প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ফারাক্কা বাঁধ ভেঙ্গে দেয়ার দাবি বিহারের মন্ত্রীর

সাইফুর রহমান : রাজ্যে বন্যা পরিস্থিতি প্রকট আকার ধারণ করায় এই দাবি করেছেন বিহারের পানিসম্পদমন্ত্রী সঞ্জয় কুমার ঝা। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, হয় ফারাক্কা বাঁধ ভেঙ্গে দেয়া হোক নয়তো বন্যার পানি নিষ্কাশনের বিকল্প ব্যবস্থা নেয়া হোক। ভারী বর্ষণের ফলে সৃষ্ট বন্যায় প্লাবিত হয়েছে বিহার, উত্তরপ্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকা। এর ফলে বিহার রাজ্য সরকারের দাবির মুখে পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত ফারাক্কা বাঁধের সব স্লুইসগেট খুলে দেয়া হয়েছে। যার ফলে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায়ও বন্যা দেখা দিয়েছে। উত্তরপ্রদেশ ও বিহারে ইতোমধ্যে বন্যায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৫১ জন এবং এখনো পানিবন্দি হয়ে আছেন হাজারো মানুষ। প্রতিদিনই বাড়ছে পানি এবং প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা।টাইমস অব ইন্ডিয়া

বিহার ও উত্তরপ্রশের বন্যার প্রভাবে পার্শ্ববর্তী রাজ্য পশ্চিমবঙ্গেও বন্যা দেখা দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চলের ফুলহার, মহানন্দা ও কালিন্দী নদীর পানি বিপৎসীমার অতিক্রম করেছে। এর ফলে মালদহ ও মুর্শিদাবাদের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে পানিবন্দি হয়েছেন লাখো মানুষ। বন্যার পানির তোড়ে বর্ধমান ও মুর্শিদাবাদে একটি ফেরি ও একটি জাহাজ ভেসে গেছে। এদিকে বন্যার পানির চাপে ফারাক্কা বাঁধ ভেঙ্গে পড়ার আশঙ্কায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যের নদীগুলো সংস্কার করছে না। ফারাক্কায়ও নদীর ড্রেজিং হচ্ছে না, এনিয়ে বারবার অবহিত করেও সাড়া মিলছে না। ফারাক্কা বাঁধ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফারাক্কায় গঙ্গার পানি বিপৎসীমার ৭ ফুট উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় বাঁধের ১০৯টি স্লুইসগেট খুলে দিয়েছে তারা।

বিহারে বন্যার কারণে রাজধানী পাটনায় নিজগৃহে পানিবন্দি হয়ে পড়েন রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী সুশীল কুমার মোদী। পরে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবেলা টিমের সদস্যরা তার পরিবারসহ তাকে উদ্ধার করেন।

কলকাতা বন্দরের নাব্যতা ঠিক রাখা এবং ভাগীরথী ও গঙ্গার পানির প্রবাহ যাতে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করতে না পারে সেই লক্ষে ১৯৬১ সালে ফারাক্কা বাঁধ তৈরির সিদ্ধান্ত নেয় ভারত সরকার। ১৯৭৫ সালে এর নির্মাণকাজ শেষ হয় কিন্তু এই বাঁধের ফলে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশে পানির সমস্যা দেখা দেয়। যার ফলে ফারাক্কা বাঁধবিরোধী আন্দোলন তীব্র হয়। ১৯৯৬ সালে ফারাক্কার পানির সুষ্ঠু বন্টনের জন্য বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে একটি চুক্তি সম্পাদিত হয়।

সর্বাধিক পঠিত