প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সম্রাটের বিপুল টাকার সন্ধান মেলেনি এখনো

মো. তৌহিদ এলাহী : ইসমাইল হোসেন চৌধুরীর দরবারে প্রতিদিনই জমা হতো ঢাকার অপরাধ জগতের বিপুল পরিমান টাকা। কর্তাদের ভাগের টাকা দেয়ার পর  কোটি কোটি টাকা থাকতো নিজের কাছে। সম্রাটের সেই টাকার সন্ধান করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। ইতিমধ্যেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে সম্রাটের ঘনিষ্ঠদের । প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে। সিঙ্গাপুর ও অস্ট্রেলিয়াতে টাকা পাঠানোর তথ্যও পাওয়া গেছে। বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে জানা গেছে হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠাতেন সম্রাট। সমকাল

অস্ট্রেলিয়াতে যোগাযোগ ছিলো ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর ও সম্রাটের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মমিনুল হক সাঈদের।তবে সিঙ্গাপুরেই বেশি আসা-যাওয়া ছিল তার।তাই গোয়েন্দাদের ধারণা এই দুটি দেশে টাকা থাকতে পারে তার।

প্রতি মাসে একাধিকবার সিঙ্গাপুরে যেতেন সম্রাট। সিঙ্গাপুরের অভিজাত মেরিনা বে স্যান্টস ক্যাসিনোতে জুয়া খেলতেন। সিঙ্গাপুরে তার এক গার্লফ্রেন্ডও রয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়ার কয়েক মাস আগেও সিঙ্গাপুরে গিয়ে গার্লফ্রেন্ডকে বিলাস বহুল একটি গাড়ি উপহার দেন সম্রাট। সম্রাটের আরেক ঘনিষ্ঠ সহযোগী সংসদ সদস্য নুরুনন্নবী চৌধুরী শাওন। দেশের বাইরে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে সম্রাটের সঙ্গে শাওন, সাঈদের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

সূত্রমতে, ক্যাসিনো, মাদক, অবৈধ মার্কেট-দোকান থেকে প্রতিদিনই  প্রায় তিন কোটি টাকা আদায় করতেন সম্রাট। মাসে প্রায় তিন শ’ কোটি টাকা। এই বিপুল পরিমান টাকা কোথায় রাখেন তার সন্ধান এখনও পাওয়া যায়নি।সম্রাটের কাকরাইলের কার্যালয়ে টাকা লেনদেন সংক্রান্ত একটা নথি মিললেও টাকা কোথায় রাখতেন তার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

দৈনিক প্রাপ্ত চাঁদার ভাগ-বাটোয়ারা শেষেও বিপুল টাকা থাকতো তার। বিদেশে গেলে ক্যাসিনোতে জুয়া খেলা, নারী সঙ্গ ও মদের আসরে প্রায় সময় থাকতেন সম্রাট।এসবের খরচ তিনি তার ভাগ থেকে দিতেন। দেশের বাইরে গেলেই সম্রাটের সঙ্গে থাকতেন যুবলীগ নেতা মমিনুল হক সাঈদ ও এনামুল হক আরমান।ধারনা করা হচ্ছে তাদের কাছে থাকতে পারে সম্রাটের বাইরের  টাকার তথ্য।

দীর্ঘদিন একসঙ্গে রাজনীতি করার কারণেই সম্রাটের ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন আরমান। কাকরাইলের অফিসে ও পাশের একটি আবাসিক হোটেলে পার্টি আয়োজনের দায়িত্বে থাকতেন তিনি। অন্যদিকে, খালেদ ও সাঈদ ছিলেন সম্রাটের টাকা সংগ্রহ ও ভাগ-বাটোয়ারার দায়িত্বে। সম্রাটের পক্ষে এসবের হিসাব রাখতেন যুবলীগ দক্ষিণের দপ্তর সম্পাদক এমদাদুল হক।

গ্রেপ্তারের পর এসব বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলেও সম্রাটের কাছ থেকে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। টাকার প্রশ্ন বারবারই কৌশলে এড়িয়ে গেছেন সম্রাট।

কোন দেশে কত টাকা রেখেছেন এ বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি তিনি। বরং জানিয়েছেন, তার কাছে টাকা নেই। যুবলীগের ঢাকা দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক  খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া তার সঙ্গে প্রতারণা করেছেন জানিয়ে দাবি করেছেন খালেদ অনেক মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন। কিন্তু সত্য কী, এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে নিরব ছিলেন তিনি।

র‌্যাব কর্মকর্তারা জানান, গ্রেপ্তারের পর সারাদিন অভিযান নিয়ে ব্যস্ত থাকায় সম্রাটকে সেভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করার সুযোগ হয়নি। সম্রাটকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই এসব বিষয়ে তথ্য পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। গোয়েন্দাদের ধারণা সাঈদ, এমদাদ গ্রেপ্তার হলে আরও অনেক তথ্য জানা যাবে। ইতিমধ্যে ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত সে হিসাব পাওয়া যায়নি।

গ্রেপ্তারের পর রোববার সন্ধ্যার পরেই কারাগারে পাঠানো হয়েছে সম্রাটকে। সোমবার তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে  পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে। পৃথক দুই মামলায় তার ১০ দিন করে ২০ দিনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ। এ বিষয়ে রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইনুল ইসলাম জানান, অস্ত্র আইনে দায়েরকৃত মামলাটি তদন্ত করছেন পরিদর্শক (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়েরকৃত মামলাটি তদন্ত করছেন পরিদর্শক মাসুদুল হক ভূঁইয়া। দুটি মামলায় রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। বুধবার সম্রাটের উপস্থিতিতে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনসহ রিমান্ডের শুনানি দিন ধার্য্য করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত