প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, থামবেন না প্লিজ

মঞ্জুরুল আলম পান্না : ছাত্রলীগ থেকে বিতর্কিত দুই শীর্ষ নেতৃত্বকে সরিয়ে দেয়ার পর পরই যুবলীগের প্রভাবশালী চাঁদাবাজ, জুয়া আর মাদক কারবারী নেতাদের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার অবস্থান এখন টক অব দ্য কান্ট্রি। যদিও আটককৃত ক্যাসিনো ব্যবসায়ীসহ দুর্নীতিবাজ সেই নেতাদের সংখ্যা এখন পর্যন্ত হাতে গোনা কয়েকজন মাত্র। তবু নিজ দলের মধ্যেই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শুদ্ধি অভিযানে দলমত নির্বিশেষে আপামার সাধারণ মানুষ যে যারপরনাই খুশি তা নিশ্চিত করে বলা যায়। তারা আশাবাদী হয়ে উঠেছেন দুর্নীতিবাজ আর ক্ষমতার অপব্যবহারকারীদের যদি এখন কিছু একটা হয়। তবে দলীয়ভাবে বিএনপি এখনো তার রাজনৈতিক দৈন্যদশা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি।

কমিশন বাণিজ্যসহ আরও বেশ কয়েকটি গুরুতর অভিযোগে ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে তাদের পদ থেকে সরিয়ে দেয়ার ঘটনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের নজিরবিহীন ঘটনা হলেও বিএনপি সেটিকে স্বাগত জানাতে পারেনি। ওই ঘটনার পর মির্জা ফখরুল বলে ফেললেন যে, ওটা নাকি আওয়ামী লীগের দুর্নীতির স্বীকৃতি। দুর্নীতিতে তো কেউ কারও চেয়ে কম নয়। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের অনেক কিছুই যেমন সত্য, তেমনি দুর্নীতিতে পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরবগাঁথা বিএনপির থলিতেই রয়েছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলেও সমালোচনা, নিলেও সমালোচনা। সব কিছুৃতেই সমালোচনার ফাঁকফোকর খোঁজার এই মানসিকতা সাধারণ মানুষের কাছে হাস্যকর হয়ে উঠলেও বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব সেটি বুঝতে পারছেন না। যুবলীগের কয়েকজন নেতা আটকের পরও ফখরুল সাহেব প্রায় একই মন্তব্য করে ফেললেন। কিন্তু বিএনপির উচিত ছিলো সব কিছু নিয়ে রাজনীতি না করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অন্ততপক্ষে একটু ধন্যবাদ জানানো। কারণ নিজ দলের মধ্যে শুদ্ধি অভিযানের এমন ঘটনা দেশের ইতিহাসে আর আছে বলে কারও জানা নেই।

পাশাপাশি প্রধানমমন্ত্রীকেও কান পেতে শুনতে হবে, সাধারণ মানুষ আসলে কী চান। আওয়ামী লীগের ঘোরবিরোধীরাও গত কয়েকদিনের ঘটনায় শেখ হাসিনার প্রতি আস্থাশীল হয়ে উঠেছেন। এই আস্থাকে তার সম্মান জানানো উচিত। দুর্নীতিবাজ মাদক কারবারীদের বিরুদ্ধে তিনি যে শুভ সূচনাটি করলেন তা যেন শুরুর আগেই শেষ না হয়ে যায়। এর আগেও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার অবৈধ মাদক ব্যবসা আর দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদ-ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের ঘোষণা দিয়ে যৎকিঞ্চিত ব্যবস্থা নিয়েছিলো। কাজের কাজ হয়নি কিছুই। দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত কয়েকজন নেতাকে ডেকে পাঠিয়ে কয়েকটা প্রশ্ন করাই যেন দুদকের কাজ ছিলো। মাদকের বিরুদ্ধে মাসের পর মাস বিশেষ অভিযান চললেও গডফাদাররা রয়ে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। পাঁচ পাঁচটি গোয়েন্দা সংস্থার তালিকায় শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীর তালিকায় সাবেক এমপি বদির নাম উঠে এলেও তার বিরুদ্ধে নেয়া হয়নি কোনো ব্যবস্থা। তাই মাদক কিংবা দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ওইসব অভিযান মানুষের কাছে বরং আরও বেশি বিতর্কিত আর তামাশাই মনে হয়েছে। কিন্তু একান্ত কামনা, মানুষকে আশাবাদী করে তোলার মতো প্রধানমন্ত্রীর এবারের পদক্ষেপ যেন কোনো অবস্থাতেই ব্যর্থ না হয়। যুবলীগের মধ্যম সারির কিছু নেতা নয়, তাদের গডফাদার এবং যুবলীগসহ মূল দলের বিতর্কিত নেতাদের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থানের দাবি উঠেছে চারদিকে। শুধু ক্যাসিনো ব্যবসায়ী নয়, অবৈধ এই ব্যবসার মাসোহারা টাকার মেশিনে গুনে নিতেন যে শীর্ষনেতারা, মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন পকেট কমিটি করে দিয়ে আওয়ামী লীগের মতো একটা ঐতিহ্যবাহী দলকে যারা নিয়ে চলেছেন সর্বনাশের দোরগোড়ায় তাদের উৎপাটনটাও দেখতে চান সবাই। কয়েক হাজার দুর্নীতিবাজ আর মাদক ব্যবসায়ীর শেকড় উপড়ে ফেললে আওয়ামী লীগের মতো একটা মহাসমুদ্রের বুকে বিন্দু পরিমাণ শূন্যতা সৃষ্টি হতে পারে না, তার একাধিক প্রমাণ রয়েছে এর আগে অনেক রাঘব বোয়ালকে দল থেকে বাদ দেয়ার ঘটনায়।

আপনার হারানোর কিছু নেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। চাওয়া পাওয়ারও কিছু নেই নিশ্চয়। প্রমাণ করে দিন চলমান ঘটনাগুলো ¯্রফে ‘আইওয়াশ’ নয়। এই অভিযানে আপনাকে যেতে হবে আরও অনেক দূর। বঙ্গবন্ধুকন্যা হিসেবে অনেক বিতর্কের মধ্যেও নিজ যোগ্যতার অনেক প্রমাণই রেখেছেন আপনি। নিজ দলে শুদ্ধি অভিযানে আপনিই কেবল নিজেকে তুলে ধরতে পারেন অনন্য উচ্চতায়। তাই থামবেন না প্লিজ। লেখক : সাংবাদিক

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ