প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আওয়ামী লীগ না করলে তাকে মেরে ফেলা যাবে?

 

মওলি আলম : আবরার ফাহাদ নামের ছেলেটার বাবা ঢাকা মেডিকেলের মর্গে মৃত ছেলের দেহের পাশে দাঁড়িয়ে বলেছেন, ‘আমি আওয়ামী লীগ করি, আমার পরিবারের সবাই আওয়ামী লীগ করে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমি আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই’। বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে এই কথা শুনে আমি লজ্জিত হয়েছি। প্রতিটা বাংলাদেশিরই এ কথা শুনে লজ্জিত হওয়া উচিত। অথচ খেয়াল করে দেখছি, অনেকেই বলছেন, ছেলেটার পুরো পরিবার আওয়ামী লীগ করে অথচ ছেলেটাকে এভাবে মেরে ফেলা হলো। কী অবাক কা-! এর মানে কী? আওয়ামী লীগ না করলে তাকে মেরে ফেলা যাবে? কিংবা আওয়ামী লীগ না করলে বিচার পাওয়া যাবে না? একজন পিতা, যার ছেলেকে কিছুক্ষণ আগে হত্যা করা হয়েছে, সে পিতাকে তার মৃত ছেলের দেহের পাশে কেঁদে কেঁদে বলতে হচ্ছে ‘আমি আওয়ামী লীগ করি, আমার পরিবার আওয়ামী লীগ করে। আমি আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই’। মৃত ছেলের পাশে দাঁড়িয়ে এই পিতাকে রাজনৈতিক পরিচয় দিতে হচ্ছে। আপনাদের কি একটুও লজ্জা হচ্ছে না? সভ্যতার কোন পর্যায়ে আসলে আপনারা বাস করছেন? আর আপনার যারা বলছেন আবরার ফাহাদ মেধাবী ছিলো, ঢাকা মেডিকেলে চান্স পেয়েছিলো, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়েছিলো, বুয়েটেও চান্স পেয়ছে। এরপর হা-হুতাশ করে বলছেন, এমন মেধাবী ছেলেটাকে মেরে ফেললো। এর মানে কি? ছেলেটা যদি মেধাবী না হতো, বুয়েটে না পড়তো, তাহলে কি তাকে এভাবে মেরে ফেলা যেতো?

দেখুন মেধাবী আবরার ফাহাদের মায়ের এখন যেমন কষ্ট হচ্ছে, একজন সাধারণ ছেলে, যে হয়তো ঢাকাতেই জীবনে আসেনি, গ্রামের কোনো কলেজে পড়ছে, কিংবা মফস্বলের কোনো ছোট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে, তাকে যদি মেরে ফেলে হতো, তার মায়ের কষ্ট কি এর চাইতে কম কষ্ট হতো? দেখুন আমাদের সমস্যা হচ্ছে আমাদের আবেগ, আমাদের অনুভূতি, সব কিছুই নির্ভর করে সেই মানুষটার সামাজিক অবস্থানের উপর। সে যে মানুষ ছিলো, তার ওই মানুষ পরিচয়টা আর আমাদের চোখে পড়ে না। চোখে পড়ে সে কি মেধাবী ছিলো, সে কি ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার ছিলো, নইলে সে কোন দল করতো। আমার ভালোবাসার মানুষ আমার কাছে পৃথিবীর সবচাইতে প্রিয় মানুষ। সে হয়তো আপনাদের কাছে মেধাবী নাও হতে পারে, কিন্তু আমার কাছে তো সে এই যে সম্প্রতি যেই তিনজন বিজ্ঞানী চিকিৎসা বিজ্ঞানে নোবেল পেয়েছেন, তাদের মতো মেধাবী। এখন তাকে ধরে যদি কেউ মেরে ফেলে তখন আপনার হয়তো মনে হবেÑ ঠিক আছে, একটা সাধারণ ছেলেকে মেরে ফেলেছে। এ আর এমন কি। কিন্তু আমার কাছে তো সে আমার প্রাণের চাইতেও প্রিয়। মানুষকে মানুষ ভাবতে শিখুন। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, মেধাবী নয়। সভ্যতা এবং অসভ্যতার মাঝে একটা ফাইন লাইন আছে। সেটা বুঝতে শিখুন। নইলে এভাবেই চলবে। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত