প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আমরা সবাই আঙুল চুষছি!

সৈয়দ আশফাকুল হক:বাংলাদেশে “ক্যাসিনো! এক বা দুটি নয়, মোট৬০টি ঢাকা শহরে চালু রয়েছে। এটি কোনও অস্থায়ী কর্মসূচি নয়।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেই “ক্যাসিনো” লাস ভেগাসের মতোই বাস্তব এবং চকচকে যেন ঢাকার ‘ক্যাসিনো জগত’।ছিলো জুয়া মেশিন, মদ, এবং প্রতি রাতে কমপক্ষে ১২০ কোটি টাকার লেনদেন হতো।চমকে ওঠার মতো ঘটনা বটে। গত বুধবার আইন প্রয়োগকারী সংস্থা একটি একক ক্র্যাকডাউনের মাধ্যমে এই আন্ডারওয়ার্ল্ডের যেন সন্ধান পায়।শুরু হয় অপারেশন।জানা যায়, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন যুবলীগের কয়েকজন নেতা ওই ক্যাসিনোগুলো চালাচ্ছিলেন।এটি সত্যিই একটি খুব মর্মস্পর্শী ঘটনা, হজম করার জন্য খুব বেশি ঝাঁঝালো। তবুও আমরা যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীকে দেখি “হঠাৎ আবিষ্কার করা” এসব ক্যাসিনো আবিস্কারের পর বলতে,‘

৬০ টি ক্যাসিনো আছে! আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি কি এতোদিন তবে, আঙুল চুষেছেন ?ক্যাসিনো রয়েছে এমন ৬০ টি স্থানে থানাগুলিকে নিয়োজিত কর্তাব্যাক্তিদের গ্রেপ্তার করুন ।গ্রেপ্তার করুন সংশ্লিষ্ট র‌্যাব ও পুলিশদের।’

প্রকৃতপক্ষে, তিনি একটি খুব বৈধ প্রশ্ন ছুড়ে ফেলেছিলেন। আসলেই কি হঠাৎ আবিষ্কার হয়েছিল? আইন প্রয়োগকারীদের পক্ষে কি অবৈধ জয়েন্টগুলির অস্তিত্ব সম্পর্কে কিছুই জানা সম্ভব ছিল না? ২০ টি ইউনিটে বিভক্ত হয়ে ৩৬,০০০ হাজার পুলিশ কর্মী বাহিনী ছিল।ছিল তাদের অগুণতি সোর্স। পুলিশ ধরতে পারে না বা কিছু করতে পারে না –এমন কথা কেউই বিশ্বাস করবেন না। পুলিশ অবশ্যই তাদের যা কিছু চায় তা জানার মতো অবস্থানে রয়েছে।

তারপরে র‌্যাব এবং অসংখ্য গোয়েন্দা সংস্থাগুলি রয়েছে যারা নিরন্তরভাবে সরকারকে সমস্যায় ফেলতে পারে এমন যে কোনও কিছুর উপরে নিয়মিত নজর রাখছেন।সুতরাং, তাদের পক্ষে অন্ধকারে থাকা অসম্ভব। তারা তাদের আঙুল চুষছিল ?

ওমর ফারুক চৌধুরী এই যে কথা বললেন এর কারণ কি?তিনি কি মিথ্যা বলেছেন? তিনি এতদিন পর বলেছেন, এর আগে চুপ ছিলেন কেন?তবে তার স্বার্থে আঘাত আসার পর তিনি জেগে উঠলেন! সরকারের অন্যান্য বিভাগেও নিশ্চয়ই এখনও একই বৃত্তে আঙুল-চোষার কাজ চলছে?

মিডিয়াতে আমরা যে জব্দ করা জুয়া মেশিনটি দেখেছি তা বাংলাদেশে তৈরি করা অসম্ভব বলে মনে হয়েছিল। ক্যাসিনো পরিচালনার জন্য নেপাল ও থাইল্যান্ড সহ চারটি দেশ থেকে প্রশিক্ষিত মহিলাদের আনতে দেখেছি।(প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মহিলা অবশ্যই প্রাসঙ্গিক সরকারী কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে উড়ে এসেছিলেন।) মাদকদ্রব্য বিভাগই বা এতোদিন ঘুমে ছিল কেন?এসব প্রশ্নও সঙ্গতভাবেই উঠে আসবে এখন।

তারপরে, একটি সুস্পষ্ট প্রশ্ন আসে, যুবলীগের কিছু নেতাদের পক্ষে তাদের পৃষ্ঠপোষক, রাজনৈতিক সিনিয়র এবং গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের “ন্যায্য শেয়ার” না দিয়ে এ জাতীয় ব্যবসা চালানো কি সম্ভব?

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আমাদের তাজা স্মৃতি থেকে আমরা জানি এখন যদি “ন্যায্য শেয়ার” না দেওয়া হয় তবে কী ঘটতে পারে। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতাদের “ন্যায্য শেয়ার” না দেওয়া হলে আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ১,৪৪৫ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প থেকে ছাত্রলীগের (বাংলাদেশ ছাত্রলীগ) ১.৬ কোটি টাকার চুক্তি ভেঙে পড়ে।এখানেও, ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃত্বের পরিবর্তনের জন্য প্রধানমন্ত্রী নজর দেওয়ার আগ পর্যন্ত আঙুল চোষাই চলছিল।দেশ যেন আঙুল চুষতেই সক্ষম!

মজার ব্যাপার, আমরা কোনও গুরুতর অন্যায় কাজের বিরুদ্ধে লাল পতাকা তুলতে উত্সাহী নই।মারাত্মক অপরাধ, দুর্নীতি বা ফ্যাসিস্ট শাসনব্যবস্থা দেখে আমাদের চোখ কেবল প্রশস্ত হয়ে যায়, আঙুল উঠে আসে মুখের কাছে।আসে বারবার এবং আমরা কেবল যা করি তা হলো আঙুল চুষি।

অবাক হতে হয়,“ক্যাসিনো” অপারেটররা গত চার বছরে প্রায় ৫৬ টি রিট পিটিশন দায়ের করেছিল এবং আইন নিয়ে কারচুপি করে গোপনীয় ব্যবসা চালাতে সক্ষম হয়। এবং সেখানেও নীরবতা বিরাজ করছিল।হঠাৎ করেই “ক্যাসিনো” নিয়ে মিডিয়াও সরব।মিডিয়াও জানেনি!‘ক্যাসিনো’আবিস্কারের পর মিডিয়াও আবিস্কার করল। স্টোরি বেরুচ্ছে এখন নিয়মিত।তবে এতোদিন? ওমর ফারুক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে যে প্রশ্নটি করেছিলেন,পাঠক ও দর্শকরা ইতোমধ্যে মিডিয়ায় এখন তাকে খুঁজে বেড়াচ্ছেন!হ্যাঁ, আমরা সবাই আমাদের আঙুলই চুষছি। দুঃখের বিষয়, আমরা নিজেরাই নিজেদের সাহায্য করতে এগিয়ে আসি না, এখনও করি না।অনুবাদ:দেবদুলাল মুন্না

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ