প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ক্যাসিনো, অন্ধকার জগতের এক আলো আধাঁরির খেলা

রমাপ্রসাদ বাবু : বাইরে থেকে সবকিছুই পরিপাটি। সুন্দর করে লেখা ক্লাবের সাইনবোর্ড। এলইডি বাতির সাধারণ আলোয় উজ্জ্বল প্রবেশদ্বার। যেমন থাকে সব অফিস বা কার্যালয়। তবে যত রাত বাড়ে ভেতরের আলোও তত বেশি রঙিন হয়ে ওঠে। এখানে নানা রঙের আলোর সমাহার। প্রবেশের পথ যেমন সহজ, তেতরের পথ তেমনই জটিল। একবার কেউ এ রঙিন আলোয় প্রবেশ করলে আর বেরুতে পারে না। ধোঁয়া ওঠা নেশায় হারিয়ে যায় তার স্বপ্ন। আবার কেউ আরো বড় হতে চেয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ে। বুধবার রাতে র‌্যাব অভিযান চালায় রাজধানীর গুলিস্তানের পীর ইয়ামেনী মার্কেট সংলগ্ন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্রের ক্যাসিনোতে। এখান থেকে ৪০ জনকে আটক করা হয়। এ অবৈধ ক্যাসিনো থেকে নতুন ধরনের মাদক, মদ, নগদ অর্থ, কষ্টি পাথরের মূর্তি ও ক্যাসিনোর নানা সামগ্রি জব্দ করা হয়। আটক সবাইকে ছয় মাস করে কারাদণ্ড দিয়েছেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরে সেটি সিলগালা করে দেয়া হয়। এর আগে মতিঝিলে ঢাকা ওয়ার্ল্ডাস ক্লাব ও ইয়ংমেনস ক্লাব এবং বনানীতে গোল্ডেন ঢাকা ক্লাবে অভিযান চালায় র‌্যাব।

১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্র দেশের খেলাধুলার ক্ষেত্রে যেখানে অবদান রাখার কথা, সেখানে ব্যবহৃত হচ্ছে নিষিদ্ধ কাজে। যে আদর্শিক জায়গা থেকে গঠিত হয়েছিল এ ক্লাবটি সেখানে আদর্শের ছিটাফোটাও নেই। উল্টো ক্যাসিনো ও মাদকের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। ক্যাসিনোর পরিচালকের কক্ষে টানানো হয়েছে রাজনৈতিক নেতাদের ছবি। ক্লাবে রয়েছে জুয়ার বোর্ড। এরমধ্যে দু’টি কক্ষে রয়েছে ভিআইপিদের জন্য আলাদা দুটি বোর্ড। ছোট সারি সারি কক্ষ।

এছাড়াও অভিযানের সময় চোখে পড়ে নানা বিচিত্র কর্মকাণ্ড। এখানকার দৃশ্যপট দেখলে যে কারো মনে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের ছবি রয়েছে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্রে। ক্লাবের প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশ করলেই নামাজের ঘর। পাশাপাশি রয়েছে ভিন্নমতের পীরের ছবি ও আলাদা কক্ষ। চাইলে এখানে কেউ নামাজ পড়তে পারেন। ক্লাব থেকে আটককৃতরা জানান, জুয়া খেলায় সফল বা ব্যর্থ হয়ে কেউ কেউ প্রার্থনায় বসেন। খেলা শুরুর আগে কষ্টি পাথরের মূর্তি ছুঁয়ে নিতেন জুয়াড়িরা।

এছাড়াও দেয়ালের সঙ্গে গেঁথে শ্রীকৃষ্ণ ও রাধার আসন বসানো হয়েছে। সামনে রয়েছে ধুপকাঠি ও ঘট। দেয়ালে ঝুলছে লোকনাথ বাবার ছবি। বিপদ থেকে পরিত্রাণ পেতে তাদের শরণাপন্ন হন। দীর্ঘ সময় নিয়ে প্রার্থনা করেন জুয়াড়িরা। খেলায় মনোনিবেশ করাতে এখানে সময় কাটান তারা।

এখন পর্যন্ত ক্যাসিনোর সঠিক ইতিহাস জানা সম্ভব হয়নি। বাংলাদেশে ক্যাসিনো একেবারেই নিষিদ্ধ। সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায় আসে ঢাকায় ৬০টি ক্যাসিনো রয়েছে। ধারণা করা হয়, ভারত উপমহাদেশেই পৃথিবীর প্রথম ক্যাসিনো স্থাপিত হয়। ইউরোপের ইতিহাসে ইতালিতে প্রথম ১৬৩৮ সালে ভেইনস শহরে রিডোট্ট নামে একটি ক্যাসিনো তৈরি করা হয়েছিল। সে সময়কার সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিদের পরামর্শে এটি তৈরি করা হয়। তাদের উদ্দেশ্য ছিল বিভিন্ন কার্নিভালে জুয়াকে নিয়ন্ত্রণ করা। পরে সামাজিক অবক্ষয়ের কথা ভেবে ১৭৭৪ সালে সেটিকে বন্ধ করে দেয়া হয়। ক্যাসিনোতে গ্রাহকরা টাকা দিয়ে নিজের পছন্দ মতো বিভিন্ন খেলার সুযোগ পান। তবে যে যেই বিষয়ে পারদর্শী তিনি সেটিই খেলেন। বিশেষ করে ব্যাকজ্যাক, ভিডিও পকার, ব্রাক্যারেট, ক্রাপ, রুলেট ইত্যাদি খেলে থাকেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ