প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দুর্নীতির অভিযোগ, আওয়ামী লীগের অনেক নেতা নজরদারিতে

ওয়ালি উল্লাহ : সরষের মধ্যে ভূত!দুর্নীতির ক্ষেত্রে এমন ভয়াবহ তথ্যও পেয়েছেন আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড। তবে তাদেরও রক্ষা নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে দুর্নীতিতে জড়িত আওয়ামী লীগের অনেক নেতা এখন নজরদারিতে আছেন। দুর্নীতিবাজ কাউকে না ছাড়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার রাতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন বলে জানা গেছে। ইত্তেফাক

তবে গতকাল শুক্রবার গণভবনে কোনো নেতার সঙ্গে কথা বলেননি প্রধানমন্ত্রী। দুই তলা থেকে নেমে সোজা গাড়িতে উঠে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রে আট দিনের সরকারি সফরের লক্ষ্যে শুক্রবার বিকালে আবুধাবি হয়ে নিউ ইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের শুক্রবার ধানমন্ডিস্থ দলীয় সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, শুধু ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নয়, আওয়ামী লীগের অনেক নেতাও নজরদারিতে আছেন। দুর্নীতিতে জড়িত কাউকে ছাড় দেবেন না প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রশাসন বা রাজনীতির কেউ যদি অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসায় মদদ দিয়ে থাকেন তাহলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। কোনো গডফাদারই ছাড় পাবে না। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে শুক্রবার যুবলীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া নজরদারিতে রাখা হয়েছে যুবলীগের আরো অনেককে। তাদের কেউ কেউ যুবদল বা স্বেচ্ছাসেবক দল থেকে যুবলীগে অনুপ্রবেশ করেছে বলে তথ্য এসেছে।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় চার নেতা সংসদ সদস্য পদে এবার মনোনয়ন বঞ্চিত হন। তবে তাদেরকে দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনা গুরুত্বপূর্ণ নানা দায়িত্ব দিয়েছিলেন। কিন্তু অনেক দায়িত্ব পালনে তারা ব্যর্থ হচ্ছেন। ছাত্রলীগের দীর্ঘদিনের সিন্ডিকেট ভাঙার দায়িত্বও তারা পেয়েছিলেন। কিন্তু ঐ সিন্ডিকেট ভেঙে নিজেরাই গড়ে তোলেন আরেক সিন্ডিকেট। যার পরিপ্রেক্ষিতে মেয়াদ পূর্তির ১০ মাস আগেই ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই নেতাকে সরিয়ে এখন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক দিয়ে চালানো হচ্ছে সংগঠনকে। তবে প্রধানমন্ত্রী শুধু ছাত্রলীগের শীর্ষ ঐ দুই নেতার ওপরই ক্ষুব্ধ নন, দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ঐ চার নেতার ওপরও অসন্তুষ্ট।

সূত্র জানায়, রাজধানী ঢাকার ৬০টি স্পটে অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসা, দখল-চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজি-অস্ত্রবাজি-ক্যাডারবাজিসহ নানা অপকর্মে জড়িত যুবলীগের এক শ্রেণির নেতাকর্মী। যুবলীগের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর নেতাদের অধিকাংশই কোনো না-কোনো সরকারি ভবনে তত্পর। শিক্ষা ভবন, সড়ক ভবন, মত্স্য ভবন, বিদ্যুত্ ভবন, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, সর্বত্রই তাঁদের আনাগোনা। এসব ভবন থেকে সারাদেশের বিভিন্ন খাতের উন্নয়ন কাজ ও কেনাকাটা সরকারি সিদ্ধান্তে বাস্তবায়ন করা হয়।

এদিকে যুবলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ উঠেছে সেগুলো সংগঠনের নিজস্ব ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী। এ জন্য কোনো নেতা বা কোনো শাখার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে চেয়ারম্যানের ঠিকানায় পাঠানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। সম্পাদনা : খালিদ আহমেদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ