প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দুদকে জমা পড়া অভিযোগের ৯৩ শতাংশই অনুসন্ধানযোগ্য নয়, জানালেন দুদক

জান্নাতুল পান্না : দুর্নীতি দমন কমিশনে গত চার বছরে ৬৩ হাজার ৪৬টি অভিযোগ (লিখিত) জমা পড়েছে। এরমধ্যে মাত্র ৪ হাজার ৪০৮টি অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাকি ৫৮ হাজার ৬৩৮টি অভিযোগ দুদক আইনের তফসিলভুক্ত না হওয়ায় অনুসন্ধান যোগ্য নয়। এই হিসেবে মোট অভিযোগের ৯৩ শতাংশই অনুসন্ধানযোগ্য নয় বলে জানিয়েছে দুদক। সাম্প্রতিক এক পরিসংখ্যানে সংস্থাটি এই তথ্য জানিয়েছেন।

দুদকে গত চার বছরে জমা হওয়া অভিযোগের পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট অভিযোগ জমা পড়েছে ১৫ হাজার ৪৯৭টি। এরমধ্যে মাত্র ১ হাজার ১৯৯টি অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য গ্রহণ করা হয়েছে। অর্থাৎ মোট অভিযোগের মাত্র ৮ শতাংশ অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য গ্রহণ করা গেছে। অবশিষ্ট ৯২ শতাংশ অভিযোগই নথিভুক্ত অথবা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে বা প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়েছে।

২০১৮ সালে ১৬ হাজার ৬০৬টি অভিযোগ জমা পড়েছে দুদকে। এরমধ্যে ১ হাজার ২৬৫টি অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য গ্রহণ করা হয়। চলতি বছরও প্রায় ৮ শতাংশ অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য গ্রহণ করা হয়েছে, অবশিষ্ট ৯২ শতাংশ অভিযোগ নথিভুক্ত করা হয়েছে অথবা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়েছে। ২০১৭ সালে অভিযোগ জমা পড়ে ১৭ হাজার ৯৫৩টি। এরমধ্যে ৯৩৭টি অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য সিদ্ধান্ত হয়। এ বছর মাত্র ৫ শতাংশ অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য গ্রহণ করা হয়, অবশিষ্ট ৯৫ শতাংশ অভিযোগই নথিভুক্ত করা হয়েছে অথবা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগে পাঠানো হয়েছে। ২০১৬ সালে অভিযোগ জমা পড়ে ১২ হাজার ৯৯০টি। এরমধ্যে ১ হাজার ৭টি অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য গ্রহণ করে দুদক। এবছরও মাত্র ৮ শতাংশ অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য গ্রহণ করা হয়।

দুদক যেসব অভিযোগের অনুসন্ধান করে, সরকারি কর্মচারী বা সরকারের দেওয়া দায়িত্বপ্রাপ্ত যেকোনও ব্যক্তি বা অন্য কেউ অবৈধভাবে নিজ নামে, বেনামে সম্পদ অর্জন করলে। সরকারি কর্তব্য পালনের সময় সরকারি কর্মচারী/ব্যাংকার/সরকারি দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনও ব্যক্তি উৎকোচ বা উপঢৌকন নিলে। সরকারি অর্থ, সম্পত্তি আত্মসাৎ বা ক্ষতিসাধন করলে। সরকারি কর্মচারী উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করলে। সরকারি কর্মচারী জেনে-বুঝে কোনও অপরাধীকে শাস্তি থেকে রক্ষার চেষ্টা করলে। কোনও ব্যক্তির ক্ষতির উদ্দেশ্যে সরকারি কর্মচারীরা আইন অমান্য করলে। ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থের মানিলন্ডারিং হলে এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী/ব্যাংকারের মাধ্যমে জাল-জালিয়াতি হলে।

অনুসন্ধানের জন্য যেসব বিষয় বিবেচনায় নেয় দুদক, অভিযোগটি দুদকের তফসিলভুক্ত অপরাধ হলে। সুনির্দিষ্ট ও তথ্যভিত্তিক অভিযোগ হলে। অপরাধ সংঘটনের সময় উল্লেখ থাকলে। অভিযুক্ত ব্যক্তির অভিযোগের সঙ্গে যতটুকু সংশ্লিষ্টতা থাকে, ততটুকু। অভিযুক্ত ব্যক্তি পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা উল্লেখ থাকলে। অভিযোগের গুরুত্ব ও মাত্রা বুঝে। অভিযোগে আর্থিক সংশ্লেষের পরিমাণ থাকলে। অভিযোগকারীর নাম ও পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা থাকলে। অভিযোগটি আদালতে প্রমাণযোগ্য হতে হবে।

এ প্রসঙ্গে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, দুদক আইনের তফসিল বহির্ভূত অভিযোগ নিয়ে কাজ করার সুযোগ নেই। এরপরও দুদক অভিযোগ কেন্দ্রে (টোল ফ্রি হটলাইন-১০৬) যারা অভিযোগ করেন, তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়। কোনও কোনও ক্ষেত্রে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে অভিযোগের বিষয়টি অবহিত করা হয়।’ দুদক আইনের তফসিলভুক্ত অপরাধের বিষয়ে অভিযোগ দায়েরেরও আহ্বান জানান তিনি।

সর্বাধিক পঠিত