প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দুই সিটির ডেঙ্গু নিধনে কাজ চলছে, নতুন ভাবে সাজানো হবে মশা নিধন কার্যক্রম

সুজিৎ নন্দী : বর্তমানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) চীন এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ভারত থেকে পরীক্ষামূলক সামান্য ওষুধ এনেছে। ডিএনসিসি নিজেদের লোকবলের পাশাপাশি আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন অভিযান চলছে। ডিএসসিসি ৫০ জন কর্মী চুক্তিতে কাজ করছে। সাপ্তাহিক ছুটির দিনসহ প্রতিদিনই মশক নিধন কার্যক্রম চলছে। তবে ডিএসসিসির ওষুধ আগামী মাসে ওষুধ শেষ হয়ে যাবে। ডিএনসিসি মশা নিধনে কলকাতা করপোরেশনের আদলে সাজানোর প্রস্তুতি চলছে।

অন্যদিকে আগামী মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে পুনরায় নতুন ওষুধ আনা এবং অতিরিক্ত জনবল নিয়োগের মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন না পেলে বড় ধরণের সংকট দেখা দেবে। দুই সিটি করপোরেশন সূত্রে এতথ্য জানা যায়।

ডিএনসিসির মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, এক কোটি ১০ লাখ নাগরিকের শহর কলকাতায় মশানিধন কাজে ৪ হাজার ৩১৯ জন কর্মী রয়েছে। কিন্তু আমাদের (ডিএনসিসি) দেড় কোটির জন্য রয়েছে মাত্র ২৯৩জন। এটা কোনোভাবেই কম্য নয়। জনবল কাঠামো আরও বাড়াতে হবে। দ্রæত অনুমোদন দিতে হবে। আমরা সরকারের কাছে আবেদন করেছি।

একাধিক সূত্র জানায়, মশা নিধন কাজে কলকাতা পৌর সংস্থায় একজন প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, ৬ জন উপপ্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, একজন প্রধান কীট নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা, ১৬ জন আঞ্চলিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, ১জন সমন্বয়কারী (স্বাস্থ্য), এক জন মিউনিসিপ্যাল সার্ভিলেন্স অফিসার, ২৬৪জন ওয়ার্ড মেডিক্যাল অফিসার, ৩জন কীটতত্ত¡ পরিদর্শক, ১৯ জন স্বাস্থ্য পরিদর্শক রয়েছে। এছাড়া তদারককারী জন্য ২৬২ জন, মহুম‚খী স্বাস্থ্য সহকারী ৯০জন, ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ান ১৮৬ জন, ঊর্ধ্বতন স্বাস্থ্যকর্মী ৪৫জন, অবৈতনিক স্বাস্থ্যকর্মী ২৮০জন, মাঠকর্মী এক হাজার ৬৯৮জন এবং তথ্য, শিক্ষা ও যোগাযোগ কর্মকাণ্ডের জন্য স্বাস্থ্যকর্মী এক হাজার ৪৪০ জন রয়েছে। সব মিলিয়ে সংস্থাটিতে চার হাজার ৩১৩জন জনবল রয়েছে।

ডিএসসিসি মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, জনবল রয়েছে, তা প্রয়োজনের তুলনা অবশ্যই অপ্রতুল। এখন সিটি করপোরেশনের আয়তন বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। কিন্তু জনবল বাড়েনি, বরং কমছে। মাত্র ৪৮ শতাংশ জনবল নিয়ে এখন দ্বিগুণ ঢাকায় সেবা দিয়ে যাচ্ছি। জনবল কাঠামোর প্রস্তাবনা দীর্ঘ ৮-৯ বছর ধরে মন্ত্রণালয়ে পড়ে আছে। আমি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ফোরামে বলেছি।

দুই সিটি করপোরেশনের একাধিক সূত্র জানায়, ঢাকা দক্ষিণে মশানিধন কাজে ৩৪৪ জন জনবল রয়েছে। এর মধ্যে স্প্রে-ম্যান রয়েছেন ১৮৩ জন, ক্রু ১৫১ জন ও সুপারভাইজার ১০ জন। অন্যদিকে, ঢাকা উত্তর সিটিতে এর সংখ্যা ৩১৭ জন। এর মধ্যে ১২০ জন স্প্রেম্যান ও ১৮৯ জন ক্রু-ম্যান। সুপারভাইজার রয়েছেন ৮ জন। মাত্র এক হাজার ৬৬১ জন জনবল নিয়ে এ বিশাল নগরীর মশানিধন কাজ পরিচালনা অসম্ভব বলে মনে করছে সিটি করপোরেশন। এ অবস্থায় ডেঙ্গু মোকাবিলায় ঢাকা দক্ষিণ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের কর্মীদের সমন্বয়ে কমিউনিটি অ্যাম্বাসেড়র নিয়োগ করেছে। পাশাপাশি স্কাউট ও বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর ( বিএনসিসি) সদস্যদের দ্বারস্থ হয়েছে।

সূত্র জানায়, মাত্র ৪৮ শতাংশ জনবল নিয়ে সংস্থা দু’টি নাগরিক সেবা দিয়ে আসছে। এর ফলে নাগরিক সেবার মানও কমেছে। পাশাপাশি ডেঙ্গুসহ প্রাকৃতিক বিভিন্ন দুর্যোগ ও পরিচ্ছন্নতা কর্যক্রমে হিমশিম খেতে হচ্ছে সংস্থা দুটিকে। এ অবস্থায় নাগরিকসেবা অব্যাহত রাখতে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, সরকারের অন্যান্য জরুরি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানসহ স্বেচ্ছাসেবীদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে এই দুই সিটিকে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ