প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মঙ্গলে ভাসছে বরফকুচি

খালিদ আহমেদ : মহাকাশ নিয়ে বিজ্ঞানীদের আগ্রহের শেষ নেই। পৃথিবী ছাড়া সৌরজগতের আর কোনো গ্রহ মানুষের বসবাসের উপযোগী কি-না, তা জানতে চলছে গবেষণা। সে ক্ষেত্রে মঙ্গলকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। লোহিত এই গ্রহ সম্পর্কে বিভিন্ন সময় নানা তথ্য পাওয়া গেছে। সম্প্রতি মঙ্গল গ্রহের কিছু নতুন ছবি প্রকাশ করেছে ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি। এই গ্রহের অদ্ভুত এমন দৃশ্য এর আগে কেউ দেখেনি। ছবিতে ধরা পড়েছে চমৎকার বরফের স্তর, যা দেখতে ক্রিম এবং বিস্কুটের মতো। বলা হচ্ছে, শীতের সময় কার্বন ডাইঅক্সাইড বরফের কারণে পাহাড়ের ওপর এমন পাতলা আবরণের সৃষ্টি হয়েছে।ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ও সিএনএন

মঙ্গলের রহস্য উন্মোচনে নাসার পাঠানো কিউরিওসিটি তো কাজ করছেই। তবে তারও আগে থেকে মঙ্গলের আকাশে রয়েছে ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির মার্স এক্সপ্রেস।এ মহাকাশযানটিতে রয়েছে হাই রেজুলিউশন ক্যামেরা। এর অরবিটার ও ল্যান্ডার মঙ্গলের মাটিতে প্রাণের সন্ধান করে বেড়াচ্ছে ২০০৩ সাল থেকে। সম্প্রতি মঙ্গলের ঋতু বদলের ছবি ধরা পড়েছে সেই স্পেসক্র্যাফটের ক্যামেরায়। তাতে দেখা গেছে দুই মেরুপ্রান্তে বরফের স্তর। আকাশে ধুলোর মতো ভেসে বেড়াচ্ছে শুভ্র বরফের কুচি।

এ ছাড়া সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা মঙ্গল গ্রহ সম্পর্কে নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে। বলা হচ্ছে, এই তথ্যবিজ্ঞান জগতের মানুষকে হতবাক করবে। নাসা জানিয়েছে, তাদের ইনসাইট রোবোটিক ল্যান্ডার মঙ্গল গ্রহের আশ্চর্যজনক কিছু তথ্য দিয়েছে। তারা মঙ্গলের ভূপষ্ঠের নিচে জলাধার থাকার প্রমাণ পেয়েছেন। এ ছাড়া মঙ্গলের বুকে মধ্যরাতে চৌম্বকীয় কম্পনও পেয়েছে নাসার ইনসাইট ল্যান্ডার। সম্প্রতি ইরোপিয়ান প্ল্যানেটারি সায়েন্স কংগ্রেস ও আমেরিকান অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির সঙ্গে যৌথ সভায় এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। মঙ্গল গ্রহের পৃষ্ঠ, অভ্যন্তরীণ অবস্থা সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে ২০১৮ সালের নভেম্বর থেকে নাসার ইনসাইট ল্যান্ডার পর্যবেক্ষণ করছে।

নাসা জানায়, ৪০০ কোটি বছর আগে যখন মঙ্গলের চৌম্বকীয় ক্ষেত্র ধ্বংস হয়ে যায়, তখন জলাধারসহ গ্রহটি একটি শীতল মরুভূমিতে পরিণত হয়। ইনসাইট ম্যাগনোমিটার সেখানে বিদ্যমান চৌম্বকীয় কিছু সংকেত ধারণ করেছে, যেগুলো ল্যান্ডারের আশপাশের শিলা বা পাথর থেকে আসছিল। এই সংকেতগুলো ছিল স্থিতিশীল এবং প্রত্যাশার চেয়ে অনেক শক্তিশালী। রহস্যজনকভাবে মঙ্গলপৃষ্ঠে শুধু মধ্যরাতেই এই ঘটনা ঘটে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, মঙ্গলের এই দুর্বল চৌম্বকীয় বুদ্বুদ সৌর বায়ুর প্রভাবে ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। এ সম্পর্কে আরও জানতে তারা প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে ল্যান্ডারের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ