প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আপনি আওয়ামী লীগ হলে শিবিরের হাতে মরবেন বাট নট দ্য রিভার্স গেম

অদিতি ফাল্গুনী গায়েন : ‘ঢাকা ট্রিবিউন’ ও ‘বাংলা ট্রিবিউন’ পত্রিকা পরিবার আমার খুব ভালোবাসা ও সম্মানের পত্রিকা। ‘ঢাকা ট্রিবিউনে’র কলাম পাতায় বা ‘বাংলা ট্রিবিউনে’র সাহিত্য পাতায় লিখেছি মাঝে মাঝে। ট্রিবিউন আয়োজিত ‘ঢাকা লিট ফেস্টে’ বহুবার অংশ নিয়েছি। শুধু সেজন্য না। এক ঝাঁক উদ্যমী ছেলেমেয়ে সেখানে কাজ করে। সেই ‘ঢাকা ট্রিবিউন’ কি সত্যিই সিসিটিভির ফুটেজে না থাকা ও হত্যার সময় বুয়েটের হলেই অনুপস্থিত অমিত সাহা ও মোহাম্মদ অনিক সরকারকে ‘অনিক সরকার’ ধরে নিয়ে দুই হিন্দু ছাত্রই হত্যার নেতৃত্ব দিয়েছে এমন দায়িত্বহীন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে নাকি এটা আসলেই পিনাকী ভট্টাচার্যের বানানো স্ক্রিনশট? দ্বিতীয় স্ক্রিনশট দিচ্ছি আবরারের আর একটি পোস্টের। ভারতের সঙ্গে গোলামী চুক্তির কথা বিভ্রান্ত ভাসানীপন্থী বামরাও বলেন এবং আমি কিছু মনে করিনি। এই পোস্টে আবরার শহীদ মিনারে ‘নারায়ে তকবির’ বলার পক্ষে পোস্ট দিয়েছিলো। তারপরও… শিবিরকেও হত্যা করা যায় না। সে যতোই শিবির দ্বীপ থেকে অভিজিৎ সবাইকে হত্যা করুক না কেন।

তবে আরিফ রায়হান দ্বীপ থেকে অভিজিৎ রায়রা বুয়েটের শিবিরদের হাতে খুন হবার সময় এতো মাতম ছিলো না চারপাশে।
তবে একটা মুশকিল আছে। ২০০৮-১৩ এর পর দু-দু’বার একরকম বিনা ভোটারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ তৃতীয়বারের মতো টানা ক্ষমতায়। তবে একটা সময় ছিলো যখন সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর একুশ বছর ক্ষমতায় দলটি ছিলো না। তখন শিবিরের হাতে প্রায় প্রতিদিনই লীগের ছেলেরা মরতো। মানুষ ধরেই নিয়েছিলো ‘সেক্যুলার/প্রগতিশীল’দের কপাল হচ্ছে ‘মরা।’ প্রতিবাদে কজন মানুষ কবিতা পড়বে, স্লোগান দেবে আবার যে কে সেই। আজ পাশার দান উল্টে যাওয়াতেও কি রাগ বেশি? এখন ‘সেক্যুলার’রাও পাল্টা মারছে এটা কি ক্ষোভের কারণ? অবশ্যই ‘সেক্যুলার’দেরই সেরা মানুষ হওয়ার চেষ্টা করা উচিত।

তবে ১৯৭৫-৯৬ সময়টার পাবলিক পারসেপশনই কি লীগের হাতে খুন-চুরি-লুট দেখলে উত্তেজিত হয়? অন্যরা করলে ততো হয় না? ঠিক যেমন আমার পরিবারের মানুষ থেকে আমার বন্ধু-বান্ধবদেরও কেউ কেউ মনে করেন যে যেহেতু আমি ‘বাংলা সাহিত্য করি,’ আমি সারা জীবন অল্প বেতনের কাজ করবো, সাধু-সন্তের মতো সুতির শাড়ি পরে চিড়া-মুড়ি খাবো। যখনি আমি খুব বড় বেতনের বহুজাতিক কাজ পেয়েছি বা করেছি তারা অস্বস্তি বোধ করেছে। এটা আমার প্রতি যে ভালোবাসা বা সম্মানের অভাব তা নয়। তারা হয়তো মনেই করে যে বাঙালি সাহিত্যিক মানেই অন্তর্জালে খুব দক্ষ হবে না, বিশ্বায়নের ভাষা একদম জানবে না এবং পারলে বা জানলেও কম পয়সার কাজ করবে ও মানিক-নজরুলের মতো না খেয়ে মরবে। এমন বন্ধুদের কেউ কেউ বা পরিবারের মানুষও সেধে আমাকে অনেক সময় ক্যারিয়ারে ভুল সিদ্ধান্ত নিতেও উসকেছে। তা ব্যপারটা ওই আর কি। আপনি বাঙালি সাহিত্যিক। আপনি কম আয় করবেন, কম খাবেন পরবেন। যদিও দুঃখ আর কৃচ্ছ্রতার সময়ের কষ্ট আমার হাড়-মাংসের উপর দিয়েই যায়। আপনি আওয়ামী লীগ হলে শিবিরের হাতে মরবেন বাট নট দ্য রিভার্স গেম। এগেইন প্রোটেস্ট আবরার কিলিং। ৮ অক্টোবর রাতে প্যান্ডেলে ঘোরার পর ফিরে আসা জ্বরের গলা ব্যথা, জ্বালা করা চোখ নিয়ে আবার ফেবুতে পোস্ট দিলাম। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত