প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিএনপির দুবারের উপজেলা চেয়ারম্যান এখন ‘পাঠাও’ চালক!

শাহানুজ্জামান টিটু : শাফায়েত আজিজ রাজু। কক্সবাজার জেলার পেকুয়া উপজেলার দুবারের সাবেক চেয়ারম্যান। রাইড শেয়ারিং অ্যাপ উবার চালিয়ে টাকা রোজগার করছেন তিনি। অ্যাপসভিত্তিক পাঠাও, উবার, ওভাই ও সহজে মোটরসাইকেল রাইড শেয়ার করে চলছেন।

রাজু পেকুয়া উপজেলার দুবার নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান। যদিও এবারের নির্বাচনে তার দল (বিএনপি) অংশ না নেয়ায় তিনি নির্বাচনে লড়েননি। দলের এই সিদ্ধান্ত হাসিমুখে মেনে নিয়েছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান।

কেনো তিনি এই পথ বেছে নিয়েছেন এমন প্রশ্নের উত্তরও মিলেছে তার ফেসবুকে। কাজকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। তাই নিজের ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন তার বিষয়ে। এ বিষয়ে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, কাজ ভালোবাসেন। কোনো কাজকেই তিনি ছোট করে দেখেন না।

সেই সঙ্গে তিনি বর্তমান চাকরির বাজার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং ঘুষ দিয়ে চাকরি নেয়ার চেয়ে ছোট কাজকে গুরুত্ব দিয়েছেন।

 

তার ফেসবুকে দেওয়া স্টাটাসটি হুবহু এখানে তুলে ধরা হলো :
Pathao,Uber,shohoj,Ovhai
এ্যাপস ভিত্তিক শেয়ারিং রাইড।
যে বাইক বা কারটি এতদিন আপনাদের কাছে সৌখিন ছিলো ওপরোক্ত কোম্পানীর কারণে তা এখন আপনার রুটি রুজির অংশ।স্বাধীন পেশা, প্রয়োজনের তাগিদে উপার্জনের মাধ্যম নচেৎ সৌখিনতার অংশ।

শিক্ষার হার যেমন বাড়ছে তেমনি উচ্চ শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। অংকের সংখ্যা হেরফের করে জিডিপি’র প্রবৃদ্ধি উচ্চ সূচকে দেখানো যায় কিন্তু দেশের বেকারত্বের হারকে কাষ্টমাইজ করা যায় না।

এই সময়ে এ্যাপস ভিত্তিক রাইড় শেয়ারিং তাই যুব সমাজের কাছে খুবই জনপ্রিয় একটি মাধ্যম।বাইকে একটু খাটুনি দিলে হাজার টাকা দিনে রোজগার করা যায়, যেখানে পূঁজি এক লক্ষ হলেই চলে সাথে বৈধ কাগজ পত্র।মাসে ত্রিশ হাজার টাকার একটি চাকরির জন্য আমরা কত কিছুইনা করি,,,জমি জমা বিক্রি করে নেতার পিছু পিছু ২/৪/৫/১০/২০,,,লক্ষ টাকা দিয়েও চাকরি হয়ে যায় সোনার হরিণের মত অধরা। অন্যদিকে টাকা ফেরত না পেয়ে আত্মহত্যা, মাদকাসক্ত, দেশান্তরি থেকে শুরু করে অনেক কিছুতেই জড়িয়ে পড়ছে দেশের প্রাণশক্তি যুবসমাজ।

মোদ্দাকথা পাঠাও, ওবার, ওভাই, সহজ এগুলো ড্রাইভিং পেশাটির সম্মান বৃদ্ধি করেছে।একটি ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে অল্প পূঁজিতে যে কেউই এই পেশায় আসতে পারে এবং এসেছেও,,,এমনকি মেয়েরাও,,,,

লজ্জা, শরম, ইগো, পাছেলোকে কিছু বলবে এই বিষয়গুলো মাথা থেকে ঝেড়ে আমার মত আপনিও নেমে পড়ুন রাস্তায়,,, সহজ পন্হায় হালাল পথে বৈধ ইনকাম।
কারো দয়ায়, কারো দাক্ষিণ্যে বা করুনায় বেশি দিন চলা যায় না।

কেউ আপনাকে চাকরি দিবে বা কারো উপর নির্ভরশীল হয়ে বসে থাকাটা চরম বোকামি ছাড়া কিছুই নয়।
অন্তত যতদিন পর্যন্ত আপনার যোগ্যতানুযায়ী কিছু করতে পারছেন না ততদিন পর্যন্ত চালিয়ে যান।
কথায় আছে অভাব দরজা দিয়ে ঢুকলে ভালবাসা জানালা দিয়ে পালিয়ে যায়,,,
সুতরাং ঘরের মানুষের কাছে বোঝা এবং বাইরের মানুষের কাছে মজা না হতে চাইলে এখনি সিদ্বান্ত নিন আপনি কি করবেন??

মনে রাখবেন “ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বালুকণা বিন্দু বিন্দু জল গড়ে তোলে মহাসাগর,,,”
বড় কিছু পেতে চাইলে ছোট দিয়েই শুরু করুন,,,, আজকের ছোট কাজের অভিজ্ঞতা আগামীকালের বড় কাজের প্রেরণা হয়ে আপনার সাহস সঞ্চার করবে।

বিঃদ্রঃ-আমাকে রাইড় শেয়ার করতে দেখে কেউ লজ্জা পেলে তার জন্য আমি দায়ী নই।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত