প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আবরার ফাহাদ বারবার ফাগুন হয়ে যাচ্ছে

 

কাকন রেজা : ‘লিখতে চাইছি পারছি না, ফাহাদ বারবার ফাগুন হয়ে যাচ্ছে’Ñ এ পর্যন্ত লিখে চুপচাপ বসে ছিলাম। এই বসে থাকা লিখতে পারছিলাম না বলে। ঝাপসা চোখে লেখা যায় না বলে। ফাগুন যেদিন খুন হয়, তার আগের রাত্রে পলাশী নিয়ে অন্যরকম একটি লেখা পড়ছিলো। যে লেখায় চিত্রিত হয়েছিলো আধিপত্যবাদের আসল রূপ। ফাগুন ছিলো সকল আধিপত্যবাদের বিরোধী। যেমন আবরার ফাহাদ, তেমনি ছিলো আমার ইহসান ইবনে রেজা ফাগুন। এক সাচ্চা গণমাধ্যমকর্মী। দেশটাকে অসম্ভব ভালোবাসতো ফাগুন। গণমাধ্যমকে বিশুদ্ধ করার প্রত্যয় ছিলো তার। সততার জোশ ছিলো ওর চোখে, দায়িত্বের হুঁশ ছিলো ওর বুকে। অন্যায়ের কাছে মাথানত না করার আপোসহীনতা ছিলো তার ভেতর। সামাজিকমাধ্যমে লিখেছিলো, ‘সিংহের মতো মরে যেতে চাই, গাধার মতন বেঁচে থাকার চেয়ে’। সে বেঁচে থাকতে পারেনি। গাধার মতন বেঁচে থাকা তার হয়ে উঠেনি, মারা গেছে সিংহের মতন।

আবরার ফাহাদের মৃত্যুটাও তাই। আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে, প্রতিবাদ করতে গিয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। এ মৃত্যু শহীদের। ফাগুন-ফাহাদরা শহীদ হওয়ার জন্যই জন্মায়। পলাশী, ব্রিটিশ আধিপত্যবাদের জন্ম হয়েছিলো যে প্রান্তরে। দু’শ বছর ব্রিটিশদের গোলামি করতে হয়েছে আমাদের। সেই আধিপত্যবাদের স্বরূপ জানতেই পড়ছিলো ফাগুন। কিন্তু তার পড়া শেষ হয়নি। যে পাতাটা মুড়ে রেখে গিয়েছিলো, তা তেমনি আছে। শুধু ফাগুন নেই। ফাহাদের অংক করাও শেষ হয়নি, অসমাপ্ত রয়ে গেছে। শেষ হয়েছে তার জীবনের অংক। মরে গিয়ে ফাগুন আর ফাহাদ সেই ইতিহাস বাকিটা আর অংকের ফল মেলানোর দায়িত্ব দিয়ে গেছে আমাদের। ওরা দেশটা ভালোবাসতো বলেই চলে গেছে। ‘প্যাট্রিয়ট’দের এভাবেই মেরে ফেলা হয়। তবে আমরা বেঁচে আছি। যে বেঁচে থাকা অন্যদের বাঁচানোর জন্য। আর ফাগুন-ফাহাদ যারা রয়েছে তাদের বাঁচাতে হবে। প্রয়োজনে বলতে হবে, ‘এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না/এই জল্লাদের উল্লাসমঞ্চ আমার দেশ না/এই বিস্তীর্ণ শ্মশান আমার দেশ না/এই রক্তস্নাত কসাইখানা আমার দেশ না/আমি আমার দেশকে ফিরে কেড়ে নেব’।

আমাদের এ দেশকে ফিরে কেড়ে নিতে হবে। প্রিয় স্বদেশভূমিকে মানুষের আবাসযোগ্য করতে হবে। মানুষের জন্য নির্ভয় করতে হবে। ফাগুন আর ফাহাদ যা জানিয়ে গেছে, তা আমাদের করতেই হবে। লেখক : সাংবাদিক, কলাম লেখক ও নিহত সাংবাদিক ইহসান ইবনে রেজা ফাগুনের বাবা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত