প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ক্যাসিনোর সুবিধাভোগীরা এবার নজরদারিতে

ইসমাঈল হুসাইন ইমু : ক্যাসিনো থেকে নিয়মিত মোটা অঙ্কের মাসোহারা পেতেন পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা। বিদেশ ভ্রমণে গেলে তাদের মোটা অঙ্কের বিদেশি মুদ্রা দেয়া হতো। এমনকি পুলিশের প্রভাবশালী কয়েকজন কর্মকর্তা বিদেশের ব্যয়বহুল হাসপাতালে চিকিৎসা করান। পরে যার বিল মিটিয়েছেন খালেদ। এছাড়াও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কতিপয় কর্মকর্তার নিয়মিত যাতায়াত ছিল ক্যাসিনোতে। এসব ক্যাসিনো থেকে যারা বিভিন্ন সময়ে সুযোগ সুবিধা নিয়েছেন তাদের নজরদারিতে আনা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

র‌্যাব পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে যুবলীগ নেতা খালেদ জানিয়েছেন, পুলিশের বাইরে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রভাবশালী নেতার আবদার রক্ষায় তিনি কার্পণ্য করতেন না। বিদেশে গেলে মূল্যবান মোবাইল ফোন, স্বর্ণালঙ্কার এমনকি দামি ব্র্যান্ডের মদ এনে প্রভাবশালী নেতাদের উপহার দিতেন। খালেদ আফসোস করে বলেন, যাদের জন্য তিনি এতসব করলেন তারা বিপদের দিনে তার পাশে দাঁড়াননি। সবাই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।

র‌্যাব কর্মকর্তরা বলছেন, জিজ্ঞাসাবাদে খালেদ মাহমুদ ভূইয়া অনেকের নামই বলেছেন। তবে তার সব কথা সঠিক নাও হতে পারে। খালেদের দেয়া তথ্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গত বুধবার রাতে র‌্যাবের অভিযানে ফকিরাপুলের ইয়ংমেন্স ক্লাবের জব্দ করা কাগজপত্র ঘেঁটে দেখা গেছে, গত ১১ সেপ্টেম্বর ওই ক্যাসিনোর জুয়ার আসর থেকে ক্লাবের সভাপতি যুবলীগ নেতা খালেদ’র লাভ হয়েছে ১৩ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। আটক জুয়াড়িরা বলেছেন, ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবে জুয়াড়ির ভিড় ৪ গুণ বেড়ে যায়। এ ছাড়া শুক্রবার ছুটির দিন ভিড় দ্বিগুণ হয়। এতে স্পষ্ট, মতিঝিলের শুধু এই একটি ক্লাবেই জুয়ার আসর থেকে লাভের অঙ্ক দাঁড়ায় মাসে কমবেশি ৫ কোটি টাকা। আর ৯টি ক্লাব মিলিয়ে এ অঙ্ক প্রায় অর্ধশত কোটি টাকা।

কয়েক দশক আগে মতিঝিলের আরামবাগ, ফকিরাপুলে গড়ে ওঠে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব, আরামবাগ ক্রীড়াচক্র, ভিক্টোরিয়া ক্লাব, দিলকুশা ক্রীড়াচক্র, ওয়ান্ডারার্স ক্লাব, ইয়ংমেন্স ক্লাব, সোনালী অতীত ক্লাব, আজাদ স্পোর্টিং ক্লাব। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে দলীয় ক্যাডার দিয়ে এসব ক্লাব পরিচালনা হতো। ক্ষমতার পালাবদলে ক্লাবের নিয়ন্ত্রণও বদলে যায়।

২০০৮ সালে ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে মতিঝিলের ক্লাবপাড়ার নিয়ন্ত্রণ নেন তখনকার মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়াহিদুল আলম আরিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াজুল হক মিল্কী ও যুগ্ম সম্পাদক জাহিদ সিদ্দিকী তারেক। ২০১৩ সালের ৩০ জুলাই গুলশানে গুলিতে নিহত হন মিল্কী। পরে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন মিল্কী হত্যা মামলার আসামি তারেক।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ