প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

স্কুল ছাত্রীকে অভিযুক্ত ধর্ষকের সাথে জোরপূর্বক বিয়ে দেয়ার অভিযোগ এসআই’র বিরুদ্ধে

লালমনিরহাট প্রতিনিধি : লালমনিরহাট সদর থানার এসআই মাইনুল ইসলামের বিরুদ্ধে ৭ম শ্রেণির এক স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষকের সাথে জোরপূর্বক বিয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। লালমনিরহাট সদর উপজেলার পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের রামদাস সুভারবাড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গত ১৫ সেপ্টেম্বর রংপুর রেঞ্জের পুলিশের ডিআইজি, জেলা পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন মেয়েটির বাবা।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, একই ইউনিয়নের প্রতিবেশী উমাপতি হরনারায়ণ গ্রামের আফজাল হোসেনের ছেলে শাহিন আলম (২৫) এর কাছে প্রাইভেট পড়তো মেয়েটি। সেই সুবাদে তাকে প্রেমের জালে আটকে ফেলে শাহিন। একপর্যায়ে তার সঙ্গে শারীরিক মেলামেশা করে এবং গর্ভধারণের ঘটনা ঘটায়। গত ২৫ জুলাই মেয়েটিকে শহরের একটি ক্লিনিকে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষন করে শাহিন। এরপর মেয়েটির গর্ভপাত ঘটলে বিষয়টি জানাজানি হয় এবং গ্রাম্য সালিশের নামে টালবাহানা হওয়ায় গত ১১ আগস্ট লালমনিরহাট সদর থানায় অভিযুক্ত প্রাইভেট শিক্ষক শাহিনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করে মেয়েটির বাবা।

মেয়েটির বাবা জানান, মামলার পর গত ১২ ও ১৪ আগস্ট ২ দিন সদর থানার এসআই মাইনুল ইসলাম মামলাটি তদন্ত করেন। কিন্তু মামলাটি রেকর্ড না করে তিনি অভিযুক্ত আসামির সঙ্গে মিলে যান। এসআই মাইনুল জোরপূর্বক অভিযুক্ত ধর্ষক শাহিনের সঙ্গে আমার মেয়ের বিয়ে দেন। গত ১৭ আগস্ট মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের কাজী শহিদুল ইসলামের অফিসে এ বিয়ে হলেও স্কুলছাত্রীর পরিবারকে বিয়ের কাবিননামা দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন মেয়ের বাবা।

তিনি আরও বলেন, আমার মেয়েকে এখনো ঘরে তুলে নেয়নি শাহিন। উপরন্তু গ্রামে প্রচার করছে সে আমার মেয়েকে ডিভোর্স দিয়েছে। সেদিন পুলিশ যদি মামলা রেকর্ড করে আসামিকে গ্রেপ্তার করতো তাহলে আজকের এই দিনটি আমাকে দেখতে হতো না। আমার মেয়েকে জোরপূর্বক ধর্ষকের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার জন্য পুলিশের এসআই মাইনুল ইসলামই দায়ী।

লালমনিরহাট সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের বিয়ের কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, সদর থানার এসআই মাইনুল এ বিয়ে সম্পর্কে সবকিছু জানে। কী করে স্কুলছাত্রীর বিয়ে হলো এমন প্রশ্ন করলে কাজি তা এড়িয়ে গিয়ে মোবাইলফোন বন্ধ করে রাখেন।

অভিযুক্ত লালমনিরহাট সদর থানার এসআই মাইনুল ইসলাম বলেন, তিনি বিষয়টি জানেন না। ফাইলপত্র দেখে বলতে হবে। এর বাইরে আর কিছু বলতে রাজি হননি তিনি।

লালমনিরহাট সদর থানার ওসি মাহফুজ আলম বলেন, বুধবার রাতে আমরা মামলাটি রেকর্ড করেছি আর অভিযুক্ত ধর্ষক শাহিন আলমকে গ্রেপ্তারও করেছি।

লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার এসএম রশিদুল হক জানান, বিষয়টি তদন্ত করতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত শেষে এসআই মাইনুল দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত