প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সমস্যায় জর্জরিত মফিজাবাদ কলোনীর আড়াইহাজার বাসিন্দা

মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা : কুমিল্লা মহানগরীর ২ নং ওয়ার্ডের ফৌজদারী এলাকার অবস্থিত মফিজাবাদ কলোনী। স্থানটিকে অনেকে ক্যাম্প নামেও চিনে। মফিজাবাদ কলোনীতে বর্তমানে দু’শতাধিক পরিবারের অন্তত আড়াই হাজার মানুষ বসবাস করে। এটো ছোট পরিসরে এই স্থানটিতে এত লোকের বসবাসের কারণে নানান সমস্যায় দিনাতিপাত করছে মফিজাবাদের মানুষগুলো। কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন হলেও সিটির তেমন কোন সুবিধা নেই। নেই জেলা প্রশাসনের উল্লেখযোগ্য কোন সুযোগ সুবিধা। এ নিয়ে মফিজাবাদ কলোনীর মানুষদের রয়েছে বিস্তর অভিযোগ।

সরেজমিনে ঘুরে ও মফিজাবাদ কলোনীর বাসিন্দার সাথে কথা বলে জানা যায়, এখানে পানির সমস্যা প্রকট। সিটি কর্পোরেশন থেকে দিনে দু’বার পানি সরবরাহ করা হয়। ভোর রাতে ফজরের আযানের পর থেকে সকাল আটটা পর্যন্ত, আবার দুপুর ১২ টা থেকে বেলা ৩ টা পর্যন্ত। এ সময়ের বাইরে গৃহস্থালী কাজের জন্য পানির প্রয়োজন হলে অন্যর কাছ থেকে ধার করে প্রয়োজন মিটায় মফিজাবাদের বাসিন্দারা। মাঝে মাঝে পানির লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে কিংবা কার আগে কে পানি নিবে এ নিয়ে প্রায়ই স্থানীয়দের মাঝে ছোট খাটো বাকবিতন্ডা লাগেই থাকে।

মফিজাবাদ কলোনীর ড্রেনেজ ব্যবস্থাও একেবারে অপ্রতুল। সিটি কর্পোরেশন থেকে নিয়মিত পরিস্কার পরিচ্ছনতা অভিযান করা হয় না বলে এখানে স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন বাসিন্দারা। গত মঙ্গলবার সকালে মফিজাবাদ কলোনীতে গিয়ে দেখা যায়, সিটি কর্পোরেশনের একটি ট্রাক যেনতেন ভাবেই মফিজাবাদ কলোনীর থেকে ড্রেন থেকে ময়লা আবর্জনা নিয়ে ট্রাকে তুলছে। ট্রাকের পাশ দিয়ে ময়লা গড়িয়ে রাস্তায় পড়ে যাচ্ছে। ময়লার দূর্গন্ধ আশেপাশের বাসিন্দা ঘরে প্রবেশ করে দরজা বন্ধ করতেও দেখা যায়। যার বাইরে ছিলো তারাও নাকে কাপড়গুজে ছিলো। এভাবেই অগোছালোভাবে ময়লা আবর্জনা পরিস্কার করায় তা পরিস্কারের চেয়ে অপরিস্কার ও স্বাস্থ্য ঝুকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। নিরুপায় মফিজাবাদ কলোনীর বাসিন্দারা জানান, পৌরসভা থেকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত হলেও কুমিল্লা মহানগরের মফিজাবাদ কলোনীর বাসিন্দাদের জীবনমানে সরকারি সেবায় উন্নতির ছোঁয়া লাগেনি।

মফিজাবাদ কলোনীর বাসিন্দা মো: আবদুল মান্নান জানান, মফিজাবাদ কলোনীর এক সময় মাদক চোর, সন্ত্রাসের আনাগোনা থাকলেও বর্তমানে মফিজাবাদ কলোনীর এলাকার বাসিন্দাদের সচেতনতা বৃদ্ধির কারণে মাদক, চোর ছিনতাইয়ের আনাগোনা বন্ধ হয়েছে। তবে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, সরকারি সুযোগ সুবিধা নেই বললেই চলে। তাই এখানকার সাধারণ মানুষের জন্য আরো ৭/৮ টি টয়লেট ও শৌচাগার স্থাপন করা খুব জরুরি।

এক সময় মফিজাবাদ উন্নয়ন সংগ নামে একটি সংগঠন থাকলেও বর্তমানে এ সংগঠনটির তেমন কার্যকারিতা নেই। এ সংগঠনটির সভাপতি অন্তর আহমেদ সুমন জানান, আমরা যারা এখানকার বাসিন্দা আমাদের পানির সমস্যা খুবই তীব্র। সকালে আর দুপুরে এখানে দু’বেলা নিয়ম করে পানি সরবরাহ করা হয়। আর দু একটা টিউবওয়েল আছে। পানির মত একটি খুব প্রয়োজনীয় জিনিস টি এখানে খুবই হিসেব মাফিক বলে আড়াই হাজার বাসিন্দার জন্য তা অনেক কষ্টের। আমাদের সবার একটা দাবী সংশ্লিষ্টরা যেনো আরো অন্তত ৫/৬ টি টিউবওয়েল স্থাপন করে হলে ভালো হতো।

শিক্ষার ব্যবস্থা একেবারেই অপ্রতুল। আশেপাশে প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই বেশি। আমাদের মত কম আয়ের মানুষদের জন্য সরকারি স্কুল হলে এখানকার ছোট ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া করতে পারতো। কোন এনজিও এখানে শিক্ষা কার্যক্রম চালায় না। এক সময় একটা এনজিও মফিজাবাদে শিক্ষা কার্যক্রম চালাতো, এখান তাও বন্ধ হয়ে গেছে। তাই মফিজাবাদ কলোনীর সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে শিক্ষার জন্য একটি প্রাথমিক ও একটি মাধ্যমিক স্কুলের খুবই প্রয়োজন বলে মত প্রকাশ করলেন মফিজাবাদ কলোনীর যুবক গোলাম সারোয়ার রানা। তিনি জানান,আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা চিন্তা করে সরকার শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করলে এখানকার মানুষজন উপকৃত হত, দেশ ও সমাজ উপকৃত হতো।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ