প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

যতো দুর্নীতি, যতো কুরাজনীতি- তা যেন এখানে জেঁকে বসেছে

কামরুল হাসান মামুন : আমাদের প্রত্যেকের প্রথম এবং সেরা শিক্ষক আমাদের ‘মা’ এবং তারপর ‘বাবা’! এদের মাধ্যমে আমার কিছু ইন্ট্রিন্সিক আচরণ একদম ডিএনএ মধ্যে লেখা হয় যা অমোচনীয়। এরপর মা-বাবার ধর্মই আমার ধর্ম হয়ে যায়, মা-বাবার খাবারই আমার খাবার হয়ে যায় এবং এভাবে আমাদের অজান্তেই এই ছাপ অমোচনীয় হয়ে যায়। মায়ের হাতের রান্না খেয়ে বড় হতে হতে ওটাই প্রিয় খাবারে পরিণত হয়। এরপর শিক্ষক হিসেবে আসে প্রাইমারি এবং জুনিয়র হাইস্কুলের শিক্ষক। এদের যে কি প্রভাব তা বোধহয় আমাদের নীতি নির্ধারকরা টের পায়নি। পায়নি বলেই এই শিক্ষকদের সমাজের সবচেয়ে অবহেলিত করে রাখা হয়েছে। এরা রাষ্ট্রের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী। অথচ এদের হাতে তুলে দিয়েছি মানুষের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি ঢ়যধংবকে। ৬ থেকে ১৫ বছর বয়সটা হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বয়স। এই সময়টাতে যদি তাদের সামনে মেধাবী মানুষদের শিক্ষক হিসেবে বানিয়ে তাদের সামনে মডেল হিসেবে দাঁড় করতে পারতাম। অথচ এই সময়ের শিক্ষকদের এমন বেতন এবং সম্মান দেয়া হয় যাতে কোনো মেধাবী মানুষ স্বপ্নেও এই পেশায় আসার চিন্তা করে না। সব জায়গায় চেষ্টা করে কোথাও চাকরি না পেয়ে শেষমেশ এই পেশায় আসে। তারপরও অনেক ক্ষেত্রে ঘুষ নিয়ে চাকরিটা নিতে হয়।

তারপর সংসারের টানাপড়নে পড়ে ক্লাসে কম পড়ায় যেন তার কাছে বাসায় বা কোচিং সেন্টারে পড়ার ডিমান্ড তৈরি হয়। এসব কি ছাত্ররা বোঝে না? এই ছাত্ররা কেমন শিক্ষক পেলো? এই ছাত্ররা দেখে এলাকার চেয়ারম্যান-মেম্বার এসে তার শিক্ষকদের অপমান-অপদস্ত করছে। শিক্ষকতা পেশাটা কতো নিকৃষ্ট তা সেই অল্প বয়সেই বুঝে ফেলে। ফলে তাদের ভালো কথাও ছাত্রছাত্রীরা কানে তুলে না। অথচ সভ্য দেশে চেষ্টা করা হয় এই পেশাটিকে এমন উচ্চতায় নিতে যেন মেধাবীরা এই পেশায় আসার স্বপ্ন দেখে এবং আসে। যারা আসে তারা যেন শিক্ষকতা পেশাকে ভালোবেসে আসে। যেন বুঝতে পারে এটা অন্য আট কিংবা দশটা পেশার মতো নয়। এজন্যই এখনো আমাদের অনেকের সেরা শিক্ষকের কথা স্মরণ করলে ওই প্রাইমারি, হাইস্কুল ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় বা কলেজের শিক্ষকদের কথাই বেশি মনে পড়ে। আমার তো আমাদের স্কুলের স্পোর্টস শিক্ষকের কথাও মনে পড়ে। ছাত্রছাত্রীদের এতো ভালোবাসতেন তা এখনো এতো বছর পর মনে পড়লে চোখে জল এসে যায়। আর আজকাল কেমন শিক্ষকদের নিয়োগ দেয়া হয়? আর নিয়োগ দেয়ার পর তাদের সঙ্গে ম্যানেজমেন্ট কমিটির নামে শয়তানগুলো কেমন আচরণ নাযিল হয়? এই ম্যানেজমেন্ট কমিটিগুলোর মধ্যে যেদিন থেকে রাজনীতি ঢুকে গেছে সেইদিন থেকেই স্কুল-কলেজ গেছে।

এরপর আসে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর। এটাকে বলে শেষ পেরেকটা মেরে দেয়া। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যা দেখছি তাহলো একেকটা পেরেক। তারপর এই দেশে শিক্ষা বলে আর কিছু থাকবে না। সরকার যে সত্যি সত্যি শিক্ষার উন্নতি ঘটুক এটা চায় না তার প্রমাণ একদিকে সব স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনীতিকরণ করা আর অন্যদিকে শিক্ষকদের বেতন আর সুযোগ-সুবিধার দিক দিয়ে নাজেহাল করা।  দেখতে পাচ্ছেন না যে সমাজে এখন আর ভালো মানুষ, সৎ মানুষ নেই। মানুষ উৎপাদনের কারখানাকে নষ্ট করে ভালো মানুষ কীভাবে পাবেন? এখনকার শিক্ষকরা খারাপ এই ধোঁয়া তুলে শিক্ষকদের আরও নাজেহাল করলে, শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা আরও কমালে কি শিক্ষার মান বাড়বে? নাকি খারাপ বলে সুযোগ-সুবিধা আরও বাড়িয়ে এর প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে? সিদ্ধান্ত এখন আপনাদের। সময় কিন্তু প্রায় শেষ। মনে হচ্ছে কেউ না কেউ শিক্ষাকে টার্গেট করেছে। যতো দুর্নীতি, যতো কুরাজনীতি যেন এখানে জেঁকে বসেছে। যার ফল আমাদের চোখের সামনে এখন ফকফকা। তারপরও কারও বোধোদয় হতে দেখছি না। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ