প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নজরদারিতে যুবলীগের একডজন নেতা

রফিক আহমেদ : এবার যুবলীগের এক ডজন নেতার খোঁজে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। কেন্দ্রীয় সমবায় বিষয়ক সম্পাদক জি কে শামীম ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণনের বহিস্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভুঁইয়াকে গ্রেফতারের পর নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে এবার খোঁজা হচ্ছে ব্রাদাস ক্লাবের সভাপতি যুবলীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন মহি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা, সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী সরোয়ার হোসেন বাবু, সহ-সভাপতি আনোয়ারুল ইকবাল সান্টুসহ এক ডজন নেতাকে।

জানা গেছে, মহিউদ্দিন মহি ব্রাদার্স কাবের সভাপতি। এর আগে একটি ক্লাবের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া জমিতে ভবন নির্মাণের জন্য একটি ভবন নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের কাছে জায়গা দিয়ে ৭০ কোটি টাকা অবৈধভাবে হাতিয়ে নেয়। এখানে ১৭ কোটি টাকার ভাগ নিয়েছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা। এছাড়াও ব্রাদার্স ক্লাবের মহিউদ্দিন মহির নেতৃত্বে জুয়া ও ক্যাসিনো খেলা হয়ে থাকে। মহির বিরুদ্ধে গণপূর্ত, বিদ্যুৎ ভবন, শিক্ষা ভবন, খাদ্য ভবনসহ বিভিন্ন এলাকায় টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়াও রেজা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর থেকে জিরো থেকে হিরো হয়েছেন। এক সময়ে চলার মতো টাকা পয়সা না থাকলেও এখন ঢাকায় একাধিক বাড়ি, ফ্যাট রয়েছে তার। এখন সঙ্গে তার রয়েছে ঢাকা-বরিশাল রুটে আলীশান লঞ্চ। তার লঞ্চের নাম রয়েল কুজ-২। অভিযোগ রয়েছে, অবৈধভাবে কয়েকশ কোটি টাকা বানিয়ে নামে বেনামে আরো একাধিক লঞ্চের মালিক। সদরঘাটে রেজার নিয়ন্ত্রণে চলে নিরব চাঁদাবাজি। ভয়ে কেউ মুখ খুলতে চায় না।

গাজী সরোয়ার বাবু যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি ন্যাশনাল মেডিকেল হাসপাতালের পরিচালক এবং হাসপাতালের ক্রয় কমিটির চেয়ারম্যান। বাবুর নেতৃত্বে এই হাসপাতাল থেকে রোগীদের জিম্মি করে পকেট কাটা হয়। রীতিমতো ভড়কে যাওয়ার মতো তথ্য। একটি ডিম ১৪০ টাকা ও কলা ১৭০ টাকা নেওয়া হয়। গত চার বছর ধরে তিনি রোগীদের জিম্মি করে কোটি কোটি টাকা মালিক হয়েছেন। সদরঘাটের গেটওয়াল মার্কেটের সভাপতিও গাজী সরোয়ার হোসেন বাবু। এই মার্কেটের দখল নিয়ে বিএনপির আমলে সংঘর্ষে একজন মারা যান। ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ৪০টি দোকান দখল করে নিয়েছেন। যেখানে কোন দোকান ছিল না। ওই দোকানগুলো দখল নিয়ে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে গেছেন। এছাড়াও সিটি করপোরেশন, ওয়াসা, রাজউকসহ বিভিন্ন ভবনের ঠিকাদারী তার নিয়ন্ত্রণে।

জানা গেছে, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সহ-সভাপতি আনোয়ার ইকবাল সান্টুকেও খোঁজা হচ্ছে। বিভিন্ন সংস্থার লোকজন তার বিত্তবিভৈবের অনুসন্ধ্যান শুরু করেছে। তার বিরুদ্ধে রয়েছে সিটি করপোরেশন, গণপূর্ত, ওয়াসা, রাজউক, শিক্ষা ও বিদ্যুৎ ভবনের ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণের। জিকে শামীম ও তার একটা সিন্ডিকেট রয়েছে। এসব ভবনে ঠিকাদারি করে কয়েক বছরেই কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। তার মূল শক্তি যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শাহজাহান ভূঁইয়া বলে জানা গেছে।

এদিকে, নজরদারিতে রয়েছেন ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ফরিদ উদ্দিন রতন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নাম ভাঙ্গিয়ে বিদ্যুৎ ভবনে বড় বড় কাজ ভাগিয়ে নেওয়া। এছাড়াও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকনের কাছের লোক হিসেবে পরিচয় এই রতন সিটি করপোরেশনের কাজও নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন। সব কাজের বড় একটা কমিশন তার।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ