প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিরাজনীতিকরণ, নাকি রাজনীতির শুদ্ধিকরণ?

অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাৎ মিল্টন : ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই কেন্দ্রীয় নেতা দিয়ে শুরু, তবে তা যে এতো তীব্র গতিতে যুবলীগের দিকে ছুটে আসবে তা হয়তো অনেকেই ভাবেননি। ১৯ সেপ্টেম্বর এবং শুক্রবার ঢাকা শহরের অন্ধকার জগতের নতুন একটা অংশের সঙ্গে দেশবাসীর পরিচয় হলো। ক্রীড়া ক্লাবের আড়ালে বিদেশের স্টাইলে ক্যাসিনো বানিয়ে প্রতি রাতে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে ঢাকার একটি সিন্ডিকেট, যার নেতৃত্বে রয়েছে প্রধানত যুবলীগ ঢাকা মহানগরের নেতৃবৃন্দ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ইতোমধ্যে ক্যাসিনো খালেদ গ্রেপ্তার হয়ে রিমান্ডে, আরেক যুবলীগ নেতা জি কে শামীমও গ্রেপ্তার হয়েছে। এদের গ্রেপ্তারের পরে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের যেসব ঘটনা প্রকাশ পাচ্ছে, তা রূপকথার গল্পকেও হার মানাচ্ছে। আওয়ামী যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদের গ্রেপ্তারের পর যুবলীগের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছিলেন, যা আমাদের অনেককেই বিস্মিত করেছে। যুবলীগের চেয়ারম্যান রাজনীতির গডফাদারদের বিরুদ্ধে পরিচালিত বর্তমান অভিযানকে বিরাজনীতিকরণের ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন। তবে তার এই দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে অধিকাংশ রাজনৈতিক বিশ্লেষকই দ্বিমত পোষণ করছেন।

আশির দশকের শুরুতে সামরিক শাসক জিয়ার মৃত্যুর পরে ১৯৮১ সালের নভেম্বর মাসে বিচারপতি আব্দুস সাত্তার রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার শাসনামলে মন্ত্রীরা ব্যাপক দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ে।

১৯৮২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে যুব প্রতিমন্ত্রী আবুল কাসেমের সরকারি বাসভবন থেকে কুখ্যাত সন্ত্রাসী ও আসামি ইমদুকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই ঘটনা সাত্তার সরকারকে বিশেষ বেকায়দায় ফেলে দিয়েছিলো এবং জনমনে সাত্তার সরকারের সম্পর্কে চরম বিরূপ ধারণা গড়ে উঠেছিলো। দেশের এই পরিস্থিতিতে পরের মাসেই সামরিক শাসন জারি করে ক্ষমতা দখল করেছিলো তৎকালীন সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। সামরিক শাসক এরশাদ ক্ষমতায় এসেই দুর্নীতি দমনের নামে বিরাজনীতিকরণ শুরু করেছিলেন। ফখরুদ্দিন-মইনউদ্দিন গং ২০০৭ সালে বিএনপি-জামায়াতের দুঃশাসনের প্রেক্ষিতে ক্ষমতা দখল করে একই কায়দায় বিরাজনীতিকরণের চেষ্টা করেছিলেন, পরবর্তীতে যা ব্যর্থ হয়। অতীতে আমরা লক্ষ্য করেছি যে, উচ্চাভিলাষী রাজনৈতিক শক্তি ক্ষমতা দখলের লক্ষ্যে একাধিকবার পরিকল্পিতভাবে দেশের পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়েছে। সরকারের নানামুখী দুর্নীতির খবর ছড়িয়ে, গণমানুষকে বিভ্রান্ত করে ক্ষমতা দখলের ইতিহাস এবং পরবর্তীতে বিরাজনীতিকরণের ঘটনা আমাদের অজানা নয়। তবে অতীতের সেসব ঘটনার চেয়ে এবারের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। এবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজেই সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তার গৃহীত এই অভিযানে কিছু অন্যায় সুবিধাভোগী রাজনীতিবিদ ক্ষুব্ধ হলেও সাধারণ জনগণ কিন্তু খুশি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কিন্তু হুট করেই এই সন্ত্রাসবিরোধী অবস্থান গ্রহণ করেননি। বরং অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবেই তিনি সন্ত্রাসবিরোধী এই কাজটি হাতে নিয়েছেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে যেহেতু রাজনীতিই সন্ত্রাসের পৃষ্ঠপোষক, তাই সন্ত্রাস নির্মূলের লক্ষ্যে রাজনীতির শুদ্ধিকরণটা জরুরি। দশ বছর আগে ক্ষমতা গ্রহণ করে অসংখ্য সমস্যাকবলিত বাংলাদেশে সমস্যা সমাধানে শেখ হাসিনার সরকারকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে তালিকা করতে হয়েছিলো। গত দুই মেয়াদে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, বিদ্যুৎ উৎপাদন, ডিজিটালাইজেশন, যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে বর্তমান সরকার হাত দিয়েছেন। এসব খাতে বর্তমান সরকার ঈর্ষণীয় সাফল্যও অর্জন করেছেন।

তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে সরকার এবার দুর্নীতি দমন এবং রাজনীতির শুদ্ধিকরণে মনোযোগী হয়েছেন। সম্প্রতি আমরা তার লক্ষণও দেখতে পাচ্ছি। দেশব্যাপী পরিচালিত দুর্নীতিবিরোধী জালে ইতোমধ্যে বহু রাঘব বোয়াল ধরা পড়েছেন, যদিও মিডিয়ায় তার খুব সামান্যই প্রকাশিত হচ্ছে। রাজনৈতিক শক্তির প্রশ্রয়ে দেশব্যাপী যেসব অন্যায় সংঘটিত হচ্ছে, তাদেরও এখন আইনের আওতায় আনা হবে। অনেক আগেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া ছিলো, এখন চলছে বাস্তবায়নের পালা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান এ ব্যাপারে ‘জিরো টলারেন্সের’, সুতরাং চলমান অভিযান নিয়ে কারও কোনো সংশয় থাকা উচিত নয়।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে পরিচালিত দুর্নীতি ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের সাফল্যের জন্য বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো এর প্রতি জনগণের নিরন্তর সমর্থন। আমরা আশা করি, জনগণের অব্যাহত সমর্থন নিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে নিয়ে যাবেন নতুন এক উচ্চতায়। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ