প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ছাত্রদলের নেতা বাছাইয়ে ভোটাভুটির প্রস্তুতি মির্জা আব্বাসের বাসায়, রাতেই নির্ধারিত হচ্ছে নতুন নেতৃত্ব

শাহানুজ্জামান টিটু ও শিমুল মাহমুদ : বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন ছাত্রদলের কাউন্সিলের ভোটাভুটির জন্য শাহজাহানপুর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের বাড়িতে কাউন্সিলদের নেওয়া হয়ছে।সেখানেই রাতেই কাউন্সিলরদের ভোটে ছাত্রদলের নতুন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন হবে।এছাড়া ছাত্রদলের নেতৃত্ব নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, রাত ৮টায় ভোট শুরু হবে। রাত ৮টার পর আর কাউকে (ভেতরে) ঢুকতে দেওয়া হবে না। ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃত্ব নির্বাচনে সংগঠনটির ১১৭টি শাখার ৫৩৩ জন নেতা ভোট দেবেন। সভাপতি পদে প্রার্থী ৯জন, সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী ১৯ জন।

ভোট গ্রহণের আগে বিকেল ৪টার দিকে ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীদের সঙ্গে নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৈঠক করেন তারেক রহমান। এসময় সেখানে সাবেক ছাত্রনেতাদের উপস্থিত ছিলেন। এরপর বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে কাউন্সিলদের সঙ্গে বৈঠক করে লন্ডন থেকে স্কাইপিতে যোগদেন তারেক রহমান। প্রায় একঘণ্টার অধিক সময় ধরে চলে এই বৈঠক। এসময় প্রার্থী ও কাউন্সিলদের সঙ্গে এককভাবে কথা বলেন। তাদের মতামত নেন এবং কিছু দিক নিদের্শনা দেন। এরপর শুরু হয় ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি। তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে প্রার্থী ও কাউন্সিলরা গলায় ভোটার নম্বরযুক্ত ৬ষ্ঠ কাউন্সিলের কার্ড ঝুলিয়ে কার্যালয়ে প্রবেশ করেন।

এরআগে গত ১৪ সেপ্টেম্বর ছাত্রদলের ৬ষ্ঠ কাউন্সিলের দিনক্ষণ ঠিক ছিলো। কিন্তু এই কাউন্সিলে বাধ সাধে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক আমান উল্লাহ। ১২ সেপ্টেম্বর ঢাকার আদালতে আবেদন করে। এরপ্রেক্ষিতে জ্যেষ্ঠ সহকারী জজ নুসরাত জাহান কাউন্সিলে অস্থায়ী স্থগিতাদেশ দেন। কাউন্সিলের সব আয়োজন যখন সম্পন্ন ঠিক এই সময়ে কোর্টের এই আদেশ ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে একধরণের শঙ্কা তৈরি হয়। পাল্টে যায় হিসাব নিকাশ। এই পরিস্থিতি থেকে বের হতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলের সিনিয়র নেতা ও ছাত্রদলের কাউন্সিলের দায়িত্বপ্রাপ্তসাবেক ছাত্রনেতাদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেন। এসব আলোচনা থেকে বের হয়ে আসে সিদ্ধান্ত। কাউন্সিলের কৌশল পাল্টে নতুন পথে হাটতে শুরু করেন নেতারা। ১৭ সেপ্টেম্বর ঢাকায় অবস্থানরত কাউন্সিলদের বৈঠক ডাকা হয়। সেখানে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নিয়ে ছাত্রদলের কাউন্সিলরা সর্বময় ক্ষমতা দিয়ে তারেক রহমানকে সংগঠনের অভিভাবকের দায়িত্ব দেয়। ওই দিন রাতে দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে আবারো বৈঠক করেন তিনি। লন্ডন থেকে স্কাইপিতে সংযুক্ত থেকে তারেক রহমান আলোচনা করেন। এরপর তিনি ভিন্ন কৌশলে নেন। রাতেই ৫৩৩ কাউন্সিলকে জানিয়ে দেয়া হয় বুধবার বিকেল ৪টার মধ্যে ঢাকায় অবস্থানের। দলের নির্দেশ পেয়ে কাউন্সিলরা দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে কাউন্সিলরা ঢাকায় অবস্থান নেয়।

সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, মাহমুদুল হাসান বাপ্পি, হাফিজুর রহমান, রিয়াদ মো. তানভীর রেজা রুবেল, মো. এরশাদ খান, মো. ফজলুর রহমান খোকন, এসএম সাজিদ হাসান বাবু ও এবিএম মাহমুদ আলম সরদার।

সাধারণ সম্পাদক পদে মো. জাকিরুল ইসলাম জাকির, মোহাম্মদ কারিমুল হাই (নাঈম), মাজেদুল ইসলাম রুমন, ডালিয়া রহমান, মো. আমিনুর রহমান আমিন, শেখ আবু তাহের, শাহ নাওয়াজ, সাদিকুর রহমান, কে এম সাখাওয়াত হোসাইন, সিরাজুল ইসলাম, মো, ইকবাল হোসেন শ্যামল, মো. জুয়েল হাওলাদার (সাইফ মাহমুদ জুয়েল) মো. হাসান (তানজিল হাসান), মুন্সি আনিসুর রহমান, মো. মিজানুর রহমান শরিফ, শেখ মো. মশিউর রহমান রনি, মোস্তাফিজুর রহমান, সোহেল রানা ও কাজী মাজহারুল ইসলাম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

ছাত্রদলের ভোটাভুটির সর্বশেষ খবর- রাত সাড়ে আটটা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ