কাজ নয়। যেখানে এই লেভেলের লেজুড়বৃত্তি রাজনীতি নেই সেখানে কি আন্দোলন হয় না? প্রতিবাদ হয় না? অন্যায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে হলে কি মূল রাজনৈতিক দলের অংশ হতে হবে? তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে হবে? এখন যেই ছাত্রদের রাজনীতি হচ্ছে সেটা কি ছাত্র রাজনীতি? এখন শিক্ষকদের যেই রাজনীতি হচ্ছে সেটা কি শিক্ষক রাজনীতি। এগুলো সব আপন লাভের আশায় নিজের বিবেককে বন্ধক দিয়ে অপরাজনীতি করছে। এদের চিহ্নিত করে বিতাড়িত করতে হবে। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত