প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ফুটবল প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে ফুটবলার হান্ট একাডেমি

রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে : আমি মানুষ নামের গ্রাম বাংলার সেই দুরন্ত পাগল ছেলেকে খুঁজছি। যে ছেলে লাল সবুজের উড়ন্ত পতাকা দেখতে চায় বিশ্বকাপ ফুটবলের মাঠে। জীবন শুরুর পুরো সময়টুকুকে উৎসর্গ করতে চায় খেলাধুলার মাঝে। খালি পায়ে নিজের হাতের তৈরি ফুটবল খেলছে এবং জেতার স্বপ্ন দেখছে, আমি তাকে খুঁজছি।

আমার তাকে দরকার যে নিজে পাগল ফুটবল খেলার জন্য। যে তার ধ্যানে জ্ঞানে, শয়নে স্বপনে এবং জাগরণে খেলছে তালপাতার তৈরি ফুটবল। যার পায়ে জুতা নেই, মোজা নেই, বল নেই কিন্তু সে পুরো পৃথিবীকে বল ভেবে লাথি মারছে আমি তাকে খুঁজছি।

আমিও আমার বন্ধু সামসুদ্দিনের মতো পাগল হয়েছি তাই ছোট ছোট পাগল খুঁজছি ফুটবলের পাগল। ফুটবল গোল তাই তার শুরু বা শেষ নেই। পা দিয়ে খেলতে হবে তার কোনো দরকার নেই। আমরা ফুটবলকে মাথা দিয়ে খেলতে চাই- হেড টু হেড।

পা থেকে মাথা, মাথা থেকে পা, পরে মাথা থেকে মাথা শেষে বলটিকে গোলে ঢুকানো, পুরোটাই পাগলামি। বল গোল, মাথাও বেশ গোল কিন্তু ফুটবল খেলার মাঠ এবং গোলপোস্ট আয়তক্ষেত্র। মাথা গোল, বল গোল, তাই আমরা কয়েকজন হয়েছি পাগল।

তাইতো লাল সবুজের পতাকা বিশ্বকাপ ফুটবলের সেই মাঠে দেখতে চাই। এখন যারা আমার মতো ফুটবলের পাগল তাদের আমি খুঁজছি। সব পাগল একত্রিত হয়ে আমাদের পাগলামি শুরু করতে চাই, ফুটবলার হান্ট একাডেমিতে। পৃথিবীতে জন্মেছে অনেক পাগল যেমন আর্কিমিডিস, লাইলি-মজনু, রোমিও-জুলিয়েট আরো কতো জানা অজানা পাগল। বাংলাদেশে দরকার মাত্র ২২ জন পাগলের, যারা ফুটবলের পাগল। তারা আর্কিমিডিসের মতো বলের পিছে দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে হঠাৎ গোলের মধ্যে বল ঢুকিয়ে বলবে, গোল…গোল…আমি সেই পাগলদের খুঁজছি।

এসব পাগল বাংলার অলিতে গলিতে পড়ে আছে, আমি এখন তাদের সন্ধানে। তাদের জন্য আমরা একটি একাডেমি তৈরি করতে নেমেছি। একই সঙ্গে আমাদের এক ছোটভাই ফয়সাল আহমেদ এই ওয়েব সাইড ( www. footballerbd. com) তৈরি করেছে। এখন দরকার সবার সাহায্যের। সাধারণ লোকের দ্বারা এ কাজ হবে না, পাগল হতে হবে, তাও ফুটবলের পাগল। আছেন কি এমন কেউ? তাহলে জলদি করে চলে আসুন আমাদের সঙ্গে, ‘দশে মিলে করি কাজ হারি জিতি নাহি লাজ’। আমাদের একটি মজবুত সংগঠন তৈরি করতে হবে। যারা দেশে আছেন তাদের যেমন সাহায্যর হাত বাড়াতে হবে ঠিক তেমনি যারা বিদেশে আছেন তাদেরকেও একাজে থাকতে হবে। কারণ ফুটবলের এইসব পাগলদের মধ্যে একটি জিনিস ঢুকাতে হবে তা হলো, তারা যেন সার্কাসের মতো করে বলের যাদুকর হতে পারে, তাই দরকার প্রশিক্ষণের। কারণ বল শুধু পায়ে নয়, তাকে মাথা, বুক, হাঁটুর সাহায্য নিয়ে গোলে ঢুকানো শিখাতে হবে।

শুধু ফুটবলের পাগল হলেই হবে না। মানে গোল দেবার সময় তারা পাগল থাকলে চলবে না, গোল কিভাবে দিতে হবে তা জানা থাকতে হবে। এই জানা বা শেখার জন্য দরকার প্রশিক্ষণের এবং এ প্রশিক্ষণ পেতে হলে আনতে হবে দেশ-বিদেশের ফুটবলের ওপর যারা পারদর্শী, তাদেরকে। দরকার কিছু অর্থের। একের বোঝা দশের লাঠি। তাই সবাই যদি চেষ্টা করি জয়ী আমরা হবোই। সবচেয়ে মজার জিনিস হলো, পরের সন্তানদের জন্য কিছু করতে শেখা। আমরা সারাজীবন শুধু নিজেদের সন্তানের জন্যই সব কিছু করি, যে কাজ সবাই করে বা করতে পারে।

কিন্তু অন্যের সন্তানের জন্য কিছু করতে পারার কথা ভেবেছেন কি কখনও কেউ? আসুন না সবাই মিলে তেমনি একটি সুন্দর উদ্যোগ নেই। আমি ১০০% নিশ্চিত আমরা মজা খুজে পাবো এ কাজে। আমরা গড়ে তুলবো নতুন বাংলাদেশ। আমরা শেয়ার করবো আমাদের সাফল্য সবার সঙ্গে। কারণ শেয়ার ভ্যালুর মূল্য অনেক এবং তা মানবতাবোধের শ্রেষ্ঠ উপহার। ওয়াও! ভাবতেই গা শিউরে উঠছে। ‘একটি বাংলাদেশ তুমি জাগ্রত জনতার সারা বিশ্বের বিস্ময় তুমি আমার অহংকার’….. সবাইকে প্রাণঢালা ভালোবাসা।

সূত্র : ইত্তেফাক

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ