প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘ভারতকে শুধু উজাড় করে দিয়েই আসেন, আনতে পারেন না’

ডেস্ক রিপোর্ট  : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফর প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী যতবার ভারত সফরে যান ততবার আমরা হতাশ হই। কারণ উনি ভারতকে দিয়ে আসেন উজাড় করে, কিন্তু আনতে পারেন না কিছুই। বৃহস্পতিবার দুপুরে এক মানববন্ধনে তিনি বলেন, ভারতে গেছেন প্রধানমন্ত্রী। ভারতের সাথে এই সরকারের নাকি সবচেয়ে সুউচ্চ সম্পর্ক, পর্বতের শৃঙ্গের মতো সম্পর্ক। তো বার বার আমরা হতাশ হই; যত বার যান দেখি যে, আমাদের মূল সমস্যাগুলো সমাধান হয় না। কিন্তু আমরা দিয়ে আসি একেবারে উজাড় করে।

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এই মানববন্ধনের আয়োজন করে সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শওকত মাহমুদের সভাপতিত্বে ও ডা. জাহিদ হোসেনের পরিচালনায় মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন বিএফইউজের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, মহাসচিব এম আবদুল্লাহ, ডিইউজের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. শামসুল আলম, চিকিৎসক অধ্যাপক মোস্তাক রহিম স্বপন, কৃষিবিদ মোস্তাফিজুর রহমান, শামীমুর রহমান শামীম, শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের জাকির হোসেন, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের রফিকুল ইসলাম, নার্সেস অ্যাসোসিয়েশনের জাহানারা বেগম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজকেও জনগণ আশা করবে, জনগণের যে প্রত্যাশা- তিস্তাসহ সকল অভিন্ন নদীর পানির যে ন্যায্য হিস্যা বাংলাদেশ পাবে, সেটা সম্পর্কে অবশ্যই একটা সুখবর নিয়ে আসবেন- বাংলাদেশ পাবে। আমরা আশা করব আমাদের সীমান্তে যে হত্যা, তা বন্ধ হয়ে যাবে। ভারতের নাগরিকপঞ্জি নিয়ে তিনি বলেন, আমাদের বাংলাদেশিদের নিয়ে যখন ভারতের মন্ত্রী ও নেতারা বিভিন্ন রকম কথা বলেন যে, বের করে দেওয়া হবে আসাম থেকে, বের করে দেওয়া হবে উত্তর প্রদেশ থেকে…. তখন স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশের মানুষ হিসেবে, নাগরিক হিসেবে আমরা উদ্বিগ্ন হই। এজন্য উদ্বিগ্ন হই যে, আমাদের কোনো মানুষ ভারতে গেছে বলে আমরা মনে করি না। আমরা মনে করি এটা একটা ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের কথা যা দিয়ে বাংলাদেশের উপর আরো একটা বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করা যেতে পারে। এমনিতেই রোহিঙ্গা সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান এই সরকার করতে ব্যর্থ হয়েছে। এখন পর্যন্ত একজন রোহিঙ্গাকে তারা ফেরত পাঠাতে পারেনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান অবৈধ সরকার সবসময় জনগণের অধিকার নিয়ে খেলা করেছে, জনগণের সাথে প্রতারণা করেছে, গণতন্ত্রের সাথে বেঈমানি করেছে। এই অবৈধ সরকার দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে আটকে রেখেছে। একটাই মাত্র কারণ তারা জানেন যে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বাইরে থাকলে দুর্নীতির যে স্বর্গরাজ্য, লুটতরাজের যে স্বর্গরাজ্য, দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার যে প্রক্রিয়া সেটা বাস্তবায়ন করতে পারবেন না। বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার যে নীল-নকশা সেই নীলনকশা তারা বাস্তবায়ন করতে পারবে না। সে জন্যই আজকে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে আটক করে রেখেছে।

তিনি বলেন, এই সরকার বারবার গণতন্ত্রের কথা বলে যখনই ক্ষমতায় এসেছে তখনই তারা গণতন্ত্রকে গলাটিপে হত্যা করেছে। এটাই তাদের ইতিহাস। তাদের চরিত্রে গণতন্ত্র বলতে কোনো কিছু নেই। তাদের একটাই আছে একনায়কতন্ত্র ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করা, এক দলের শাসন ব্যবস্থা করা। ১৯৭৫ সালে বাকশাল কায়েম করার মাধ্যমে তারা একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছিল এবং আজকে দীর্ঘদিন ধরে তাদের কৌশল পাল্টে ফেলে গণতন্ত্রের সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভেঙে ফেলে সংবিধানকে লংঘন করে তারা ভিন্ন আঙ্গিকে ভিন্নভাবে একদলীয় শাসন ব্যবস্থাকে প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারো অনুকম্পায় মুক্ত হবেন না। তিনি অবশ্যই তার ন্যায্য অধিকার, তার যে জামিন পাওয়ার হক, সেই অধিকারেই তিনি মুক্ত হবেন। মিথ্যা মামলা দিয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে আটকে রাখা যাবে না। জনগণ তাদের প্রিয় নেত্রীকে অবশ্যই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বের করে আনবে ইনশাআল্লাহ।

মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে ক্যাসিনো নিয়ে খুব লাফালাফি হচ্ছে। ক্যাসিনো লুট করেছে। তারচেয়ে অনেক বড় সম্পদ লুট হয়ে গেছে। সেই সম্পদ হচ্ছে আমার ভোটের অধিকার, আমার গণতন্ত্রের অধিকার, আমাদের স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার অধিকার। কিন্তু আমাদের দেশের সম্পদ লুট হয়ে গেছে এবং লুট করেছে এই আওয়ামী লীগ সরকার।

উৎসঃ নয়াদিগন্ত

সর্বাধিক পঠিত