প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

খালেদা জিয়ার মামলা আপিল বিভাগে যাওয়ার আগেই সমঝোতা চায় বিএনপি, অনমনীয় সরকার

শাহানুজ্জামান টিটু : দলীয় সংসদ সদস্যদেরকে দিয়ে সরকারের সঙ্গে একটা রফা করতে চাইছে বিএনপি। ইতোমধ্যে সরকারও তার অবস্থান জানিয়েছে। তবে দলীয় এমপিদের এই উদ্যোগকে সমঝোতা হিসেবে মানতে নারাজ বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘এখানে সমঝোতার কি দেখলেন? নির্দোষ একটা মানুষকে কারাবন্দি রাখা হয়েছে। আমাদের একজন এমপি এ বিষয়ে সরকারের এক মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন, এটা সত্য। আমরা সব সময় বলে আসছি, এসব মামলায় তিনি জামিন পাওয়ার যোগ্য। জামিন তার প্রাপ্য। তাকে আটক করে রাখা হয়েছে রাজনৈতিক কারণে। সরকারের উচিত তার প্রাপ্যটা দেওয়া। এর বেশি কিছু তো আমরা বলছি না।’

খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি যতোটা না আইনগত, তার চেয়ে বেশি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল বলে মনে করেন দলের নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি, রাজনৈতিক কারণে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে ৩৭টি। সুপ্রিম কোর্ট ও নিম্ন আদালত মিলে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এখন ১৭টি মামলা বিচারাধীন। জিয়া অরফানেজ ও চ্যারিটেবল ট্রাস্ট এ দুটি মামলায় জামিন পেলে তার মুক্তি মিলবে।

সূত্র জানায়, বিএনপির হাইকমান্ডের সম্মতিতে দলীয় সংসদ সদস্যরা খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং হারুনুর রশীদ এমপিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের কাছে পাঠানো হয়। তিনি সেতুমন্ত্রী কাদেরের কাছে জামিনের বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন। সন্তোষজনক জবাব আসবে না তা জেনেও এই উদ্যোগ নেয় বিএনপির হাইকমান্ড। এর উদেশ্যে হচ্ছে চূড়ান্ত আইনি লড়াইয়ে যাওয়ার আগে তারা সরকারের অবস্থান নিশ্চিত হতে চেয়েছে এবং দেশবাসীকে তা জানাতে এমপিদেরকে মিডিয়ার সামনে আনা হয়েছে। চেয়ারপারসনের জামিন ও সুচিকিৎসা যে সরকার হস্তক্ষেপে সম্ভব হচ্ছে না, তা প্রমাণ করতেই এই কৌশলে নেয় দলটি।

তবে খালেদা জিয়ার সঙ্গে এমপিদের সাক্ষাতের পর তারা মিডিয়ার সামনে যেভাবে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, তাতে দলের নীতিনির্ধারকরা অনেকাংশে বিব্রত। তারা মনে করেন, এতে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিত্ব ক্ষুন্ন হয়েছে।

দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এক নেতা বলেন, খালেদা জিয়া প্যারোলে মুক্তি চান না। এমনকি চিকিৎসার জন্য বাইরে যেতেও চান না। তাই যদি হতো তাহলে তিনি এতোদিনে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করতেন। তিনি আগের অবস্থানেই রয়েছেন।

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, প্যারোলে মুক্তি নিয়ে দলের মধ্যে কোনো আলোচনা হয়নি।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্যারোল নিয়ে কেন কথা উঠছে বুঝলাম না। আমরা কি প্যারোলে তার মুক্তি চেয়েছি? না তিনি চেয়েছেন? প্যারোল বিষয়টি সর্ম্পূণ চেয়ারপারসনের এখতিয়ার।

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় মনে করেন, ‘সহজে সরকার কথা শুনবে, বলে আমি মনে করি না। আমরা বিকল্প নিয়েও ভাবছি। আমি সব সময় একথা বলে আসছি যে, এই সরকার খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেবে না। আইনি লড়াইয়েও সম্ভব নয়। কারণ, দেশের সব কিছুই এক ব্যক্তির কাছে নিয়ন্ত্রিত।’

সম্পাদনা: অশোকেশ রায়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত